ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:০৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ব্যাপক ঔষধি গুণে ভরা একটি শাক, অনেকে ভাবেন আগাছা

গিমা শাক। ছবি : কালবেলা
গিমা শাক। ছবি : কালবেলা

দেশের গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে সুপরিচিত এবং জনপ্রিয় একটি শাক ছিল গিমা। এটি বর্তমানে পাওয়া দুষ্কর। নগরায়ণ, ফসলি জমিতে অনিয়ন্ত্রিত কীটনাশকের ব্যবহার, আগাছা নিধনসহ নানা কারণে এর অস্তিত্ব হুমকির মুখে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক ব্যবহার না থাকায় শাকটির সঙ্গে নতুন প্রজন্ম খুব একটা পরিচিত নয়। অনেকে এটিকে আগাছা মনে করে। তাই সারা দেশের মতো কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় কালের বিবর্তনে অস্তিত্ব সংকটে শাকটি। যার ফলে স্থানীয়রা হারাতে বসেছেন পুষ্টিগুণ ও নানা ঔষধি গুণে ভরা এই উদ্ভিদটি। চাষের আওতায় এনে এ উদ্ভিদটি টিকিয়ে রাখার দাবি সচেতন মহলের।

জানা গেছে, গিমা শাক পরিত্যক্ত জমিতেও হয়। আবার রবিশস্যের জমিতে, আলু, রসুন, পেঁয়াজ ইত্যাদির ক্ষেতে জন্মে। যত্ন ছাড়া এই শাক হৃষ্ট-পুষ্টভাবে বেঁচে থাকে। তবে স্যাঁতস্যাঁতে অর্থাৎ কলতলা, পুকুরপাড়ে, নালার পাশে এটি ভালো জন্মে। এর বোটানিকাল নাম Glinus oppositifolius.

প্রবীণরা জানান, গিমা শাক চোখ উঠলে, চোখ দিয়ে পিচুটি পড়লে, এটি সেঁকে নিয়ে তার রস ফোটা ফোটা করে চোখে দিলে চোখের করকরানি কমে যায়। পিচুটি পড়া বন্ধ হয়ে যায়। এটি অম্ল পিত্ত রোগে যাদের বমি হয়, তারা এটির পাতার রস এক চামচ এবং তার সঙ্গে আমলকি ভেজানো জল আধাকাপ মিশিয়ে সকালে খাবেন, এতে অচিরেই বমি করার কষ্ট দূর হবে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য, ফুসফুসের সমস্যা, এসিডিটি, চুলকানি, মাংসপেশি ও হাড়ের ব্যথায় অধিক কার্যকরী। এ ছাড়া এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি।

উপজেলা সদরের বাসিন্দা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ কালবেলাকে বলেন, আমরা ছোটবেলায় আবাদি জমিতে ও রাস্তার পাশে এমনিতেই গিমা শাক জন্মাতে দেখতাম। আমাদের মা-চারিরা শাক হিসেবে রান্না করতেন। সে সময় এত অসুখবিসুখ ছিল না। ফসলি জমিতে অধিক মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারের ফলে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে এই শাকটি।

শাকটির বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউনানি চিকিৎসক ডা. সোহেল রানা কালবেলাকে বলেন, অন্যান্য শাকের মতো গিমা নামক উদ্ভিদটিও একটি শাক। তবে এই শাকের মধ্যে পুষ্টি গুণের পাশাপাশি নানা ঔষধি গুণ রয়েছে। এটি রবি শস্যের মাঠে ও রাস্তার পাশে এবং বাড়ির আঙিনায় জন্মে। তবে সময়ের পরিক্রমায় এই ঔষধি উদ্ভিদটি প্রকৃতি থেকে হারাতে বসেছে। এটিকে বাঁচিয়ে রাখতে সবার সম-প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাসুদ রানা কালবেলাকে বলেন, অনেকেই গিমা শাককে আগাছা ভেবে ভুল করেন। প্রকৃতপক্ষে গিমা শাক নানা পুষ্টিগুণে ভরপুর। এ ছাড়া গিমা শাকের রয়েছে অনেক ঔষধি গুণ। কোষ্ঠকাঠিন্য, পাকস্থলি ও রক্তের অন্যান্য সমস্যা, ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানে সহায়ক ভূমিকা পালন করে গিমা শাক। গিমা শাক খেলে অ্যাসিডিটির প্রকোপ কমে এবং ওজন কমাতেও কার্যকারি ভূমিকা পালন করে। গিমা শাক অন্যান্য সবজির সঙ্গে তরকারি বানিয়ে খাওয়া যায়। এ ছাড়া বড়া বানিয়েও খাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, গিমা শাক প্রাকৃতিকভাবে যেকোনো মাটিতে জন্মে। রাস্তার পাশে, পুকুর পাড়, বিল, রবিশস্যের মাঠে ও ধানক্ষেতের আইলে গিমা শাক জন্মাতে দেখা যায়। নিজ নিজ অবস্থানে থেকে গিমা শাক সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে গিমা শাককে চাষের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যে কারণে সারজিস আলমকে শোকজ

বিএনপি দেশের জনপ্রিয় দল : আমির খসরু

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় গৃহিণীদের নজর ক্রোকারিজ পণ্যে

যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর হাতে দুই বছরের শিশু আটক

নির্বাচনে কারচুপি হলেই কেবল জামায়াত ক্ষমতায় আসবে : হর্ষবর্ধন শ্রিংলা

জামায়াত জোটে যুক্ত হলো আরও ১ দল

চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন তারেক রহমান

তারেক রহমানের সঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির বৈঠক রাতে

প্রস্তুত পলোগ্রাউন্ড, চট্টগ্রামে তারেক রহমান

শিপার্স কাউন্সিল অব বাংলাদেশের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ

১০

জামায়াত জোটে যুক্ত হচ্ছে আরও এক দল?

১১

সুখবর পেলেন বিএনপির এক নেতা

১২

খাদে পড়ে গেল বরযাত্রীসহ বাস

১৩

পদত্যাগ করেছেন বিসিবি পরিচালক ইশতিয়াক সাদেক

১৪

আপনাদের জন্য কাজ করতে চাই, এলাকাবাসীকে ইশরাক

১৫

সেপটিক ট্যাংকে মিলল নিখোঁজ ছাত্রলীগ কর্মীর মরদেহ

১৬

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন তারকা পেসার

১৭

সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার রবিউল আলমের

১৮

আইসিসিকে কড়া বার্তা দিয়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াল পাকিস্তান

১৯

দেশের উন্নয়নে বিএনপির কোনো বিকল্প নেই : আবদুল আউয়াল মিন্টু

২০
X