

আমাদের শরীরের জন্য লবণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে থাকা সোডিয়াম আমাদের দেহের জল সমতা ঠিক রাখে, অক্সিজেন ও পুষ্টি পরিবহন সহজ করে এবং স্নায়ু সিগন্যালকে সচল রাখে; কিন্তু অতিরিক্ত লবণ খাওয়া উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে সম্প্রতি কিছু গবেষক বলছেন, খুব কম লবণও ক্ষতিকর হতে পারে। সত্যিটা কী?
আমরা সবাই লবণ খাই বেশি। বিশ্বের প্রায় সব দেশে মানুষ দৈনিক প্রয়োজনের চেয়ে দ্বিগুণ লবণ খাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাজ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সর্বাধিক দৈনিক লবণের পরিমাণ ৬ গ্রাম। কিন্তু বাস্তবে গড় পরিমাণ ৮.৪ গ্রাম। যুক্তরাষ্ট্রে গড় পরিমাণ ৮.৫ গ্রাম, আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুমান করছে গড় খাওয়া লবণ ১০.৮ গ্রাম।
চলচ্চিত্র, খাবার বা রেস্তোরাঁর খাবারে লুকানো লবণও অনেক। আমরা যেটা নিজে যোগ করি, তা মোট লবণের মাত্র এক-চতুর্থাংশ। এ ছাড়া খাবারের প্যাকেটের লেবেলে অনেক সময় সোডিয়ামের পরিমাণ লেখা থাকে লবণের পরিবর্তে, যা বিভ্রান্তিকর।
গবেষণা দেখিয়েছে, বেশি লবণ খেলে রক্তচাপ বাড়ে। রক্তচাপ বাড়লে স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। WHO অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ১.৮৯ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু অতিরিক্ত সোডিয়ামের কারণে।
একটি বিশ্লেষণ দেখিয়েছে, দৈনিক অতিরিক্ত ৫ গ্রাম লবণ খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় ১৭% বাড়ে, আর স্ট্রোকের ঝুঁকি ২৩% বৃদ্ধি পায়।
লবণ কমালে রক্তচাপ কমে এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস পায়। ইংল্যান্ডের একটি ৮ বছরের গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনিক ১.৪ গ্রাম লবণ কমানো রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করেছে, এবং মৃত্যুহারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
যা-ই হোক, যারা লবণ কম খায় তারা সাধারণত স্বাস্থ্য সচেতন হয়—সুস্থ খাদ্য খায়, ব্যায়াম করে, ধূমপান কম করে। তাই শুধু লবণ কমানোর প্রভাব আলাদা করে বলা কিছুটা কঠিন।
সব মানুষের লবণ সংবেদন একরকম নয়। বয়স, ওজন, স্বাস্থ্য ও পরিবার ইতিহাস অনুযায়ী রক্তচাপের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন। কিছু গবেষক বলছেন, খুব কম লবণও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অর্থাৎ, লবণ কমানো বা বেশি খাওয়া—উভয়ই সমস্যার কারণ হতে পারে যদি তা অতিরিক্ত হয়।
কিছু বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দৈনিক ৩-৬ গ্রাম লবণ খাওয়াই স্বাস্থ্যকর। ৫.৬ গ্রামের নিচে বা ১২.৫ গ্রামের উপরে খেলে ক্ষতিকর প্রভাব থাকতে পারে।
তবে এই গবেষণাগুলো অনেক ক্ষেত্রে সমালোচিত হয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ বলেন, ডেটা ঠিকভাবে নেওয়া হয়নি এবং কিছু ক্ষেত্রে খাদ্য শিল্পের প্রভাব থাকতে পারে।
- খাবারে লুকানো লবণ খুঁজে বের করুন
- অতিরিক্ত লবণ বা প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খান
- ফ্রুট, সবজি, বাদাম ও দুধজাত খাবার খান, যাতে পটাসিয়াম বেশি থাকে এবং লবণের প্রভাব কমে
- একবারে খুব বেশি লবণ যোগ করবেন না; খাবার ধীরে ধীরে স্বাদ মিলিয়ে নিন
সাধারণভাবে, খুব বেশি লবণ খাওয়া রক্তচাপ বাড়ায়—এটি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ। খুব কম লবণ বা সীমিত লবণের ঝুঁকি এখনো গবেষণাধীন, তাই অতিরিক্ত আতঙ্কে লবণ পুরোপুরি বাদ দেওয়া ঠিক নয়।
লবণ আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়, কিন্তু অতিরিক্ত লবণ ক্ষতিকর। খুব কম লবণও কিছু মানুষের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। স্বাস্থ্যকর ব্যালান্স হলো মধ্যম পর্যায়ে লবণ খাওয়া—প্রায় ৩-৬ গ্রাম দৈনিক। ফ্রেশ খাবার খাওয়া, লুকানো লবণ কমানো এবং পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করে আমরা সহজেই স্বাস্থ্য বজায় রাখতে পারি।
সুতরাং, লবণ বাদ দেবেন না, শুধু মাপ অনুযায়ী ব্যবহার করুন।
সূত্র : বিবিসি
মন্তব্য করুন