শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৪, ০৯:৩৫ এএম
অনলাইন সংস্করণ

শ্রীমঙ্গলে করলা চাষ করে লাভবান কৃষক

মাচায় ঝুলছে করলা। ছবি : কালবেলা
মাচায় ঝুলছে করলা। ছবি : কালবেলা

শুধু লাভবান নয়, করলা চাষের মাধ্যমে বদলে গেছে একটি গ্রামের নাম। গ্রামটি এখন মানুষের কাছে ‘করলা গ্রাম’ নামে পরিচিত। মূলত গ্রামটির নাম ‘পাড়ের টং’।

সরেজমিনে দেখা যায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আশিদ্রোন ইউনিয়নের পুরো গ্রামজুড়ে করলার মাঁচা। সবুজ পাতায় ঘেরা এসব মাচার নিচে ঝুলছে করলা। কৃষকরা মাচা থেকে করলা সংগ্রহ করছেন। শুধু তাই নয়, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ গ্রামের করলা পাইকারদের হাত ধরে চলে যাচ্ছে সারা দেশে। গ্রামটির করলা সারাদেশে বেশ চাহিদাও রয়েছে।

এ গ্রামের কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে করলা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। তাইতো প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসেন পাইকাররা। তারাও গ্রামটিকে ‘করলা গ্রাম’ নামেই ডাকেন। তারা এ গ্রাম থেকে করলা ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছেন।

করলা চাষি মুহিবুর রহমান বলেন, সিজন অনুযায়ী টিয়া সুপারের করলা চাষ করে আমরা সবাই লাভবান হয়েছি। বেকারদের কর্মসংস্থানের জায়গা হয়েছে। দেশের চাহিদাও পূরণ হচ্ছে। করলা চাষি নুরুল ইসলাম বলেন, প্রায় ১০ বছর যাবত করলা চাষ করছি। লালতীরের টিয়া সুপার খুব ভালো জাতের করলা। এ করলা চাষ করলে লাভবান হওয়া যায়। কোনো ক্ষতি হয় না। আর এগুলোর ফসলও ভালো। করলার ওজন অনেক ভালো হয়। এবার টিয়া সুপার চাষ করেছি, ফল আসা শুরু হয়েছে। কিছু বিক্রি করেছি, আরও কিছু বিক্রি করা বাকি রয়েছে।

হবিগঞ্জের বাহুবল থেকে আসা পাইকার মো. মাসুক মিয়া বলেন, ঢাকা কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করি। গত বছরের চেয়ে এ বছর ফলন ভালো। বাজার দরও ভালো রয়েছে। রমজান হওয়াতে বর্তমানে দাম কিছুটা কম। রমজান ছাড়া ভালো দামেই বিক্রি হয় করলা। আশাকরি, আরো ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার করলা বিক্রি করতে পারবো। লাল তীর সীড লিমিটেডের ডিভিশনাল ম্যানেজার তাপস চক্রবর্তী জানান, পাড়ের টং গ্রামটি মূলত কৃষি অধ্যুষিত এলাকা। এ গ্রামটিতে কৃষকরা ১০ থেকে ১২ বছর যাবত লাল তীরের হাইব্রিড টিয়া এবং টিয়া সুপার করলা চাষ করছেন। ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে ফলন সংগ্রহ করা যায়। যার জন্য করলা চাষে অতি আগ্রহ এখানকার কৃষক। দূরদূরান্ত থেকে পাইকাররা এখানে ছুটে আসেন এবং বিভিন্ন আড়তদাররা এখানে এসে করলা সংগ্রহ করে সরাসরি ঢাকা ও চট্টগ্রামে নিয়ে যাচ্ছেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মহিউদ্দিন জানান, এ বছর শ্রীমঙ্গল উপজেলায় প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে করলা চাষ করা হয়েছে। এবার প্রায় দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার মতো করলা বিক্রি করা যেতে পারে। করলা চাষ লাভজনক হওয়ায় দিনদিন এর উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মৌসুম এখন আরো দেড় দুইমাস বাকি রয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

স্লুইজ গেটে পড়ে ছিল নারীর মরদেহ

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে রাজনীতি ছাড়লেন যুবদল নেতা  

নতুন পে-স্কেলে বেতন কবে মিলবে?

বাবার জানাজায় থাকছেন না মোজতবা খামেনি

নারীসহ যুবদল নেতা আটক, পদ থেকে বহিষ্কার

সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সংসদে নিয়োগ পেলেন অভিনেত্রী রোজিনা 

অবশেষে ঝড় তুলতে আসছে থালাপতি বিজয়ের শেষ সিনেমা

বৃক্ষরোপণ ও ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় ডিএসসিসির বিশেষ কমিটি

হাম প্রতিরোধ ও সচেতনতা / সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে জাতীয় প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত

শাপলা চত্বর মামলায় আসামি হচ্ছেন ইনু: চিফ প্রসিকিউটর

১০

বন্ধুদের সঙ্গে সাদাপাথরে ঘুরতে এসে নিখোঁজ চিকিৎসক

১১

এলডিসি উত্তরণ ও মান নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামোর সংস্কার / ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতার সত্যিকারের পরীক্ষা

১২

কুয়েতে নির্যাতনের শিকার ৭ নারী গৃহকর্মীকে দেশে ফেরত, সতর্ক করল দূতাবাস

১৩

থাইল্যান্ডে ১১ বছরের শিশুর চালানো পিকআপের ধাক্কায় ৯ ভিক্ষুর মৃত্যু

১৪

প্রতিবন্ধীদের সেবায় এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে সব মন্ত্রণালয়: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

১৫

বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল ও লোডশেডিং নিয়ে জরুরি সভা, এলো যে সিদ্ধান্ত

১৬

নকলের সহায়তায় ২ শিক্ষক অব্যাহতি, এক ছাত্রী বহিষ্কার 

১৭

জবির শিক্ষক-কর্মচারীদের আবাসনে আরও ১০০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি

১৮

মার্কিন তারকা লাল কার্ড দেখতেই ১০ কোটির ফ্রি পিৎজা পেলেন সমর্থকরা! কিন্তু কেন?

১৯

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় চালু হচ্ছে ‘জেএনইউ কুইক রেসপন্স টিম’ পোর্টাল

২০
X