সকালে নাস্তার টেবিলে একটা আপেল দেখতে দেখতে আপনি কি কখনও ভেবেছেন, ‘সবুজটা ভালো হবে, না লালটা?’ আপেল যে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, সেটা সবাই জানি। কিন্তু বাজারে পাওয়া লাল আর সবুজ আপেলের মধ্যে কোনটা বেশি উপকারী, বিশেষ করে পেটের জন্য? আসুন, সেটা সহজ করে জেনে নেওয়া যাক।
সবুজ আপেল, বিশেষ করে গ্র্যানি স্মিথ জাতের, একটু টক স্বাদের হয়। এতে চিনি কম থাকে এবং গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও কম, যার মানে হচ্ছে এটি রক্তে শর্করার পরিমাণ খুব ধীরে বাড়ায়।
এই আপেলে পেকটিন নামে এক ধরনের দ্রবণীয় ফাইবার বেশি থাকে, যা হজম ভালো রাখে, মলত্যাগে সাহায্য করে এবং উপকারী অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বাড়ায়। এছাড়াও এতে আছে পলিফেনল, যা শরীরের প্রদাহ কমায় এবং পেটকে ক্ষতিকর অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে।
লাল আপেল যেমন ফুজি বা রেড ডেলিশিয়াস জাতেরগুলো মিষ্টি স্বাদের হয়ে থাকে। এই আপেলের খোসায় থাকে অ্যান্থোসায়ানিন নামে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের কোষকে রক্ষা করে এবং পেট ও হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
যদিও লাল আপেলে সবুজের তুলনায় ফাইবার একটু কম, তবে এতে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার দুই ধরনেরই ভালো উপস্থিতি থাকে। এটি হজম ঠিক রাখতে সাহায্য করে এবং মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখে।
দুটো আপেলই স্বাস্থ্যকর। তবে যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ করছেন বা ডায়াবেটিস নিয়ে ভাবছেন, তাদের জন্য সবুজ আপেল একটু বেশি উপকারী- কম চিনি আর বেশি ফাইবার থাকার কারণে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা- আপেল খাওয়ার সময় খোসা ফেলে দেবেন না! খোসাতেই থাকে সবচেয়ে বেশি ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আর পুষ্টিগুণ।
লাল হোক বা সবুজ- আপেল খাওয়া সুস্থ থাকার একটি দারুণ সহজ ও সুস্বাদু উপায়। নিজের রুচি আর শরীরের চাহিদা বুঝে যেটা ভালো লাগে সেটাই বেছে নিন। তবে খোসাসহ খাওয়ার কথা ভুলবেন না একদম!
সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
মন্তব্য করুন