চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার সদর ইউনিয়নে দুই প্রতিবন্ধী শিশু সন্তান নিয়ে ১৫ বছর থেকে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন অসিম ধর। স্ত্রী প্রিয়াংকা ধর গার্মেন্টসে চাকরী করেন। আর স্বামী অসীম ধর দুই প্রতিবন্ধী সন্তানের দেখাশুনা করে। এভাবে ভাড়া বাসাতেই কেটে যায় তাদের ১৫ বছর।
তাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মুজিব বর্ষের উপহারের একটি ঘর দেবেন বলে আশ্বাস দেন এক ইউপি সদস্য। এর জন্য বিভিন্ন দপ্তরের খরচ বাবদ দিতে হবে দুই লাখ টাকা। অসিম ধর স্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে মহাজন থেকে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে দুই লাখ টাকা তুলে দেন ওই ইউপি সদস্যের হাতে।
কিন্তু টাকা দিয়ে ১৫ মাস পার হলেও কপালে জোটেনি আশ্রয়ণের ঘর। আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘর দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার এমন অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাঞ্চন ধরের বিরুদ্ধে।
শুধু অসিম ধর নয়। সুসেন ধর, ববি ধরসহ এভাবে স্থানীয় ১০ থেকে ১৫ জনের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে ইউপি সদস্য কাঞ্চনের বিরুদ্ধে। এখন ঘর ও টাকা ফেরত না দেওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী এসব পরিবার।
ভুক্তভোগীরা সবাই একই ইউনিয়নের স্বপন ধরের বাড়ির বনিকপাড়া ধানপুরা এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় গত ১৯ মার্চ চট্টগ্রাম প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন তারা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়েনের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেতে ভুক্তভোগী ১০ থেকে ১৫ জন ইউপি সদস্য কাঞ্চন ধরের কাছে যান। তখন কাঞ্চন ধর তাদের কাছে প্রতি ঘরের জন্য দুই লাখ টাকা দাবি করেন। এতে ঘর পাওয়ার আশায় সুদে ঋণ নিয়ে কাঞ্চন ধরকে টাকা দেন তারা। এরপর প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ পেরিয়ে গেলেও কোনো ঘর বরাদ্দ না পাওয়ায় ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে ইউপি সদস্য তাদের চেয়ারম্যানের কাছে নিয়ে ঘরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে কাঞ্চন তড়িঘড়ি করে বাড়ির পাশে সরকারি খাস জমি ভরাট করে তাদেরকে বরাদ্দও দেন।
কিন্তু কিছুদিন না যেতেই ওই জমি সরকার দখল মুক্ত করে নিলে অসহায় পরিবারগুলো ইউপি সদস্যের কাছে আবারও টাকা ফেরত দাবি করেন। কিন্তু টাকা ফেরত না দিয়ে গত দেড় বছর ধরে টালবাহানা করছেন কাঞ্চন ধর। ঘর ও টাকা কোনোটিই না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভূমিহীন পরিবারগুলো।
ভুক্তভোগী অসীম ধর বলেন, কাঞ্চন মেম্বার দুই লাখ টাকা করে দাবি করলে আমরা সুদে ঋণ নিয়ে তাকে দেই। টাকা দিয়েও এখনও ঘর পাচ্ছি না। আবার টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না। মোবাইলে এ সংক্রান্ত কথাবার্তার রেকর্ডিং আছে। স্ত্রী প্রিয়াংকা ধর বলেন, আমার দুই প্রতিবন্ধী শিশু নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করছি। গার্মেন্টসে চাকরী করে জমি নিয়ে ঘর করবো সেই সুযোগ নেই। সুদের ওপর টাকা ধার নিয়ে তাকে দিয়েছি। তবুও ঘর পেলাম না, এখন টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। অপর ভুক্তভোগী ববি ধর বলেন, ঘর পাওয়ার কথা স্বামীকে জানালে স্বামী সুদে ঋণ করে টাকা নিয়ে দিয়েছে। এখন আমার সংসার ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ঘর দিতে না পারলে টাকা ফেরত চাই।
তবে ইউপি সদস্য কাঞ্চন ধর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা ভূমিহীন তাই বাড়ির পাশে কিছু খাস জমি মাটি ভরাট করে তাদের দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা করেছিলাম। এই জমি তাদের টাকায় ভরাটও করেছি। আশ্রয়ণ ঘরের জন্য সরকারের কাছে তারা আবেদন করেছিল কিন্তু ঘর না পাওয়ায় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এসব বিষয় আমি ইউপি চেয়ারম্যানকে অবগত করেছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর শুধুমাত্র অসহায় ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দ। ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এসেছে তা অবশ্যই তদন্ত করা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর সঙ্গে জড়িত কেউই পার পাবে না।
মন্তব্য করুন