খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলা তরুণীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে অপহরণ করা হয়েছে।
রোববার (২৮ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে হাসপাতালের ওসিসি থেকে ওই তরুণীকে ছাড়পত্র দেওয়া পর তাকে অপহরণ করা হয়। ওই সময় তরুণীকে আইনি সহায়তা দিতে হাসপাতালে গিয়েছিল বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার একটি প্রতিনিধিদল।
সংস্থাটির খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়ক অ্যাড. মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ওসিসির সামনে আগে থেকেই একটি মাইক্রোবাস নিয়ে ১০ থেকে ১২ ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। ওই তরুণী ছাড়পত্র নিয়ে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া হয়েছে। এ সময় আমাদের দলের সদস্যদেরও মারধর করা হয়েছে। সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে রুদাঘরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওহিদুজ্জামান তাদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়েছেন। ওই তরুণী আইনি সহায়তার জন্য থানায় যেতে চেয়েছিলেন, তবে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করা হলো।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে যদি একজন ভিকটিম এসে নিরাপত্তা না পায়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? একজন প্রভাবশালী ধর্ষণ করবে, আর ভিকটিমকে থানা পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এভাবে অপহরণ করে নেওয়া হলো, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ কী?’
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) আওতাধীন এলাকায় অবস্থিত। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কেএমপির উপকমিশনার তাজুল ইসলাম বলেন, আমরা ওই তরুণীকে অপহরণের সংবাদ পেয়েছি। পুলিশের একাধিক ইউনিটকে অ্যালার্ট করা হয়েছে। ওই তরুণীকে অপহরণের সঙ্গে জড়িত সবাইকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে ধর্ষণের ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে স্থানে ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে, সেটা জেলা পুলিশের আওতাধীন এলাকা। তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করবে।
খুলনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসিফ ইকবাল বলেন, ‘আমাদের কাছে এ পর্যন্ত ওই তরুণী বা তার পরিবারের কেউ আসেনি। কেউ একজন অভিযোগ দিলে আমরা তাকে আইনি সহায়তা দিতে বাধ্য।’
শনিবার (২৭ জানুয়ারি) রাত সোয়া ১১টায় ওই নারীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছিল। এর আগে ওইদিন সন্ধ্যায় ডুমুরিয়ার শাহপুরে উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী তরুণী স্থানীয় শাহপুর মধুগ্রাম কলেজের সাবেক ছাত্রী। তার বাড়ি উপজেলার চেচুড়ি গ্রামে।
ভুক্তভোগীর ভাই অভিযোগ করে বলেন, শনিবার রাত ৮টার দিকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে আমার বোনকে ধর্ষণ করে উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদ। তখন আমার বোন বিয়ের দাবি করলে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আমার বোনকে সে তাড়িয়ে দেয়।
তিনি বলেন, মধুগ্রাম কলেজ ও উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কার্যালয় পাশাপাশি অবস্থিত। আমার বোন কলেজের ছাত্রী হওয়ায় চেয়ারম্যানের সাথে পরিচয় হয়। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে কয়েক বছর ধরে তাকে ধর্ষণ করে আসছে। আমার বোন গত ৬ মাস আগে আমাকে ঘটনা খুলে বলে। তবে আমরা সম্মানের ভয়ে কাউকে বলিনি। এখন চেয়ারম্যান বিয়ে করতে রাজি হচ্ছে না, আমার বোনও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাই।
মন্তব্য করুন