

রাজশাহীর পুঠিয়ায় ট্রাক উল্টে নিহতের মরদেহের সঙ্গে পাওয়া গেছে একটি অতিরিক্ত পা। নিহতের নিজের দুই পায়ের পাশাপাশি থাকা এই অতিরিক্ত পাটি কার, তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে নিহতের পরিবার।
নিহত সেন্টু নাটোরের বাসিন্দা। নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করে পুলিশের কাছ থেকে বুঝে নেন। পরে বাড়িতে এনে গোসল করানোর সময় তারা লক্ষ্য করেন, মরদেহের সঙ্গে দুটির পরিবর্তে তিনটি পা রয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হলে জানানো হয়, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রায়হানের একটি বিচ্ছিন্ন পা ভুলবশত সেন্টুর মরদেহের সঙ্গে চলে আসতে পারে।
এ তথ্যের ভিত্তিতে আহত রায়হানের স্বজনরা নাটোরে এসে অতিরিক্ত পা টি পরীক্ষা করে দেখেন। তবে তারা নিশ্চিত করেন, এটি রায়হানের নয়। রায়হান রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার খুঁটিপাড়া এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে। দুর্ঘটনায় তার এক হাতের কবজি ও দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
রায়হানের ভাতিজা অনিক জানান, রায়হানের দুই পা কোমরের নিচ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। একটি পা নাটোরে আছে—এমন খবর পেয়ে তারা সেখানে যান। কিন্তু সেখানে থাকা তিনটি পায়ের একটিও তাদের রোগীর নয়।
তিনি বলেন, রায়হানের জন্মগতভাবে পায়ের আঙুলের মাঝে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ফাঁকা ছিল, অথচ পাওয়া পাগুলোর কোনোটিতেই সে বৈশিষ্ট্য নেই।
এ ঘটনায় নিহত সেন্টুর চাচাতো ভাই কামরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ প্রথমে আমাদের জানিয়েছিল অতিরিক্ত পাটি আহত রায়হানের; কিন্তু তার স্বজনরা এসে তা অস্বীকার করছেন। এখন এই অতিরিক্ত পা নিয়ে আমরা কী করব, সেটাই বুঝতে পারছি না।
এ বিষয়ে পুঠিয়া ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর সরোয়ার হোসাইন বলেন, দুর্ঘটনার সময় একজন গুরুতর আহত ব্যক্তি ছিলেন, যার দুই পা বিচ্ছিন্ন ছিল। তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো সবচেয়ে জরুরি ছিল। ঘটনাস্থলে তীব্র দুর্গন্ধ থাকায় দ্রুত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় অসাবধানতাবশত কোনো মরদেহের সঙ্গে অতিরিক্ত একটি পা চলে যেতে পারে।
পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের পরিবার বর্তমানে গভীর শোকে রয়েছে। আপাতত নিহত সেন্টুর পরিবারকে অতিরিক্ত পাটি সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। দুর্ঘটনায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন। যদি এটি তাদের কারও হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট পরিবার পরে এসে তা শনাক্ত করে নিয়ে যেতে পারবে।
মন্তব্য করুন