নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৪৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

প্রায় এক বছর ধরে টয়লেটে বন্দি যুবক

উদ্ধার হওয়া সুজিত দাস। ছবি : কালবেলা
উদ্ধার হওয়া সুজিত দাস। ছবি : কালবেলা

বাড়ির পেছনের টয়লেটে আটকে রাখা হয়েছিল সুজিতকে। সেখানেই খাবার দেওয়া হতো তাকে। মা, ভাই এবং ভাইয়ের বউ মিলে নিয়মিত সুজিতের দেখাশোনা করেন। টয়লেটের ভেতরেই বালিশ মাথায় দিয়ে ঘুমায় সে। এভাবেই প্রায় বছরখানেক ধরে আছে সে।

সোমবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে স্থানীয় একজন টয়লেটের নিচের ফাঁকা অংশ দিয়ে দেখতে পান সুজিতকে। পরে তিনি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে সুজিতকে উদ্ধার করে। ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাশিপাড়া এলাকায় ঘটি।

উদ্ধার হওয়া সুজিত দাস (৩৪) কাশিপাড়া এলাকার হরেন্দ্র দাসের ছেলে। উদ্ধারের পর পুলিশ সুজিতকে স্বজনদের মাধ্যমে গোসল করিয়ে ভালো কাপড় পরানো হয়।

নাসিরনগর থানার ওসি সোহাগ রানা জানান, সুজিত মানসিক ভারসাম্যহীন। ৭ থেকে ৮ বছর আগে তিনি তার চাচাকে আঘাত করেন। পরে সেই আঘাতে তার চাচার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর সুজিত জেল খাটে। জেল থেকে বের হয়ে আবার পাগলামি শুরু করে সুজিত। এতে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। কাকে, কখন আবার আঘাত করে এ আতঙ্কে থাকতেন পরিবার।

তিনি আরও জানান, পরিবারের স্বজনরা সুজিতকে অনেক চিকিৎসাও করায়। তাতেও তার কোনো কাজ হয়নি। পরে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের নিরাপত্তা স্বার্থে ছোট্ট একটি রুমে তাকে আটকে রাখে। এই রুমে সুজিত প্রায় ৮ থেকে ৯ মাস আটকা ছিল। সোমবার দুপুরে স্থানীয় একজনের মাধ্যমে খবর পায় পুলিশ। পরে পুলিশ এসে এই রুম থেকে সুজিতকে উদ্ধার করে।

এ ব্যাপারে সুজিতের মা আরুতি রাণী দাস বলেন, মা হয়ে সন্তানকে এভাবে আটকে রাখা খুবই যন্ত্রণাদায়ক ব্যাপার। তবুও সামাজিক ও পারিবারিক সদস্যদের নিরাপত্তার স্বার্থে ওকে আটকে রাখা হয়েছিল। আমরা সুজিতের চিকিৎসার জন্য দীর্ঘদিন প্রচেষ্টা চালিয়েছি। কিন্তু সে ওষুধ গ্রহণের ব্যাপারে কোনোভাবেই আগ্রহী নয়। বরং সে বিভিন্ন সময় হিংস্র ও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। তবে তাকে আটকে রাখাকালীন সময়ে তার খাবার ও পরিচর্যার ক্ষেত্রে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।

কালবেলা/এমএ
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বড় চমকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের দল ঘোষণা

সাতক্ষীরায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাসপাতাল পরিদর্শন, দুই চিকিৎসক ও নিরাপত্তাকর্মীকে বরখাস্ত

নিজ ঘরে যুবককে গলা কেটে হত্যা

ধেয়ে আসছে মৌসুমি নিম্নচাপ, বৃদ্ধি পাচ্ছে বাতাসের গতিবেগ

রাষ্ট্রপতিকে আইনের আওতায় আনা যায় না, এটা ‘ভুল কনসেপ্ট’: আখতার হোসেন 

বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে শ্রমিক হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

দাওয়াতুস সুন্নাহ ও দাওয়াতি কাফেলার উদ্যোগে কক্সবাজারে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

৮০০ একর জমিতে চায়নিজ ইকোনমিক জোন, নতুন দিগন্তের অপেক্ষায় চট্টগ্রাম

‘ইসলামাবাদ সমঝোতা লঙ্ঘনের পর মার্কিন নিহত সেনার সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে’

স্থানীয় নির্বাচনেও কারচুপির চেষ্টা হলে প্রতিহত করা হবে: সেলিম উদ্দিন

১০

১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি, এলজিইডির প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলা

১১

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঠেকানোর চেষ্টা করেনি সরকার: ভারতের অর্থমন্ত্রী

১২

খালে ডুবে প্রাণ গেল নবদম্পতির

১৩

বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যানের সঙ্গে কর্মকর্তাদের মতবিনিময়

১৪

গ্যাস বিস্ফোরণে ঝরে গেল একই পরিবারের ৩ জনের প্রাণ

১৫

সাত মাসের কন্যাকে আছড়ে হত্যার অভিযোগ: বাবা ৩ দিনের রিমান্ডে

১৬

হারানো সিংহাসন ফিরে পেল ভারত

১৭

সুস্পষ্ট লঘুচাপ রূপ নিল নিম্নচাপে, ঝড়-বৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন তথ্য

১৮

কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি ও গবেষণায় সরকারের প্রাধান্য: মাহ্দী আমিন

১৯

জোরপূর্বক স্কুল শিক্ষিকার জমি দখল, থানায় অভিযোগ

২০
X