সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৪, ০৫:২৮ পিএম
আপডেট : ২৬ মে ২০২৪, ০৬:২৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ঝড়ের পূর্বাভাস না পেলে ঘুম ভাঙে না পানি উন্নয়ন বোর্ডের

ঝড়ের পূর্বাভাস না পেলে ঘুম ভাঙে না পানি উন্নয়ন বোর্ডের
বড় আকারের ঢেউ আছড়ে পড়ছে উপকূলের ভঙ্গুর বেড়িবাঁধে। ছবি : কালবেলা

উপকূলীয় সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনিতে প্রবল বৃষ্টি ও দমকা বাতাস শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে স্থানীয় নদ-নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত তিন-চার ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে।

বড় আকারের ঢেউ আছড়ে পড়ছে উপকূলের ভঙ্গুর বেড়িবাঁধে। ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত ঘোষণার পর থেকে উপকূলের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী, মুন্সীগঞ্জ, কৈখালী, রমজাননগর, কাশিমাড়ি ও আটুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব এলাকায় বেড়িবাঁধের বেশকিছু পয়েন্ট অতিঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝড়ের পূর্বাভাস না পেলে ঘুম ভাঙে না পানি উন্নয়ন বোর্ডের। পূর্বাভাস পাওয়ার পর তারা তোড়জোড় শুরু করে।

গাবুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জি এম মাসুদুল আলম বলেন, ঝড়ের নাম শুনলেই আমাদের এলাকার মানুষের প্রাণ কেঁপে ওঠে। প্রায় প্রতি বছরই জলোচ্ছ্বাসের কবলে পড়ে এখানকার মানুষের জানমালের ক্ষতি হয়। তবে পাউবো যে বাঁধ নির্মাণ করে, তা কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে যায়।

তিনি জানান, তার ইউনিয়নে অন্তত ৮টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। এর মধ্যে হরিষখালী, পার্শেমারী, খলষিবুনিয়া, লেবুবুনিয়াসহ ৫টি স্থানে বেড়িবাঁধ জরাজীর্ণ হয়ে আছে।

আটুলিয়া ইউপির চেয়ারম্যান আবু সালেহ বাবু বলেন, আটুলিয়া ইউনিয়নে ৬টি পয়েন্টে পাউবোর বেড়িবাঁধ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে বিড়ালক্ষ্মীতে ৩টি, বড়কুপটে একটি ও খোন্তাকাটার একটি জায়গা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ঘূর্ণিঝড় রিমাল আঘাত হানলে এসব জায়গায় বাঁধ টিকবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

কৈখালী ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম বলেন, বর্তমানে ইউনিয়নের পূর্ব কৈখালী, নৈকাটিসহ বেশ কয়েক জায়গায় বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নদীতে পানি বাড়লে বড় ক্ষতি হতে পারে। বাঁধ ভাঙলে গোটা ইউনিয়ন নদীর পানিতে তলিয়ে যাবে।

বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজি নজরুল ইসলাম বলেন, বুড়িগোয়ালিনীর দুর্গাবাটিতে তিন জায়গায় ও দাতিনাখালীর দুই জায়গাসহ মোট ৬টি স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সালাউদ্দিন বলেন, শ্যামনগর উপজেলায় মোট ১২৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে ৫ কিলোমিটার, আর অতিঝুঁকিপূর্ণ ১ কিলোমিটার। ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ সবগুলো বাঁধে কাজ চলমান রয়েছে, পর্যায়ক্রমে সবগুলো পয়েন্টে কাজ করা হবে বলে জানান তিনি

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলি জানান, আজ সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা উপকূলে আঘাত হানবে ঘূর্ণিঝড় রিমাল। ফলে উপকূলীয় এলাকায় ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কিমি বেগে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া শুরু হবে। এ ছাড়া স্বাভাবিক থেকে ৮ থেকে ১০ ফুট নদীর পানি বৃদ্ধি পাবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উত্তর কোরিয়ায় কোথায় থাকছেন পুতিন?

মন্তিয়েলের সেই পেনাল্টির সময় মেসি কি ভাবছিলেন?

সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

মেসির মন্তব্য / নেইমারকে ছাড়াই কোপা জেতার ক্ষমতা রয়েছে ব্রাজিলের

এসএসসি পাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

নওগাঁয় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে পাকিস্তানেও

এক অর্ধশতকে র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি সাকিবের

ইউজিসি সদস্য হিসেবে অধ্যাপক জাকির হোসেনের যোগদান 

পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে দেড় সহস্রাধিক রোহিঙ্গা পরিবার

১০

৩৩৮ পদে বাংলাদেশ রেলওয়েতে বড় নিয়োগ

১১

চীনকে সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

১২

৪৮ ঘণ্টা পার হলেও এখনো অপসারণ হয়নি কোরবানির বর্জ্য 

১৩

একদিন পর শুরু কোপা, যা জানা প্রয়োজন

১৪

মৌলভীবাজারে ভয়াবহ বন্যায় পানিবন্দি অর্ধলাখ মানুষ দিশাহারা

১৫

তেজগাঁওয়ে জমি পেয়েছি, ট্রাক স্ট্যান্ড শিগগিরই : মেয়র আতিক

১৬

হারিসের সঙ্গে তর্কে জড়ানো সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ!

১৭

৯৯৯ নম্বরে ফোন, কার্নিশে আটকে পড়া কিশোরী উদ্ধার

১৮

সাইবার ক্রাইমে যাচ্ছেন রাজস্বের সেই মতিউর

১৯

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

২০
X