উপকূল প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০২৩, ০২:১৫ এএম
অনলাইন সংস্করণ

ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’ মোকাবিলায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের জরুরি সভা 

জেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক হুমায়ন কবির। ছবি : কালবেলা
জেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক হুমায়ন কবির। ছবি : কালবেলা

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি নিম্মচাপে পরিণত হয়েছে। এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে তা শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’ মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যে জেলার ২৭০ টি আশ্রয়ণকেন্দ্রের পাশাপাশি বিভিন্ন দ্বিতল মসজিদ, পাকা স্থাপনাসহ সহস্রাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বিকল্প আশ্রয়ণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সাতক্ষীরা উপকূলের আশাশুনি, শ্যামনগর ও কালিগঞ্জে বেড়িবাধের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে সংস্কারসহ পর্যাপ্ত জিও বালুর বস্তা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) বিকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক হুমায়ন কবির এ তথ্য জানান।

এ সময় ঘূর্ণিঝড় মিধিলি’র প্রভাবে সাতক্ষীরা উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ৩ থেকে ৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের ঝড়ের পূর্বেই সংকেত অনুযায়ী মানুষকে নিরাপদে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে প্রত্যেক ইউনিয়নে মেডিকেল টিম প্রস্তুতকরণ, পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও খাওয়ার পানি মজুদ রাখা, দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর জন্য ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শ্যামনগর উপজেলায় ২ হাজার ৯৮০ জন এবং আশাশুনি উপজেলায় ১ হাজার ২০ জন সিপিপি সদস্য এবং রেডক্রিসেন্ট ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় শুরু হওয়ার পূর্বে প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ, শিশু ও গর্ভবতী নারীসহ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর এবং শিশু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে উদ্ধারকারী নৌযান হিসেবে স্পিডবোট, প্রয়োজনীয় সংখ্যক ইঞ্জিনচালিত নৌকা/ট্রলার এবং স্থলযান প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সকল উপজেলার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স টিমের সদস্যদের ঝড়ের পর রাস্তায় গাছ পড়লে তা অপসারণে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও কর্মী বাহিনী প্রস্তুত রাখতে হবে বলা হয়েছে। সভায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ, এসএসসি পাসেও আবেদন

ইরানকে চাপে ফেলতে ইইউ ত্রয়ীর নতুন সিদ্ধান্ত

ডিজিটাল মোবাইল জার্নালিজম ডাকসু নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছে : উমামা ফাতেমা 

গাজায় ভয়াবহ ক্ষুধা, মানবিক সুনামির আশঙ্কা

চট্টগ্রাম রেলস্টেশন : স্ক্যানার আছে, ব্যবহার জানা নেই

নতুন যুদ্ধের সতর্কবার্তা ইরানের, ঘরে ঘরে প্রস্তুতির আহ্বান

চাকরি দিচ্ছে ব্যাংক এশিয়া, চলছে অনলাইনে আবেদন

ছোট্ট তিলেই লুকিয়ে থাকে ক্যানসার বীজ? যা বলছেন চিকিৎসক

শুক্রবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ

স্কুল ব্যাগে মিলল ৭ লাখ টাকার জালনোট, গ্রেপ্তার ১

১০

কী ঘটেছিল ইতিহাসের এই দিনে

১১

জুমার দিন মসজিদে এসে যে ৩ কাজ ভুলেও করবেন না

১২

২৯ আগস্ট : আজকের নামাজের সময়সূচি

১৩

যারা অত্যাচার-নির্যাতন করেছে তাদের বিচার হতেই হবে : হুম্মাম কাদের

১৪

স্বাস্থ্য পরামর্শ / চোখের লাল-জ্বালা: এডেনোভাইরাল কনজাঙ্কটিভাইটিসের প্রাদুর্ভাব

১৫

ইতালিতে ‘ও লেভেল’ পরীক্ষায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অভাবনীয় সাফল্য

১৬

সাবেক এমপি বুলবুলের পিএস সিকদার লিটন গ্রেপ্তার

১৭

টাকা না পেয়ে ফুপুকে গলাকেটে হত্যা করল ভাতিজা

১৮

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে নারীদের জন্য বিশেষ কোটা বাতিল 

১৯

আন্তর্জাতিক ফেলোশিপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন ছাত্রদলের ঊর্মি

২০
X