বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৩, ০২:৪৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

নদীগর্ভে বিদ্যালয় ভবন, খোলা মাঠেই চলছে পাঠদান

নদীগর্ভে স্কুল ভবন, খোলা মাঠে টিনের ছাউনির নিচে পাঠদান করছেন এক শিক্ষক। ছবি : কালবেলা
নদীগর্ভে স্কুল ভবন, খোলা মাঠে টিনের ছাউনির নিচে পাঠদান করছেন এক শিক্ষক। ছবি : কালবেলা

যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার মেহেরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবন নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে ওই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়ার হাত রক্ষা করতে খোলা মাঠে টিনের ছাউনি তুলে পাঠদান কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করলেও হালকা ঝড়-বৃষ্টি হলেই তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

সরজমিনে দেখা যায়, বেলকুচি উপজেলার বড়ধূল ইউনিয়নের মেহের নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীর ২০০ মিটার অদূরে একটি খোলা মাঠের ভিতরের টিন দিয়ে একটি ছাউনি তুলে ভগ্নদশা অবস্থায় শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। সেখানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মত নেই কোনো ব্যবস্থা। নামমাত্র শিক্ষা কার্যক্রম সচল রয়েছে। নেই সেখানে ক্লাসের ব্যবস্থা।

স্কুলের শিক্ষার্থীরা জানায়, নদীতে স্কুলের ভবন ভেঙে যাওয়ার পর তাদের পড়াশোনা করার জন্য যে ধরনের পরিবেশ থাকা দরকার, তা এখন আর নেই। খোলা মাঠের ভিতর একটা ছাউনির নিচে বসে তাদের ক্লাস করতে হচ্ছে। আবার ক্লাস করার জন্য যে ধরনের পরিবেশ থাকা দরকার তা তাদের নেই বলে। এতে করে তাদের স্কুলে আসার প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে। অভিভাবকরা জানান, ছেলে মেয়েদের পড়াশোনার জন্য যে ধরনের পরিবেশ থাকা দরকার তা এখানে নেই। প্রধান শিক্ষক টিনের ছাউনি তুলে ২ থেকে ৪ জন ছেলে মেয়ে নিয়ে বসে থাকে। এভাবে কোনমতেই শিক্ষা কার্যক্রম চলতে পারে না। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের এলাকার ছেলে মেয়েরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি জানায়, স্কুলটি ভেঙে যাওয়ার পর আমি বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছি। তারা যদি কোমলমতি শিশুদের কথা চিন্তা করে দূত ব্যবস্থা নেন। তাহলে এ এলাকার ছেলে মেয়েরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে না। তাছাড়া এই পরিবেশ কোনদিনই শিক্ষা কার্যক্রম চলতে পারে না।

মেহেরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ভাঙনের পর থেকে খোলা মাঠে ছাউনি তুলে আমরা শিক্ষা কার্যক্রম চালু রেখেছি। তবে শিক্ষার জন্য যে পরিবেশ থাকা দরকার তা এখানে নেই।

আর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানায়, চলতি বর্ষা মৌসুমে বেলকুচি উপজেলার বড়ধূল ইউনিয়নের দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভেঙে নদীগর্ভে চলে গেছে। আমরা ওই দুটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা যেন ঝড়ে না পরে এজন্য অস্থায়ীভাবে ছাউনি তুলে শিক্ষকদের শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে বলেছি। আর পাশাপাশি আমরা উর্ধতন কর্মকর্তাকে স্কুল সম্পর্ক জানিয়েছি। একটি ফান্ডের আশা করছি। ফান্ডটি পেলে খুব দুত আমরা ওই স্কুল দুটিতে শিক্ষার পরিবেশ ফিরে আনতে পারবো।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাজারে নতুন রেকর্ডে স্বর্ণের দাম, অপরিবর্তিত রুপা

গাজায় ‘শান্তি পর্ষদে’ দুই নেতাকে পাশে চান ট্রাম্প

বন্দর চুক্তি: বন্ধ হোক অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক

ঢাকার কুয়াশা নিয়ে আবহাওয়া অফিসের বার্তা

বিএনপির দুই উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা

ঘরে বসেই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ৬ সহজ উপায়

কিছু মানুষ কেন ক্ষুধা পেলে রেগে যান

১৮ জানুয়ারি : আজকের নামাজের সময়সূচি

বিএনপিতে যোগ দিলেন শতাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বী

টিভিতে আজকের যত খেলা

১০

উত্তর সিরিয়ায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

১১

প্রথমবার এলএনজি রপ্তানির চুক্তি করল ভেনেজুয়েলা

১২

ইরানে নতুন নেতৃত্ব দরকার : ট্রাম্প

১৩

১৮ জানুয়ারি : কী ঘটেছিল ইতিহাসের এই দিনে

১৪

যৌথবাহিনীর অভিযানে জামায়াতের সাবেক নেতাসহ আটক ২

১৫

সফল হতে নাশতার আগেই যেসব কাজ করবেন

১৬

ইবনে সিনায় চাকরির সুযোগ

১৭

রোববার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ

১৮

টানা ৩ দিন ৭ ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

১৯

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম

২০
X