আব্দুর রহিম, জাজিরা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৪, ১০:৩৯ এএম
অনলাইন সংস্করণ

শরীয়তপুরে প্রথমবারের মতো চাষ হচ্ছে মৌরি

নিজের চাষ করা বারি-২ জাতের মৌরি ক্ষেতে জাজিরার জয়নগরের কৃষক মো. সুলাইমান। ছবি : কালবেলা
নিজের চাষ করা বারি-২ জাতের মৌরি ক্ষেতে জাজিরার জয়নগরের কৃষক মো. সুলাইমান। ছবি : কালবেলা

শরীয়তপুরের জাজিরায় এই প্রথমবারের মতো চাষ হচ্ছে মৌরি। প্রথমবারেই ভালো ফলনের সম্ভাবনায় কৃষকের মুখে হাসি। মসলার জগতে ব্যাপক চাহিদা ও ঔষধিগুণ থাকায় এর গুণাগুণের শেষ নেই। উৎপাদন খরচ যেমন কম তেমনি লাভও বেশি। ক্ষেত ভরে এখন মৌরি ফুলের দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য আর ঘ্রাণে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে চারদিক।

মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি প্রদর্শনী হিসেবে ১০ শতক জমিতে বারি-২ মৌরি চাষ করেছেন জাজিরার জয়নগরের কৃষক মো. সুলাইমান।

জানা যায়, সবজির পাশাপাশি সাথি ফসল হিসেবে মৌরি চাষ বেশ লাভজনক। চাহিদা থাকায় অধিক মুনাফার আশায় বিকল্প এই ফসল চাষে আকৃষ্ট হচ্ছেন কৃষক। এই ফসল চাষে অতিরিক্ত মুনাফায় কৃষকের ভাগ্যের চাকা ঘুরবে। এ কারণে জাজিরায় আগামী দিনগুলোতে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠবে এই মৌরি চাষ। এই ফসল পান মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। স্থানীয়ভাবে একে গুয়োমুরিও বলা হয়। এখানে এখন বাণিজ্যিকভাবেই চাষ হচ্ছে এই মৌরি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, শীতের সবজি তোলার পর পতিত জমিতে কৃষক কিছু না কিছু করার চেষ্টা করেন। সে চেষ্টা থেকেই মৌরির চাষ হয়ে আসছে। আলাদাভাবে সার সেচ কিছুই লাগে না। এটিকে বোনাস ফসল হিসেবে নিয়েছেন এখানকার চাষিরা। কারণ, শীত মৌসুমে বাঁধা ও ফুল কপি রোপণ করার পর ক্ষেতে সারিবদ্ধভাবে ফাঁকা করে চারা রোপণ করা হয়। ক্ষেত থেকে কপি তোলার পর ক্ষেতেই গাছ বেড়ে ওঠে। এজন্য বাড়তি সার, সেচ ও কীটনাশক ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় না ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সুগন্ধযুক্ত উচ্চমূল্যের এই মৌরি দৈনন্দিন রান্নার কাজেও ব্যবহার হচ্ছে। পাঁচ ফোঁড়নের এক ফোঁড়ন মৌরি। এতে ঔষধি গুণও বিদ্যমান। পাইকাররা ক্ষেতসহ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে কৃষকদের ফসল বিক্রির জন্য দুশ্চিন্তায় পড়তে হয় না।

মৌরি চাষি মো. সুলাইমান কালবেলাকে বলেন, ঢাকা থেকে ডিপ্লোমা করেছিলাম। ফ্যামিলি নিয়ে ঢাকাতেই থাকতাম। কোনো এক কারণে আমরা দেশে চলে আসি। এর পরে একদিন জাজিরায় কৃষি মেলা হচ্ছিল, তখন সেখানে যোগাযোগ করে ১ কেজি বারি মৌরির বীজ সংগ্রহ করে ১০ শতাংশ জমিতে চাষ করি। উৎপাদন খরচ যেমন কম তেমনি লাভও বেশি। আশা করি ফলন ভালো হবে। ভালো ফলন হলে এর চাষ আরও বাড়াব।

উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, প্রথমবার চাষ হচ্ছে মৌরি। সুগন্ধযুক্ত উচ্চমূল্যের মসলাদার ফসল মৌরি দৈনন্দিন রান্নায় অনেকখানিজুড়ে আছে। পাঁচফোঁড়নের এক ফোঁড়ন মৌরি। বহুগুণে গুণান্বিত এই মসলা। এতে প্রচুর পরিমাণে ঔষধিগুণও বিদ্যমান। বিভিন্ন ধরনের মাছ-মাংসের তরকারি, আচার, পিঠা, নানাধরনের মিষ্টি খাবারে মৌরি ব্যবহৃত হয়। পান মসলা হিসেবেও খুব জনপ্রিয়।

শরীয়তপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক আবুল হোসেন মিয়া কালবেলাকে বলেন, জয়নগর ইউনিয়নের কৃষক মো. সুলাইমান ১০ শতাংশ জমিতে বারি মৌরি চাষ করছেন। মৌরি চাষে কৃষি বিভাগ সার, কীটনাশক, বীজসহ সব ধরনের সহযোগিতা করেছে। আশা করি ফলনও ভালো হবে। ৩ মাস মেয়াদের এ ফসলটি বেলে, বেলে দো-আঁশ মাটিতে ভালো হয়। জমি একটু উঁচু সুনিষ্কাশিত হলে আরও ভালো। মৌরি গাছের পাতা, বীজ, কন্দ, শিকড় কোনো কিছুই ফেলনা নয়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে মৌরির ফল বা বীজ মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ব্যাপক চাহিদা সম্পন্ন মসলা জাতীয় এই ফসলের চাষ বাড়ানো গেলে বিদেশ থেকে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণের দিকে আমরা আগাতে পারব।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নির্বাচনকালীন সহিংসতা রোধে মাজআসের গোলটেবিল আলোচনা সভা

একই গ্রুপে ভারত-পাকিস্তান, বাংলাদেশের সঙ্গে কারা?

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল পাকিস্তান, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

যে দুর্গম এলাকায় র‌্যাবের ওপর হামলা করে সন্ত্রাসীরা

ফের মা হচ্ছেন বুবলী? গুঞ্জনের জবাবে নায়িকার ‘রহস্য’

২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, এনসিপি নেতাসহ আটক ৩

নির্বাচন সুষ্ঠু করার প্রচেষ্টা চলছে : শিল্প উপদেষ্টা

বিমানবন্দর ও গুলশান-বনানীতে হর্ন বাজালেই কঠোর ব্যবস্থা ডিএমপির

চট্টগ্রামকে শিক্ষাবান্ধব নগরী গড়তে মেয়র শিক্ষাবৃত্তি অব্যাহত থাকবে : ডা. শাহাদাত

শাবিপ্রবিতে ছাত্রদল নেতাকে আজীবন বহিষ্কার

১০

কারাগারে গ্যাং সদস্যদের সহিংসতা, জরুরি অবস্থা জারি

১১

চৌদ্দগ্রামে নির্বাচনী অফিস পুড়িয়ে দেওয়ায় ডা. তাহেরের নিন্দা ও প্রতিবাদ 

১২

ফেসবুকে ভাইরাল ছবি নিয়ে ক্ষুব্ধ হাসান মাসুদ

১৩

স্বেচ্ছাসেবক দলে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, একাধিক নেতা পুনর্বহাল

১৪

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াত আমিরের মৃত্যুতে ডা. শফিকুর রহমানের শোক

১৫

দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ শিক্ষার্থী নিহত

১৬

বিএনপিতে যোগ দিলেন এনসিপির ৫০ নেতাকর্মী

১৭

জাবির বরখাস্ত হওয়া নিয়ে যা বললেন এমবাপ্পে

১৮

পূর্ণাঙ্গ পে স্কেল কার্যকরের তারিখ চূড়ান্ত

১৯

সানওয়ে-জেজি হেলথকেয়ারের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর

২০
X