নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:৪২ পিএম
আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:৪৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

খতনায় অতিরিক্ত রক্তপাত হওয়া সেই শিশুর চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল। ছবি : কালবেলা
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল। ছবি : কালবেলা

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে হাসপাতালে শিশুর খতনা করার সময় ভুলে বিশেষ অঙ্গের সামনের অংশে বাড়তি কাটায় অতিরিক্ত রক্তপাতের ঘটনা ঘটেছে। এতে অসুস্থ শিশু আল নাহিয়ান তাজবীবের (৭) চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা প্রবাসী আলমগীর হোসেন ওরফে বাদল।

তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের নিকট অভিযোগ করে বলেন, বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা আমাদের ব্যাপক আশ্বাস দিয়ে আমার ছেলে তাজবীরকে উন্নত চিকিৎসা দিতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে নিয়ে আসেন। এখানে বর্তমানে আমার ছেলে আশানুরূপ চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। শুক্রবার সকাল থেকে জ্বরে ছেলের শরীর পুড়ে যাচ্ছে। কিন্তু ডাক্তার একবারের জন্যও তাকে দেখতে আসেনি। হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে, আজ শুক্রবার তাই ডাক্তার আসবে না।

অপরদিকে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বিজয় কুমার দে’কে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সৌরভ ভৌমিকের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. যোবায়েরকে প্রধান করে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

তবে অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার বলেন, আজ (শুক্রবার) বিকেলে হাসপাতালে ডাক্তার সাইফুদ্দিন ওই শিশুকে দেখতে যাবে।

ভুক্তভোগী শিশু আল নাহিয়ান তাজবীব উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের আলমগীর হোসেন বাদলের ছেলে। সে বসুরহাট পৌরসভা এলাকার চাইল্ড কেয়ার স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র।

উল্লেখ্য, বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় ছেলেকে খতনা করাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছেলে নিয়ে যান তার বাবা। এক পর্যায়ে তিনি চিকিৎসকের খোঁজ করলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নৈশ্যপ্রহরীসহ তিনজন শিশুটিকে তার বাবার কাছ থেকে জরুরি বিভাগে নিয়ে নিজেরাই খতনা করাতে থাকেন। এ সময় তিনি আবারও চিকিৎসকের খোঁজ করলে তারা নিজেদের এ বিষয়ে অভিজ্ঞ দাবি করে ছেলের বাবাকে আশ্বস্ত করে সেখান থেকে বের করে দেন। এক পর্যায়ে শিশুটির চিৎকার শুনে তিনি সেখানে গিয়ে দেখেন শিশুর অতিরিক্ত রক্তপাতে সব ভিজে গেছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ক্রাচে ভর দিয়ে পার্টিতে হৃতিক, কী হয়েছে নায়কের পায়ে

গাজার রাফা ক্রসিং খুলে দেবে ইসরায়েল, তবে...

ভয় দেখিয়ে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা ব্যর্থ হবে : আমান

ট্রেনে কাটা পড়ে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

জামায়াতে যোগ দিলেন ইসলামী আন্দোলনের ৫০ নেতাকর্মী

‘রাজাসাব’ ফ্লপ হতেই প্রভাস ভক্তদের রোষানলে নির্মাতা

গভীর রাতে দুই যুবদল নেতার বাড়িতে হামলা ও আগুন

যে কারণে পিছিয়ে গেল তারেক রহমানের রাজশাহী সফর

সঞ্চয়পত্র কেনায় সীমা তুলে দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার : অর্থসচিব

প্রধান উপদেষ্টা / গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিণত হবে নীলফামারীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী হাসপাতাল

১০

‘ঘাড়ের ওপর ছিল ছুরি, দিনে কয়েকবার ধর্ষণ’; নেটফ্লিক্সে এলিজাবেথেরর সেই ৯ মাসের গল্প

১১

দেশ ছাড়েননি বুলবুল, তিনি এখন মিরপুরে

১২

লন্ডনের বাড়িতে বিরাট-অনুষ্কার পূজা

১৩

পাঁচ মনোনয়ন গ্রহণ ও ৯ প্রার্থীকে প্রতীক দিল ইসি

১৪

ফোনের কভার ব্যাবহারের আগে জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

১৫

একটি মানবিক প্রতিবেদন বদলে দিল নূরজাহানের জীবন

১৬

জানুয়ারির ২৪ দিনে যে ৭ ব্যাংকে আসেনি রেমিট্যান্স

১৭

কিংবদন্তির ছেলের বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ

১৮

বিশ্বকাপে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে খেলোয়াড়দের যা জানাল পিসিবি

১৯

দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে সতিনের ঘর হবে: ফরহাদ আজাদ

২০
X