বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৩, ০২:৪৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

নদীগর্ভে বিদ্যালয় ভবন, খোলা মাঠেই চলছে পাঠদান

নদীগর্ভে স্কুল ভবন, খোলা মাঠে টিনের ছাউনির নিচে পাঠদান করছেন এক শিক্ষক। ছবি : কালবেলা
নদীগর্ভে স্কুল ভবন, খোলা মাঠে টিনের ছাউনির নিচে পাঠদান করছেন এক শিক্ষক। ছবি : কালবেলা

যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার মেহেরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবন নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে ওই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়ার হাত রক্ষা করতে খোলা মাঠে টিনের ছাউনি তুলে পাঠদান কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করলেও হালকা ঝড়-বৃষ্টি হলেই তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

সরজমিনে দেখা যায়, বেলকুচি উপজেলার বড়ধূল ইউনিয়নের মেহের নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীর ২০০ মিটার অদূরে একটি খোলা মাঠের ভিতরের টিন দিয়ে একটি ছাউনি তুলে ভগ্নদশা অবস্থায় শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। সেখানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মত নেই কোনো ব্যবস্থা। নামমাত্র শিক্ষা কার্যক্রম সচল রয়েছে। নেই সেখানে ক্লাসের ব্যবস্থা।

স্কুলের শিক্ষার্থীরা জানায়, নদীতে স্কুলের ভবন ভেঙে যাওয়ার পর তাদের পড়াশোনা করার জন্য যে ধরনের পরিবেশ থাকা দরকার, তা এখন আর নেই। খোলা মাঠের ভিতর একটা ছাউনির নিচে বসে তাদের ক্লাস করতে হচ্ছে। আবার ক্লাস করার জন্য যে ধরনের পরিবেশ থাকা দরকার তা তাদের নেই বলে। এতে করে তাদের স্কুলে আসার প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে। অভিভাবকরা জানান, ছেলে মেয়েদের পড়াশোনার জন্য যে ধরনের পরিবেশ থাকা দরকার তা এখানে নেই। প্রধান শিক্ষক টিনের ছাউনি তুলে ২ থেকে ৪ জন ছেলে মেয়ে নিয়ে বসে থাকে। এভাবে কোনমতেই শিক্ষা কার্যক্রম চলতে পারে না। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের এলাকার ছেলে মেয়েরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি জানায়, স্কুলটি ভেঙে যাওয়ার পর আমি বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছি। তারা যদি কোমলমতি শিশুদের কথা চিন্তা করে দূত ব্যবস্থা নেন। তাহলে এ এলাকার ছেলে মেয়েরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে না। তাছাড়া এই পরিবেশ কোনদিনই শিক্ষা কার্যক্রম চলতে পারে না।

মেহেরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ভাঙনের পর থেকে খোলা মাঠে ছাউনি তুলে আমরা শিক্ষা কার্যক্রম চালু রেখেছি। তবে শিক্ষার জন্য যে পরিবেশ থাকা দরকার তা এখানে নেই।

আর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানায়, চলতি বর্ষা মৌসুমে বেলকুচি উপজেলার বড়ধূল ইউনিয়নের দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভেঙে নদীগর্ভে চলে গেছে। আমরা ওই দুটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা যেন ঝড়ে না পরে এজন্য অস্থায়ীভাবে ছাউনি তুলে শিক্ষকদের শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে বলেছি। আর পাশাপাশি আমরা উর্ধতন কর্মকর্তাকে স্কুল সম্পর্ক জানিয়েছি। একটি ফান্ডের আশা করছি। ফান্ডটি পেলে খুব দুত আমরা ওই স্কুল দুটিতে শিক্ষার পরিবেশ ফিরে আনতে পারবো।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মীর শাহে আলমকে বিতর্কিত করে প্রধানমন্ত্রীকে টার্গেট করা হচ্ছে: রাশেদ খাঁন 

টিকটকের গাইডলাইনের ফাঁদে বাংলাদেশ, মুছে গেল ১ কোটি ৩২ লাখের বেশি ভিডিও

বিশ্বকাপে মিশরের বিতর্কিত হারের পর মরক্কোর সংহতি, ভাইরাল এক্স পোস্ট

কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

ইরাক থেকে ইরানে নেওয়া হচ্ছে খামেনির কফিন, আজ দাফন

সমালোচনার মুখে নিজেকে ‘লুকিয়ে’ ফেললেন আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের রেফারি

ট্রলারডুবির তিন দিন পরও নিখোঁজ ৬ জেলে

স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন, ভরিতে কমলো কত?

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা

মোহাম্মদপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ গ্রেপ্তার ৭

১০

যে ৫ অভ্যাস বদলে দিতে পারে পুরো দিন

১১

স্টারমারকে তাজা গুলিসহ রিভলভার উপহার দিলেন এরদোয়ান

১২

প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ আজ, দেখবেন যেভাবে

১৩

জাকসুর উদ্যোগে জাবিতে এক হাজার ফলদ-ঔষধি গাছ বিতরণ

১৪

ভূমিকম্পে নিহতের সর্বশেষ সংখ্যা জানাল ভেনিজুয়েলা সরকার

১৫

বদলির নির্দেশের দুই মাস পরও একই কর্মস্থলে পিআইও

১৬

সংবিধানে ফিরছে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা

১৭

রাজধানীর যেসব এলাকায় বসছে আরও ২০০ এআই ক্যামেরা

১৮

একযোগে কুয়েত ও বাহরাইনে হামলা চালাল ইরান

১৯

চমক নিয়ে জুলাইয়ে আসছে একগুচ্ছ নতুন স্মার্টফোন

২০
X