বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০২৩, ০৬:১৭ পিএম
আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২৩, ১১:০২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

শখের বশে গোখরা পালছেন চা দোকানি

গোখরা সাপ নিয়ে খেলছেন মজিবুল হক। ছবি : কালবেলা
গোখরা সাপ নিয়ে খেলছেন মজিবুল হক। ছবি : কালবেলা

বরিশালে ৫ দিন ধরে গোখরা সাপ পালন করছেন নগরীর এক চা বিক্রেতা। মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) নগরীর রুপাতলী এলাকায় মোল্লা বাড়ির রান্না ঘর থেকে গোখরা সাপটি ধরা হয়।

চা বিক্রেতা মজিবুল হক জানান, রুপাতলীর মোল্লা বাড়িতে সুমন মোল্লার রান্না ঘরে লাকড়ির মধ্যে বাচ্চা নিয়ে অবস্থান করছিল সাপটি। খবর পেয়ে তিনি রান্নাঘর থেকে গোখরা সাপটি ধরেছেন। তবে বাচ্চাগুলো অন্যত্র চলে গেছে। সাপটি তিন হাত লম্বা। সাপটি বর্তমানে তার হেফাজতে রয়েছে।

তিনি জানান, নগরীর কালিজিরা অ্যাপোলো হাসপাতাল গলিতে তার চায়ের দোকান রয়েছে। শখের কারণে তিনি সাপ ধরেন। কয়েক দিন পর আবার ছেড়ে দেন। শখের কারণেই এ সাপটি ধরেছেন। শখ মিটে গেলে আবার ছেড়ে দেবেন।

তিনি আরও জানান, সাপটিকে মাছ খাওয়ানো হচ্ছে। মাঝে মাঝে সাপটিকে বের করে রোদে রাখা হচ্ছে। এর আগেও তার ধরা সাপকে নিজেই খাইয়ে দিয়েছেন। সাপ নিজে খায় না। তাকে খাইয়ে দিতে হয়।

সুমন মোল্লা জানান, সাপটি তাদের রান্না ঘরে ডিমে তা দিচ্ছিল। পরে বাচ্চা ফুটেছে। সাপটি দুর্বল থাকায় সহজে ধরা গেছে। পরে সাপটি চা দোকানি মজিবুল হক নিয়ে গেছেন। সাপটি তার হেফাজতে রয়েছে।

উপকূলীয় বনাঞ্চল বরিশালের বন সংরক্ষক মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ খান বলেন, এভাবে বিষধর সাপ পালনের সুযোগ নেই। কোনো ধরনের সাপ পাওয়া গেলে সেক্ষেত্রে বন্যপ্রাণী দমন ইউনিটকে অবগত করতে হবে, তারা এসে সেটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যাবে।

তবে বরিশালে এ বিভাগের কোনো কার্যালয় নেই বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা বলেন, গোখরা দেশের সর্বত্রই দেখা যায়। সাধারণত বসতবাড়ির আশপাশে, ছোট ঝোপঝাড়, ইঁদুরের গর্ত বা পুরাতন ভবন বা ইটের ফাঁকফোকরে সাপটি বাস করে। কিছুটা ধূসর বাদামি বর্ণের এই সাপটি লম্বায় প্রায় দেড় থেকে দুই মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। দ্রুত চলাফেরা ও সাঁতার কাটায় এরা খুবই দক্ষ। সাপটি ব্যাঙ, গিরগিটি, ছোট পাখি ছাড়াও ইঁদুর ও কীটপতঙ্গ খেয়ে কৃষকের উপকার করে, যা কৃষকের শস্যভাণ্ডার পূর্ণ করতে সাহায্য করে। আর এতে খাদ্যশৃঙ্খলেও সুস্থতা থাকে।

তিনি আরও বলেন, সাধারণত বর্ষাকালে (মার্চ থেকে জুলাই) একটি মা সাপ ১২ থেকে ৩০টি ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে বাচ্চা হতে প্রায় ৬০ দিন সময় লাগে। এই সাপের বিষ নিউরোটক্সিন প্রকৃতির, যা দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে ও স্নায়ুতন্ত্রকে অকেজো করে দেয়।

কালবেলা/এনএএস/এমএ
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইনকিলাব মঞ্চের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা, জায়গা পেলেন ওসমান হাদিও

পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে জনসচেতনতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

জয়পুরহাটে সৎ মাকে হত্যায় ৩ জনের যাবজ্জীবন

ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রদলের আংশিক নতুন কমিটি ঘোষণা

‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব রেকর্ড চুরমার করবে সূর্যবংশী’

ভোলায় সাপের কামড়ে জেলের মৃত্যু

বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া ’১৮ সালের সেই ৩২ ডিসি কারা

কাভানের বুটে তিন দেশের পতাকা, বাংলাদেশ ছাড়া বাকি দুই দেশ কারা?

শ্লীলতাহানি থেকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে অভিনেত্রী

মাভাবিপ্রবির ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে রাহাদুল ও জাহিদুল

১০

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক মেলায় বুথ ভাড়া মওকুফের ঘোষণা

১১

আগামী ১২ আগস্ট শুরু হচ্ছে ‘রিহ্যাব সামার ফেয়ার’

১২

রয়টার্সের বিশ্লেষণ / ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা পরীক্ষা করছে ইরান

১৩

১০.৩৯ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেও সেমিফাইনাল হাতছাড়া ইমরানুর রহমানের

১৪

ফুটবল খেলে বাড়ি ফেরার পথে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

১৫

চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (CEIZ)-এর নির্মাণকাজ শুরু

১৬

ইবিতে প্রতারণামূলক ভর্তি তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন

১৭

ধামরাইয়ে পানিতে ডুবে ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু

১৮

জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু সরকার পরিবর্তনের ঘটনা নয়: নাহিদ ইসলাম

১৯

বগুড়ায় বাসের ধাক্কায় কলেজ অধ্যক্ষ নিহত

২০
X