কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৪, ০১:১১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

লিচু চাষে বিপর্যয়, হতাশায় বাগান মালিকরা

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার একটি বাগানের লিচু। ছবি : কালবেলা
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার একটি বাগানের লিচু। ছবি : কালবেলা

এ মৌসুমে লিচুর প্রতি লোভ নেই এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। টসটসে, রসালো, টইটম্বুর এ ফলের ভালো উৎপাদন হয় মঙ্গলবাড়িয়ায়। গ্রামের নামেই এখানে লিচুর নামকরণ হয়েছে সুদীর্ঘ বছর আগে। লিচু কিনতে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্রেতাদের ভিড় থাকে গ্রামটির রাস্তাঘাটসহ বাড়ির আঙিনায়। প্রতিবছর কয়েক কোটি টাকার লিচু বিক্রি হলেও এবার হতাশ লিচু চাষিরা।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের গাছগুলোতে গত বছরও থোকায় থোকায় ঝুলেছিল লিচু। কিন্তু এবার এর চিত্র পুরো উল্টো। গাছগুলোতে লিচুর দেখা পাওয়া দুষ্কর। এ বছর টানা দাবদাহ ও শিলাবৃষ্টিতে লিচুর উৎপাদন কম হয়েছে। ফলে এবার আশানুরূপ লাভের দেখা মিলবে না বলে শঙ্কা বাগান মালিকদের। এ লিচুটির নির্দিষ্ট কোনো জাত জানা নেই স্থানীয়দের, তাই তো সুদীর্ঘকাল ধরে মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের নামেই নামকরণ হয়, যা এখন দেশবিদেশে মঙ্গলবাড়িয়া লিচু নামে পরিচিত। এ বছর লিচুর ফলন যেমন কম হয়েছে তেমনি গাছে থাকা লিচুগুলোও খরা আর শিলাবৃষ্টির কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। তবুও স্বাদ আর গন্ধে অতুলনীয় হওয়ায় ক্রেতাদের ভিড় রয়েছে লিচু ব্যবসায়ীদের কাছে।

লিচু ক্রেতা শান্ত হোসাইন বলেন, প্রতিবছর এখান থেকে লিচু কিনে নিয়ে যাই। স্বাদ আর গন্ধে অতুলনীয় হওয়ায় এখানকার ব্যবসায়ীরা চড়া দামে লিচু বিক্রি করছেন। এখানে একশ লিচু বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে বারোশ টাকা। গত বছরও যেখানে পাঁচশ থেকে ছয়শ টাকা ছিল, সেখানে দাম দ্বিগুণ বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।

লিচু চাষি আল আমিন বলেন, এ বছর গাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে মুকুল ছিল। কৃষি অফিসের পরামর্শে যত্ন নিয়েছি, কিন্তু তাপমাত্রা ও শিলাবৃষ্টির কারণে ফলন কম হয়েছে। তার মধ্যে যেগুলো গাছে রয়েছে সেখানেও খরায় এক তৃতীয়াংশ লিচু ফেটে গিয়েছে। আমার ৪০টা গাছ। প্রতিবছর দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা বিক্রি হলেও এ বছর সব মিলিয়ে ৭০ হাজার টাকার মতো বিক্রি হয়েছে।

ঈসমাইল হোসাইন বলেন, অন্য সময়ের তুলনায় ফলন কম হয়েছে। ব্যবসায়ীরা অনেক চড়া দামে লিচু ক্রয় করেছে। যার কারণে ভোক্তা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়েছে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ভোক্তাদের ওপর চাপ পড়েছে। আর এ কারণে লিচুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

এলাকার লিচু চাষি ও ব্যবসায়ী রাজীব মিয়া বলেন, সখের বসে একসময় এখানকার সাধারণ মানুষ বাড়ির আঙিনায় লিচু গাছ রোপণ করতেন। এখন লিচু চাষকে বাণিজ্যিকভাবে নিয়েছেন। লাভবান হওয়ায় ধান চাষের জমিগুলো এখন লিচু চাষের আওতায় নিয়ে এসেছে। কারণ ধানের চেয়ে লিচু চাষে লাভ বেশি। প্রতিবছর এখান থেকে লিচু বিক্রি ৫লাখ টাকা মুনাফা পেলেও এ বছর লাভের খাতা শূন্য বড় ধরনের লোকসান পেতে হবে। লিচুর ফলন ভালো না হওয়ায় বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি নেই।

পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর-ই আলম বলেন, চলতি মৌসুমে অতি খরার কারণে লিচুর ফলনে বিপর্যয় হয়েছে। মঙ্গলবাড়ীয়া এলাকায় ছোট-বড় মিলে ৫ হাজারের উপরে লিচু গাছ রয়েছে। প্রতিবছর এ গ্রাম থেকে পাঁচ থেকে সাত কোটি টাকার লিচু বিক্রি হয়। তবে এবার তীব্র দাবদাহের কারণে লিচুর ফলন একেবারেই কম। বলা যায় গতবারের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ ফলন হয়েছে। দাবদাহের শুরুতে আমরা কৃষি অফিস কৃষকদেরকে বিভিন্ন পরামর্শসহ যন্ত্রপাতি দিয়েছি যাতে তারা গাছে পানি দিতে পারে। তারপরেও ফলন একেবারেই কম হয়েছে। এখানকার চাষিদেরকে লিচু চাষে উদ্বুদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসছি। তবে এখানকার ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের কাছে অতিরিক্ত মূল্যে লিচু বিক্রি করছেন।

জানা গেছে, প্রায় দুইশ বছর আগে সুদূর চীন থেকে কোনো এক ব্যক্তি প্রথমে একটি চারা গাছ এনে রোপণ করে মঙ্গলবাড়ীয়া গ্রামে। অধিক ফলন ও রসে টসটসে হওয়ায় এ লিচুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে ওঠে এলাকাবাসী। কিছু দিনের মধ্যেই এ জাতের লিচুর কলম চারা ছড়িয়ে পড়ে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে। লাভজনক হওয়ায় দ্রুতই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে ওঠে গ্রামবাসী। গত বছর এ এলাকা থেকে প্রায় ৭ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হলেও এবার তীব্র দাবদাহে ফলন বিপর্যয় হয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাজারের প্রধান আকর্ষণ কালো পাহাড়

ভাই হারালেন ডিপজল 

সংবর্ধিত হলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীল

সিলেটে পশুর হাটে কমছে না দাম, ক্রেতাদের অপেক্ষা

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করবেন রাষ্ট্রপতি

ধাওয়া দিয়ে মাঝ নদীতে লঞ্চ থামালেন ম্যাজিস্ট্রেট

গাজীপুরে মহাসড়কে যাত্রীদের ঢল, ভোগান্তি চরমে

সিলেটে ১১ ট্রাক চিনি জব্দ

কোপায় ব্রাজিলের খেলা দেখবেন না রোনালদিনহো

বসত ঘর থেকে হ্যাপি গোল্ড ও কিং ফিসার মদ উদ্ধার

১০

মেয়াদ শেষেও বিমার টাকা দিচ্ছে না প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স!

১১

কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির গরু

১২

টঙ দোকানের আয়ে চলছে রতন বেগমের জীবনযুদ্ধ

১৩

উত্তরের মহাসড়কে গাড়ির পেছনে গাড়ি, নেই যানজট

১৪

তাসরিফের চোখে টিউমার ধরা পড়েছে

১৫

যত্রতত্র কোরবানি করে জায়গা নষ্ট না করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

১৬

বিয়ের পর হানিমুনে না গিয়ে হজে গেলেন দম্পতি

১৭

‘হেলমেট নাই, তেল নাই’

১৮

রাস্তায় বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের, হুমকিতে শতাধিক পাকা সড়ক

১৯

ডাকাতি করতে গিয়ে নারীর সঙ্গে খোশ-গল্প, অতঃপর...

২০
X