

দীর্ঘ আট বছরের বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে উচ্চমানের ভুট্টার একটি বড় চালান বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। ‘এমভি বেলটোকিও’ নামের মাদার ভেসেলটি ওয়াশিংটনের ভ্যাঙ্কুভার বন্দর থেকে যাত্রা করে গত ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে।
বুধবার (০৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে ভুট্টা খালাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০১৮ সালের পর এটিই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আসা ভুট্টার প্রথম চালান।
দীর্ঘ বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভুট্টা আমদানি উপলক্ষে কনফিডেন্স সিমেন্ট ঘাটে ‘দ্য রিটার্ন অব ইউএস কর্ন টু বাংলাদেশ’ শিরোনামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে এরিন কোভার্ট বলেন, ‘২০২৫-২৬ ফসল মৌসুমে এসব ভুট্টা উৎপাদিত হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর আবার যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টা এরো বাংলাদেশে। ভুট্টার মান ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিষয়ে আমরা নিশ্চয়তা দিচ্ছি।’
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ভ্যাংকুভার বন্দর থেকে চালানটি পাঠানো হয়। বাংলাদেশে পশুখাদ্য প্রস্তুতকারকদের প্রাণী পুষ্টির নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চমানের ভুট্টা ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছে এই সরবরাহ। যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসব ভুট্টা রপ্তানি করেছে দেশটির অন্যতম প্রধান শস্য রপ্তানিকারক কোম্পানি ইউনাইটেড গ্রেইন করপোরেশন।
দেশের শীর্ষস্থানীয় পশুখাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নাহার এগ্রো গ্রুপ, প্যারাগন গ্রুপ এবং নারিশ পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড যৌথভাবে ভুট্টাটি আমদানি করেছে। প্রায় ৫৭ হাজার ৮৫৫ টনের এই চালানটি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৪২ লাখ ডলার বা প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা। আমদানিকৃত ভুট্টার মধ্যে নারিশ পোল্ট্রি ২৯ হাজার টন, প্যারাগন গ্রুপ ১৯ হাজার টন এবং নাহার এগ্রো গ্রুপ ১০ হাজার টন সংগ্রহ করবে। পণ্যগুলো চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও নোয়াপাড়া বন্দরে খালাস করা হবে।
শিপিং ও লজিস্টিকস সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে চালানটি পৌঁছাতে প্রায় ৪৬ দিন সময় লেগেছে। আমদানিকারকদের মতে, ভারত থেকে ভুট্টা আনতে ১০-১৫ দিন এবং ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনা থেকে ৩০-৩৫ দিন সময় লাগলেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে লোডিং ও আনলোডিংসহ মোট সময় প্রায় ৬০ দিন পর্যন্ত হতে পারে।
এই চালানে প্রতি টন ভুট্টার আমদানি মূল্য ধরা হয়েছে ২৪৬ মার্কিন ডলার। চট্টগ্রাম বন্দরে ভুট্টার ল্যান্ডিং কস্ট প্রতি কেজিতে আনুমানিক ৩৪ টাকা পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সাধারণত ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও মিয়ানমার থেকে ভুট্টা আমদানি করে থাকে। তবে মার্কিন দূতাবাসের উদ্যোগ ও লোডিং পয়েন্ট ব্যবস্থাপনায় গতি আসায় দীর্ঘ আট বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই বাণিজ্যিক ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আমদানিকারকদের আশা, ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে মার্কিন ভুট্টা আমদানি হলে পশুখাদ্যের গুণগত মান বাড়ার পাশাপাশি বাজারে প্রতিযোগিতাও জোরদার হবে।
আমদানি ও উৎপাদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের ভুট্টার সরবরাহ ছিল প্রায় ৭০ লাখ টন। এর মধ্যে দেশে উৎপাদন হয় ৫৫ লাখ টন। আমদানি হয় ১৪ লাখ ৮৮ হাজার টন। অর্থাৎ চাহিদার ২১ শতাংশ আমদানি হয়েছে গত অর্থবছরে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ভুট্টা আমদানির বড় অংশই আসছে ব্রাজিল থেকে। যেমন ২৪-২৫ অর্থবছরে ৩১ কোটি ৭৪ লাখ ডলার ব্যয়ে ১৪ লাখ ৮৮ হাজার টন ভুট্টা আমদানি হয় বাংলাদেশে। এর মধ্যে ব্রাজিল থেকে আমদানি হয় ৮৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে এই তালিকায় যুক্ত হলো যুক্তরাষ্ট্র।
মন্তব্য করুন