আতিকুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:১১ পিএম
আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:১৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

কোল্ড ইনজুরিতে বোরোর বীজতলা, দুশ্চিন্তায় কৃষক

ঘন কুয়াশায় কোল্ড ইনজুরিতে হলুদ বর্ণ হয়ে গেছে বিজয়পুর এলাকার একটি বীজতলা। ছবি : কালবেলা
ঘন কুয়াশায় কোল্ড ইনজুরিতে হলুদ বর্ণ হয়ে গেছে বিজয়পুর এলাকার একটি বীজতলা। ছবি : কালবেলা

কুমিল্লার কয়েকটি উপজেলায় তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় কোল্ড ইনজুরিতে ক্ষতি হচ্ছে ইরি ও বোরো বীজতলা। চারা হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে, কিছু কিছু জমিতে চারা মারাও যাচ্ছে। কৃষকরা শীত ও কুয়াশার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বীজতলা রক্ষার জন্য বিভিন্ন প্রকার ছত্রাকনাশক ছিটিয়েও ভালো ফল পাচ্ছেন না। এ রকম আবহাওয়া থাকলে এবার কুমিল্লায় বোরোর চারার সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। এমন অবস্থায় কৃষকের কপালে পড়ছে চিন্তার ভাঁজ। কোল্ড ইনজুরি কেটে না উঠলে বাজারে চারার দামও ব্যাপকহারে বেড়ে যাবে।

সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের কৃষক জহির মিয়া বলেন, ব্রি-২৯ জাতের দুই মণ ধানের বীজতলার অর্ধেকই শীত ও ঘন কুয়াশায় মরে গেছে। জানুয়ারির ১ তারিখে আরও ৩০ কেজি ধানের বীজতলা তৈরি করেছি। কিন্তু কুয়াশা কমছে না, তাই দুশ্চিন্তায় আছি।

তুলাতলী গ্রামের কৃষক আবু জাফর জানান, ব্রি-২৮ ও রত্নামালা জাতের এক মণ ধানের বীজতলার অর্ধেকই শীত ও কুয়াশার কারণে মরে গেছে। তিনি বীজতলায় অটোক্রপ কোম্পানির ব্যাভিস্টিন, নোয়িন কোম্পানির স্কোর, আলফা ইউরোর ডুডু, সিনজেনটার থিওভিটসহ বিভিন্ন ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করছেন। কিন্তু তাতে কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এবার হয়তো বীজের অভাবে বোরো ধানের আবাদ করা যাবে না।

গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার সদর দক্ষিণ উপজেলার লোলবাড়ীয়া, চানপুর, তুলাতলী, উনাইশার, দৌলতপুরসহ বিভিন্ন গ্রামঘুরে দেখা গেছে, বোরো মৌসুমের ধান আবাদের জন্য জমি তৈরি করেছেন কৃষকরা। বীজ বপনের পর চারাগুলোও তিন চার ইঞ্চি লম্বা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের আলো না পাওয়ায় চারা হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। কোথাও কোথাও চারা মরতে শুরু করেছে। শীতের কবল থেকে বীজতলা রক্ষা করতে কেউ কেউ পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে দিচ্ছেন। যারা পলিথিন কিনতে পারেননি, তারা খড় দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখছেন।এসব গ্রামের অধিকাংশ কৃষক জানান, পৌষের শেষ সপ্তাহে যেসব বীজতলায় ধানের বীজ বোনা হয়েছিল, সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। তবে পৌষের প্রথম দিকে বপন করা ধান বীজ থেকে জন্মানো কিছু চারা ভালো আছে।

সদর দক্ষিণ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ মৌসুমে উপজেলায় ৩ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে ইরি ও বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য বীজতলা তৈরি করা হয়েছে মোট ৮৭০ হেক্টর। এর মধ্যে স্থানীয় জাতের ৩০, হাইব্রিড ১৩০ ও বোরো উফশী জাতের ৭১০ হেক্টর বীজতলা রয়েছে। ওই বীজতলার চারা দিয়ে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা যাবে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির খান বলেন, প্রকৃতির ওপর কারও হাত নেই। তবে আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি, যাতে রঙিন পলিথিন দিয়ে সন্ধ্যায় বীজতলা ঢেকে রাখে, পরদিন সূর্য না ওঠা পর্যন্ত। আর বীজতলার বেডের ফাঁকা স্থানে পানি রাখতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শীত ও কুয়াশায় বীজতলার ক্ষতি হলেও চারার সংকট হবে না। কারণ, কৃষক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বীজতলা তৈরি করেছেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

একদিনের ব্যবধানে আবারও কমলো স্বর্ণের দাম, ভরি কত

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি, শিক্ষকের গলায় জুতার মালা

মারা গেলেন আওয়ামী লীগের এক নেতা

লেবাননে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল সংযুক্ত আরব আমিরাত

৩০ জুন / কী ঘটেছিল ইতিহাসের এই দিনে

ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম পরিষ্কার করলেন জাপানি সমর্থকরা

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে রায় আজ

ডাচদের হৃদয় ভেঙে শেষ ষোলোয় মরক্কো

শপথ নিতে পারবেন না চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী

পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া রিফাইনারিতে ভয়াবহ আগুন, আহত ১৫

১০

গোপালগঞ্জে ৭ বছরেও শেষ হয়নি মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ

১১

ব্রাজিল কোন কৌশলে জাপানকে হারাল, জানালেন আনচেলত্তি

১২

ঘুমন্ত স্বামীকে বিশেষ কায়দায় হত্যার পর মাটিচাপা দেন স্ত্রী

১৩

পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এগিয়ে ডানপন্থি, বাগড়া বামপন্থিদের

১৪

আজকের স্বর্ণের বাজারদর

১৫

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক

১৬

চোখ উপড়ানো অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার

১৭

যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি মানলেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে ইরান, বললেন পেজেশকিয়ান

১৮

রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১৭.৬ শতাংশ

১৯

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,৭১৯

২০
X