শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৪, ০৫:৪২ এএম
অনলাইন সংস্করণ

হুইলচেয়ারে বসেই আলো ছড়াচ্ছেন ফয়সাল

হুইলচেয়ারে ফয়সাল রহমান জসীম। ছবি : কালবেলা
হুইলচেয়ারে ফয়সাল রহমান জসীম। ছবি : কালবেলা

সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় ১৯৮৭ সালে ট্রেন দুর্ঘটনায় দুই পা প্যারালাইজড হয়ে যায় ফয়সাল রহমান জসীমের। এ শরীর নিয়ে অদম্য ফয়সাল পড়ালেখা চালিয়ে যান। স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

সুস্থ হওয়ার পরে ২০০৭ সালে ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পড়ালেখায় মনোযোগী করে তোলায় শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। কর্মদক্ষতা দিয়ে জয় করেন নিজের প্রতিবন্ধকতাকে। ২০১৪-১৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধিতার ওপর পিএইচডি করেন তিনি।

গড়ে তুলেছেন প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি বিদ্যালয়ে, যার নাম প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়। প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নের জন্য একটি সংস্থাও তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন। দেশ-বিদেশে নিয়েছেন প্রশিক্ষণ। বর্তমানে তিনি প্রতিবন্ধীদের মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে কাজ করেন। শিক্ষাজীবন থেকে এখন পর্যন্ত নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েও কখনো থেকে যাননি।

বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অন্য শিক্ষকরাও তাকে সব কাজে উৎসাহিত করেন। হুইলচেয়ারে বসা থেকে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ায়ও সহকর্মীরা সহযোগিতা করছেন। শিক্ষার্থীরা তার প্রসংশায় পঞ্চমুখ।

ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, ফয়সাল রহমান জসিম স্যার আমাদের সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে ক্লাস নেন। তিনি অত্যন্ত ভালো একজন মানুষ। তার পাঠদানে আমরা সন্তুষ্ট। তিনি পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি আমাদের দেশ-বিদেশের নানা বিষয়ে জ্ঞান দান করেন।

শিক্ষার্থী রাহাত জানায়, স্যার একজন প্রতিবন্ধী, তবু তার সব বিষয়ে জ্ঞান রয়েছে। তিনি আমাদের শুধু শিক্ষকই নন, একজন অভিভাবকও।

ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাঈনুল ইসলাম মান্না বলেন, প্রতিবন্ধী হয়েও ফয়সাল রহমান জসিম শিক্ষকতায় সুনাম অর্জন করেছেন। শিক্ষার্থীদের আস্থা ও ভরসাস্থল তিনি। সবসময় তার সফলতা কামনা কামনা করি।

ফয়সাল রহমান জসিম বলেন, প্রথমে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি পাই; কিন্তু নানা প্রতিকূলতার কারণে সে চাকরি ছেড়ে দিই। পরে ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে চাকরি পাই। এখন সেখানেই শিক্ষকতা করছি। একজন প্রতিবন্ধী হলেই যে তিনি সমাজের বোঝা, আমি এটা মানি না। সমাজ উন্নয়নে সব মানুষের ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। আমি প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করছি। তাদের উন্নয়নে আমৃত্যু কাজ করে যাব।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ার জনসভা মঞ্চে তারেক রহমান

বিটিভিতে শুরু হচ্ছে বিনোদনমূলক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান অভিনন্দন

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ / ‘শঙ্কিত’ সংখ্যালঘুরা ভোটদানে নিরুৎসাহিত হতে পারেন

প্যারাডাইস ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড হাউজিং লিমিটেডের আবাসন প্রকল্প ‘আশুলিয়া আরবান সিটি’র শুভ উদ্বোধন

সড়কে ঝরল বিএনপি নেতার প্রাণ

অতীত ভুলে শরীয়তপুরকে আধুনিক জেলা গড়ার অঙ্গীকার নুরুদ্দিন অপুর

মেন্টরশিপ, তৃণমূল সংযোগ ও পারিবারিক বাধা : চ্যালেঞ্জের মুখে নারীর রাজনীতি

শিশির মনিরের প্রচার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ

দলের ক্ষুদ্র স্বার্থে উত্তেজনা সৃষ্টি করা উচিত নয় : রবিউল

চট্টগ্রামে বর্জ্য সংগ্রহে ধীরগতি, ক্ষেপলেন মেয়র

১০

সিলেটে সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার

১১

৩ শতাধিক স্বেচ্ছা রক্তদাতা পেলেন কোয়ান্টামের সম্মাননা

১২

বাংলাদেশ ভ্রমণে নাগরিকদের সতর্ক করল যুক্তরাজ্য

১৩

শুটিং দলকে ভারত পাঠানোর ব্যাখাসহ সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশনের বিষয়ে যা জানা গেল

১৪

অধ্যক্ষ-প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি, শূন্যপদ ১৩৫৯৯

১৫

তারেক রহমানের বরিশাল সফরের নতুন তারিখ ঘোষণা

১৬

একুশে বইমেলা পেছানোর প্রতিবাদে প্রতীকী মেলা হবে যেদিন

১৭

স্বতন্ত্র প্রার্থীর ব্যতিক্রমী প্রচারণা, নজর কাড়ছে ‘জোকার’

১৮

এই আলো কি সেই মেয়েটিই

১৯

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাচ্ছেন আইনুন পুতুল ও আফরান নিশো

২০
X