কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৪, ১০:০৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

শিক্ষার্থীদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছাত্র উপদেষ্টার বিরুদ্ধে

অভিযুক্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক অধ্যাপক ড. মোহা. হাবিবুর রহমান। ছবি : কালবেলা
অভিযুক্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক অধ্যাপক ড. মোহা. হাবিবুর রহমান। ছবি : কালবেলা

শিক্ষার্থীদের গবেষণার টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক অধ্যাপক ড. মোহা. হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, জব ফেয়ার অথবা নবীনবরণ আয়োজনে স্পন্সর করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে ‘প্রীতি রিসার্চ অ্যান্ড কনসালটেন্সি লিমিটেডে’র মৌখিকভাবে একটি চুক্তি হয়। এতে ভিসি কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে ছাত্রপরামর্শক ও নির্দেশনা প্রধান নিযুক্ত হন অধ্যাপক ড. মোহা. হাবিবুর রহমান।

চুক্তি অনুযায়ী ফার্মের একটি প্রজেক্টের (কোমলপানীয় নিয়ে বাজার গবেষণা) জন্য শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে ৫০০ স্যাম্পল সংগ্রহ করে দেওয়ার কথা বলা হয়। যার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের পারিশ্রমিকসহ প্রায় ‘এক লাখ’ টাকা দেওয়ার কথা বলেন ফার্মের এমডি। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিমান্ড ছিল ‘দেড় লাখ’ টাকা।

একটি কর্মশালার মাধ্যমে ২০২৩ সালের ৭-১৯ জুনের মধ্যে প্রজেক্টের কাজ শেষ হয়। এতে ৪ জন তথ্যদাতা সংগ্রাহকের পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে আটজন শিক্ষার্থী কাজ করেন। যারা হলেন তন্ময় সরকার, আমিন, জয়, সোমা, মৌ, সুরুপা, মাওয়া ও মুনমুন। এ ছাড়াও প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করেন আহনাফ শাহরিয়ার রিকি।

এদিকে প্রজেক্ট বাস্তবায়নের পর ‘এক লাখ’ টাকা দেওয়ার কথা বলা হলেও কনসালটেন্সির এমডি নাঈমুর রহমান শিক্ষার্থীদের পারিশ্রমিকসহ ৭০ হাজার টাকার বেশি দিতে পারবেন না বলে জানান।

তিনি বলেন, প্রজেক্টটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের সম্মানে অতিরিক্ত ২০-৩০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ছাত্রপরামর্শক ও প্রজেক্ট বাস্তবায়নকারীদের অসহযোগিতায় আমাদের অনেক স্যাম্পল বাদ পড়ে যায়। তাই আমরা অতিরিক্ত টাকা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই।

তবে প্রজেক্ট বাস্তবায়নে অসহযোগিতার বিষয়ে শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানান। তাদের ভাষ্য, প্রজেক্ট চলাকালীন ফার্মের প্রতিনিধি হিসেবে সার্বক্ষণিক একজন নিয়োজিত ছিল। যিনি সেসময় শিক্ষার্থীদের কিছু জানাননি।

কনসালটেন্সি ফার্ম ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর ছাত্রপরামর্শক ও নির্দেশনা কার্যালয়ের অ্যাকাউন্টে ৭০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। যেখান থেকে শিক্ষার্থীদের পারিশ্রমিক বাবদ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটরের ৫ হাজার টাকা পাওয়ার কথা রয়েছে কিন্তু অর্থ প্রাপ্তির প্রায় একবছর পার হয়ে গেলেও ছাত্র উপদেষ্টা ড. হাবিবুর রহমান শিক্ষার্থীদের অর্থ পরিশোধ করেননি। এমনকি কোনো জব ফেয়ার কিংবা নবীনবরণেরও আয়োজন করা হয়নি।

এ বিষয়ে কো-অর্ডিনেটর আহনাফ শাহরিয়ার রিকি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি জব ফেয়ার আয়োজনের জন্য স্পন্সর হিসেবে প্রজেক্টটি ক্যাম্পাসে আনার ব্যবস্থা করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে আমরা কম টাকায় প্রজেক্টটি করে দেই। যেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের লাভবান হওয়ার পাশাপাশি জুনিয়ররাও যেন গবেষণার হাতেখড়ি শিখতে পারে। কিন্তু পরবর্তীতে ছাত্র পরামর্শক দপ্তরের অসহযোগিতার কারণে আমাদের বেগ পোহাতে হয়। এতকিছুর পর কোম্পানি আমাদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দিলেও স্যার তা গোপন করেন। যা অর্থ আত্মসাতের শামিল। অনেক সময় পার হলেও আমরা চাই আমাদের প্রাপ্য দ্রুত বুঝিয়ে দেওয়া হোক। নয়তো আমরা আইনী ব্যবস্থায় বিষয়টি নিয়ে আগাব।

তথ্য সংগ্রহকারী তন্ময় সরকার বলেন, আমরা এ বিষয়ে স্যারের সাথে পাঁচবারের বেশি দেখা করি। শুরুর দিকে স্যার বলতেন, কনসালটেন্সি ফার্ম ওনার কাছে টাকা দিলে আমাদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেবেন। কিন্তু ওই প্রজেক্টের প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও স্যার আমাদের অর্থ প্রাপ্তির বিষয়ে কিছু জানাননি। ৪-৫ মাস আগেও আমরা স্যারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি আমাদের সময় নেই বলে এড়িয়ে যান।

তবে এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে ড. হাবিবুর রহমান বলেন, আমার সঙ্গে কেউ দেখা করেনি। একজন এসেছিল তাকে বলেছি, তোমরা প্রজেক্ট ফেল করেছ।

এদিকে ফার্মের এমডি অর্থ পাঠানোর বিষয়ে বলেন, আমরা যখন টাকা দিতে চাই ওই শিক্ষক প্রথমে নগদে নিতে চান কিন্তু আমরা ডকুমেন্ট ছাড়া দেব না বলে জানাই। পরে তিনি বলেন, ওনার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে দিতে আমরা তাতেও আপত্তি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট দেওয়ার কথা বলি। একপর্যায়ে ওনি ছাত্রপরিচালনা দপ্তরের নামে জনতা ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্ট নম্বর দিলে আমরা স্টুডেন্টদের পারিশ্রমিকসহ ৭০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেই।

অর্থ প্রাপ্তির বিষয়টি ছাত্র উপদেষ্টা ড. মোহা. হাবিবুর রহমান নিশ্চিত করলেও প্রাপ্ত অর্থ শিক্ষার্থীদের নয় বলে জানান। তিনি বলেন, ফার্ম কর্তৃপক্ষ আমাকে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা প্রজেক্টে ফেল করেছে। তারা কাজ ঠিকভাবে করেনি। তাই তারা শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে টাকা দিয়েছে।

তবে ফার্মের এমডি বিষয়টিকে অস্বীকার করে বলেন, কাজ করেছে শিক্ষার্থীরা। আমি কেন বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু শুধু টাকা দেব। যেহেতু ছাত্রপরামর্শক এর সাথে যুক্ত তাই ওনাকেই পুরো টাকাটা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, শিক্ষক হয়ে শিক্ষার্থীদের অর্থ আত্মসাৎ করাটা অগ্রহণযোগ্য। যদি এ ধরনের কিছু হয়ে থাকে ওই শিক্ষককে বিচারের আওতায় আনা উচিত।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, বিষয়টি আমি মাত্রই শুনলাম। অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে আমি কথা বলব। যদি বিষয়টি সত্যি হয় তাহলে দ্রুত এর সমাধান করে নিতে বলব।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সড়কের পাশে উদ্ধার হওয়া সেই শিশুর পাশে দাঁড়াল ‘স্বপ্ন’

জকসু নির্বাচন / ২৬ কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা, এগিয়ে রিয়াজুল

সবচেয়ে কম তাপমাত্রা থাকতে পারে যে ২ দিন

কীসের নেশায় গ্রিনল্যান্ড চান ট্রাম্প?

অবসরের পর কোচ নন, ক্লাব মালিক হতে চান মেসি

বহিষ্কারের পর তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপি নেতার সাক্ষাৎ

গণভোটের পরীক্ষায় আপনারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন : হাসনাত আব্দুল্লাহ

ভারতে খেলতে না যাওয়ার অবস্থানে অটল বাংলাদেশ : আসিফ নজরুল

সিলেটে রায়হান হত্যা : পেছালো রায় ঘোষণা, হচ্ছে অধিকতর শুনানি

আশা করি বউ আমাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে : জোভান

১০

গাজীপুরে আরও এক কারখানা বন্ধ ঘোষণা

১১

কেউ আপনাকে গোপনে ভালোবাসছে কি না, বুঝে নিন ১০ লক্ষণে

১২

তেলবাহী জাহাজ ঘিরে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে উত্তেজনা, রুশ সাবমেরিন মোতায়েন

১৩

ঘুষের টাকাসহ সরকারি কর্মকর্তা হাতেনাতে আটক

১৪

রাতে খাওয়া বন্ধ করলে কি ওজন কমে? যা বলছেন পুষ্টিবিদ

১৫

কুমিল্লায় আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

১৬

মাদ্রাসার ছাদ থেকে পড়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

১৭

হলফনামায় গরমিল নিয়ে সারজিসের ব্যাখ্যা

১৮

আইইডিসিআর / নিপাহ ভাইরাস ৩৫ জেলায়, আক্রান্ত হলেই মৃত্যু

১৯

নামাজের সময় চোখ খোলা নাকি বন্ধ রাখতে হয়, জানুন

২০
X