সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৩, ০২:২১ পিএম
আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৩, ০৩:০৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, উপড়ে পড়েছে গাছপালা। ছবি : কালবেলা
টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, উপড়ে পড়েছে গাছপালা। ছবি : কালবেলা

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের ফলে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বাড়িঘরে পানি ওঠায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শহরের নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী অধিবাসীরা। একইসঙ্গে বৃষ্টির কারণে বিপাকে পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষ। বিশেষ করে দৈনন্দিন উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল দরিদ্র পরিবারগুলো কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। বৃষ্টির কারণে উপার্জন বন্ধ থাকায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

এদিকে বৃষ্টিতে আগাম শীতকালীন সবজির ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি বিভাগ। বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়লে আমন ধানের ক্ষতি হবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। অন্যদিকে, মানুষের উপস্থিতি কম থাকায় বেচাকেনা কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সাতক্ষীরা পৌরসভাসহ সদর উপজেলার ধুলিহর, ব্রহ্মরাজপুর, লাবসা, ফিংড়ি, বল্লী, ঝাউডাঙ্গাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অধিকাংশ নিম্নাঞ্চলের বিলগুলোতে রোপা আমন পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। বেশকিছু মাছের ঘের ও পুকুর ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে বেশ কিছু এলাকার ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এসব এলাকার মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব ও জেলা গণফোরামের সভাপতি আলীনুর খান বাবুল জানান, টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে পৌর এলাকার কামালনগর, ইটাগাছা, পলাশপোল, বাঁকাল, খড়িবিলা, বদ্দিপুর কলোনিসহ পৌরসভার বিভিন্ন স্থানের নিম্নাঞ্চল। পানি অপসারণের কোনো পথ না থাকায় বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে পৌরসভার এসব নিম্নাঞ্চল। পানিতে ভেসে গেছে বেশকিছু মাছের ঘের ও পুকুর। নিমজ্জিত হয়েছে নিম্নাঞ্চলের বেশকিছু ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট।

তিনি আরও জানান, নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে পানি অপসারণের দাবিতে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে।

শহরের মুনজিতপুর এলাকার ভ্যানচালক ওয়াজেদ আলী জানান, রোজগার করতে না পারলে সংসার চলে না। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ভ্যান নিয়ে শহরে বের হলেও কেউ ভ্যানে উঠেনি। ফলে খালি হাতেই বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। বৃষ্টি হলে যাত্রীরা কেউ ভ্যানে উঠতে চান না। সকলেই ইজিবাইকে ওঠেন। বৃষ্টির কারণে আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। শুক্রবার সারাদিন বৃষ্টি না হওয়ায় কিছু টাকা রোজগার করেত পেরেছি। বৃষ্টি আবার হলে সংসার চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে।

দিন মজুর সাহেব আলী বলেন, প্রতিদিন সকালে সাতক্ষীরা শহরের পাকাপুলের মোড়ে গিয়ে কাজের জন্য বসে থাকি। সেখান থেকে কাজের চুক্তিতে কাজ করি জীবিকা নির্বাহ করি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে গত কয়েক দিন ধরে কেউ কাজে নিতে আসছেন না। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছি আমরা। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তালার নগরঘাটা গ্রামের টমেটো চাষি রবিউল ইসলাম রবি জানান, আমি পাঁচ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করে থাকি। সারা বছর ওই একটা সবজি চাষ করে আমার সংসার চালয়ে কয়েক লাখ টাকা উদ্বৃত্ত থাকে। কিছুদিন আগে থেকে টমেটো তুলে সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড়বাজারের আড়তে আনতে শুরু করেছি। ভালো দাম ও পাচ্ছিলাম। কিন্তু গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে টমেটো ক্ষেতের বেশ ক্ষতি হয়েছে। গাছেই অনেক টমেটো পচে যাচ্ছে। ফলে এবার আমাকে লোকসানের মুখে পড়তে হতে পারে বলে ধারণা করছি।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, অন্য বছরের তুলনায় এবারও অক্টোবর মাসের শুরতেই বৃষ্টির পরিমাণ বেশি। বৃষ্টির কারণে এবার শীতকালীন ফসল ভালো হবে না। তবে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়লে আমন ধানেরও বেশ ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন বলেন, গত ৪ দিনে সাতক্ষীরায় ৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে শনিবার (৭ অক্টোবর) থেকে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হতে পারে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শিবগঞ্জ ও মোকামতলায় দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

রাজধানীতে গুলিবিদ্ধ যুবদল কর্মীর মৃত্যু, আহত আরও ৩

আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন সাতক্ষীরার এমপি খালেক

ভুলের জন্য নাহিদ ইসলামদের উচিত দুঃখপ্রকাশ করা: রাশেদ খাঁন

রাজধানীতে যুবদল নেতাসহ গুলিবিদ্ধ ২

সাহাবুদ্দিনসহ যেসব রাষ্ট্রপতি মেয়াদ শেষ করতে পারেননি

শনিবার টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

কয়েল জ্বালাতে গিয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, দগ্ধ শ্রমিক দম্পতি

পেয়ারা পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

ঝাঁকড়া চুলের হৃদয়বিদারক গল্প শোনালেন স্পেনের ডিফেন্ডার

১০

এমপির ইমামতি নিয়ে মসজিদে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের হাতাহাতি

১১

মেসির অবসর ও বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে এবার মুখ খুললেন ডি মারিয়া

১২

‘জালালাবাদ গোল্ড অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন জবির কাওছার

১৩

নতুন কোচের নাম ঘোষণা করল বেলজিয়াম

১৪

১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষা ফের দেওয়ার সুযোগ, অংশ নিতে পারবেন যারা

১৫

ফ্যাসিস্টের দোসর চুপ্পুকে গ্রেপ্তার করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

১৬

ইরানের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন নিষেধাজ্ঞা

১৭

বিশ্বকাপের যে ব্যতিক্রম তালিকায় সবার উপরে এমবাপ্পে

১৮

রাশিয়া-চীনকে ইরানে অস্ত্র সরবরাহ না করার হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প

১৯

মেসির বিদায় হবে আর্জেন্টিনায়, পরিকল্পনায় ‘বিশেষ’ ম্যাচ

২০
X