গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:৩০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

বিনামূল্যে দর্জি প্রশিক্ষণের ফাঁদে নারীরা, টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক

ভুক্তভোগী নারীদের একাংশ। ছবি : কালবেলা
ভুক্তভোগী নারীদের একাংশ। ছবি : কালবেলা

গোপালগঞ্জে দর্জি প্রশিক্ষণের নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতারক চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে নিজেদের টাকা হারিয়েছেন স্থানীয় গৃহবধূ ও স্কুল-কলেজপড়ুয়া তরুণীরা। এ কাজে ভুক্তভোগীদের চোখে ধুলো দিতে একটি বিদ্যালয়কে ব্যবহার করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২১ ডিসেম্বর শহরে মাইকিং করে গৃহবধূ ও স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের দর্জি প্রশিক্ষণ দেওয়ার তথ্য প্রচার করা হয়। প্রতারকরা ঘোষণা করে, আত্মকর্মসংস্থান তৈরি করতে বিনামূল্যে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তবে ১০০ টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এ ঘোষণায় শতাধিক নারী আকৃষ্ট হন। রংধনু স্কুল ও ল্যাবরেটরি বিদ্যালয়ে তাদের ২২ ডিসেম্বর প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করা হয়।

চলতি বছরের ২ জানুয়ারি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান ব্যক্তিদের বিনামূল্যে সেলাই মেশিন পুরস্কার দেওয়ার কথা জানায় তারা।

সে সঙ্গে প্রশিক্ষক এনি ইসলাম সেলাই মেশিন কম দামে দেওয়ার কথা বলে শতাধিক গৃহবধূ ও স্কুল-কলেজপড়ুয়া তরুণীদের কাছ থেকে জনপ্রতি কমপক্ষে তিন হাজার করে টাকা অগ্রিম নেন। এরপরই হঠাৎ আয়োজকরা উধাও হয়ে যান।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ইতি রানিবালা, মানসুরা খানম, নাহিদা খানম, ফাহিমা ইসলাম, সোনিয়া আক্তার ও স্মৃতি খানম বলেন, শহরের মৌলভী পাড়ার ল্যাবটারি স্কুলের নাম ও স্থান ব্যবহার করে ১০০ টাকা রেজিস্ট্রেশনের বিনিময়ে বিনামূল্যে দর্জি প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন দেওয়া হবে বলে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। এতে আকৃষ্ট হয়ে ওই স্কুলে গিয়ে ১০০ টাকার বিনিময়ে আমরা প্রশিক্ষণে ভর্তি হই।

তারা আরও জানান, প্রায় দেড় শতাধিক গৃহিনী ও ছাত্রী এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে। পরে তাদের ভুল বুঝিয়ে প্রতিজনের কাছ থেকে কমপক্ষে তিন হাজার টাকা করে অগ্রিম নেওয়া হয়।

বিষয়টি জানাজানির পরে ভুক্তভোগীরা শহরের রংধনু স্কুল ও ল্যাবরেটরি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে দেখা করেন। পরে এ বিষয়ে রংধনু স্কুলের প্রধান শিক্ষক এম কে আনোয়ার বলেন, খুলনা থেকে একটি এনজিও গ্রুপ গোপালগঞ্জের নারীদের ১০০ টাকার বিনিময়ে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেবে বলে আমাকে জানায় । পরে আমি তাদের স্কুলের একটি কক্ষ ভাড়া দেই। এর বেশি কিছু জানি না।

প্রশিক্ষক এনজিওর নাম ঠিকানা জানতে চাওয়া হলে কালবেলা প্রতিবেদকের এই প্রশ্নের উত্তরটি তিনি এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে ল্যাবটারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, প্রতি বছর আমার স্কুলে এ রকম নারীদের দর্জি প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে এনজিও গ্রুপগুলো। ল্যাবটারি স্কুলের নাম ঠিকানা স্থান ব্যবহার করে শহরের মাইকিং করার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীরা যে অর্থ দিয়েছে এ বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি আমি জানার পরে এনি ইসলাম নামের ওই প্রশিক্ষককে আর আমি খুঁজে পাইনি। তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়। এনজিওর নামটাও আমি ভুলে গেছি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খালেদা জিয়া দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করে গেছেন: মান্নান

বিক্ষোভে নিহতদের সংখ্যা জানাল ইরান

‘আমি একটা পরী’— পরী মণির কড়া জবাব

তারেক রহমানই হবেন আগামীর প্রধানমন্ত্রী : আমান উল্লাহ

ঢামেকে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসককে মারধর

থালা-বাসন ধোয়ার সময় এড়িয়ে চলুন এই ৫ ভুল

আজ থেকে নতুন দামে স্বর্ণ বিক্রি শুরু, ভরি কত

তারেক রহমানের জনসভায় মানুষের ঢল

তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণায় সফরসঙ্গী একঝাঁক ফ্যাসিবাদবিরোধী যোদ্ধা

বিদ্যালয়ে দুর্বৃত্তের আগুন

১০

এবার বিএনপি থেকে বহিষ্কার সাবেক প্রতিমন্ত্রী

১১

নির্বাচনী প্রচারণায় যা যা করতে পারবেন প্রার্থীরা

১২

ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিসে’ যোগ দিচ্ছে যেসব মুসলিম দেশ

১৩

অস্ত্র কেনা ও মজুত নিয়ে আলোচনার ভিডিও ভাইরাল

১৪

শাবিপ্রবি ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

১৫

কেউ মিথ্যা বলছে কিনা বুঝবেন যেভাবে

১৬

আজ কেমন থাকবে ঢাকার আবহাওয়া

১৭

রাজধানীর স্কুলে শিশুশিক্ষার্থীকে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

১৮

জমি নিয়ে বিরোধে ৩ বছরের শিশুকে হত্যা

১৯

পাকিস্তানে তেল-গ্যাসের বিপুল মজুত আবিষ্কার

২০
X