বগুড়ায় ছাত্রলীগ কর্মী আরিফ মণ্ডল হত্যা মামলায় দুই সহোদরসহ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পর তারা ঢাকার কাকরাইল মসজিদে গিয়ে অবস্থান করছিল। সেখান থেকে তাবলিগ জামায়াতের সঙ্গে মিশে আত্মগোপন করার চেষ্টায় ছিল গ্রেপ্তারকৃত তিনজন। এর আগে গ্রেপ্তারকৃত এক আসামিকে ছুরিকাঘাত করেছিল আরিফ। তার প্রতিরোধ নিতেই তারা আরিফকে কুপিয়ে খুন করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে বগুড়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্নিগ্ধ আকতার এই তথ্য জানান। এরই মধ্যে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি হাঁসুয়া ও তিনটি স্টিলের পাইপ উদ্ধার করেছে বলেও জানান তিনি।
গ্রেপ্তার তিনজন হলো- বগুড়া শহরের নিশিন্দারা পূর্ব খাঁপাড়ার মিলু শেখের দুই ছেলে সানমুন শেখ (২৩) ও সাকিব শেখ (১৯) এবং একই এলাকার হাতেম আলী গেদার ছেলে হিমেল শেখ (২৩)। গত মঙ্গলবার বগুড়া সদর থানা পুলিশ ঢাকার কাকরাইল মসজিদে অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে। গত ৭ অক্টোবর ছাত্রলীগ কর্মী আরিফের ভাগ্নে মুহিমের সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া সাকিবের কথাকাটাকাটি হয়। এর জের ধরে আরিফ ওইদিন সাকিবকে ছুরিকাঘাত করে। ওই ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ আরিফকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। ১৮ দিন কারাবান্দি থাকার পর আরিফ জামিনে মুক্ত হয়। এরপর থেকেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে সাকিব ও তার বড় ভাই সানমুন। গত ৫ ডিসেম্বর পূর্ব পরিকল্পনা মতো তারা আরিফের বাড়ি ফেরার সড়কের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থান নেয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই সড়ক দিয়ে আরিফ বাড়ি ফেরার পথে তার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে আত্মগোপন করে তারা।
তিনি আরও বলেন, বুধবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই মামলায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও পুলিশি অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।
মন্তব্য করুন