কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৪৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

হাতের ছোঁয়ায় নান্দনিক সামগ্রী

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। ছবি : কালবেলা
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। ছবি : কালবেলা

প্রথমে পুকুর, নদী বা খালবিলের পরিষ্কার এঁটেল মাটি আনা হয়। তারপর মাটি পরিষ্কার করে তা থেকে কণা সরানো হয়। পরে চাকে মাটি দেওয়া হয়। কাঠের তৈরি মাস্তুল ঘুরিয়ে নান্দনিক ডিজাইন করে রোদে শুকাতে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে পোড়ানো হয় আগুনে। এভাবেই তৈরি হয় মাটির বিভিন্ন আকৃতির তৈজসপত্র।

মৃৎশিল্পীরা দিনরাত পরিশ্রম করে নিপুণ হাতে তৈরি করেন মাটির জিনিসপত্র। এক সময় মাটির হাঁড়ি, কলস, থালা, পিঠার ছাঁচ, ধুনচিসহ নানা সামগ্রীর কদর ছিল। সাংসারিক কাজে এসব ব্যবহার হতো। মাটির পাত্রে ভাত রান্না থেকে শুরু করে পানি পান ছিল নিত্যদিনের দৃশ্য।

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কাচ, সিরামিক, অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিক পণ্যের দৌরাত্ম্যে কমেছে মৃৎপণ্যের কদর। তবুও পৈতৃক পেশা ধরে রেখেছেন মৃৎশিল্পীরা। তাদের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় এখনো মাটি থেকে তৈরি হচ্ছে নান্দনিক সামগ্রী।

বৈশাখী মেলা ও উৎসবকে সামনে রেখে মৃৎ শিল্পীরা মাটির সামগ্রী তৈরি কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বৈশাখী মেলায় মাটির জিনিসপত্রের কদর থাকে। কুমার পরিবারের নারী ও পুরুষ সদস্যরা মিলে মাটির এসব জিনিসপত্র তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

লালমনিরহাটে কালীগঞ্জ উপজেলা কাকিনা ইউনিয়নে কুমার পাড়া পাল বাড়িতে বৈশাখীর মেলা ঘিরে তৈরি করছেন হাতি, ঘোড়া, গরু, খরগোস, পাখি, ব্যাংক, পুতুল, ও হাড়ি-পাতিল। হাতে তৈরি এসব কাঁচা মাটির জিনিসপত্র রোদে শুকানো হচ্ছে। পরে আগুনে পুড়িয়ে রং করা হচ্ছে। বাংলা নববর্ষকে ঘিরে নির্ঘুম ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার মৃৎশিল্পীরা।

বিজ্ঞানের অগ্রগতি আর প্রযুক্তির উন্নয়নের যাঁতাকলে নিষ্পেষিত হচ্ছে কুমারদের জীবন। পূর্বপুরুষের পেশার মর্যাদা ও বাঙালির ঐতিহ্য ধরে রাখতে এখনো সংগ্রাম করছেন তারা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শেষ ষোলোতে কানাডা, দক্ষিণ আফ্রিকার বিদায়

ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলা, মৃতদেহে উপচে পড়ছে রাজধানীর মর্গ

প্রথমার্ধে সমতা, টিকে থাকার লড়াইয়ে কানাডা-দক্ষিণ আফ্রিকা

রাতে বাংলাদেশের পর ভারত সীমান্তে ভূমিকম্প

মেসি-রোনালদো নন, ট্রাম্পের চোখে সেরা ব্রাজিলের কিংবদন্তি

দেশে আবারও ভূমিকম্প

১০৫০ দিন পর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারতকে যে লজ্জা দিল আয়ারল্যান্ড

ইতালিতে বাংলাদেশির ১৪ বছরের কারাদণ্ড

রূপায়ণ সিটি উত্তরায় রিহ্যাব নেতাদের পরিদর্শন, মেগা সিটিগুলোতে সরকারের সুদৃষ্টির আহ্বান

ধ্বংসস্তূপের নিচে পাওয়া গেল আর্জেন্টাইন ফুটবলারের স্ত্রী-সন্তানকে

১০

প্রথম ৪ অর্থবছরের কর পরিশোধ করল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি

১১

দেশের চাহিদা মিটিয়ে প্রাণিসম্পদ পণ্য রপ্তানিই সরকারের লক্ষ্য: প্রতিমন্ত্রী টুকু

১২

আনসার-ভিডিপি ক্রীড়াঙ্গনের নির্ভরযোগ্য শক্তি : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

১৩

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ পেলেন বিরোধীদলীয় এমপিরা

১৪

আর্জেন্টিনার তিনটি ম্যাচের ফলাফলই আগে বলে দেন শান্ত

১৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই গ্রামের সংঘর্ষ, নিহত ১

১৬

বাংলাদেশ বুঝতে পেরেছে, ক্ষতিটা ওদেরই হয়েছে: দিলীপ ঘোষ

১৭

হাত বাঁধা, গলায় রশি পেঁচানো নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

১৮

হাবিপ্রবিতে তেঁভাগা আন্দোলনের জনক হাজী মোহাম্মদ দানেশের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

১৯

বিশ্বকাপের পরই বিয়ে করবেন রোনালদো

২০
X