কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:৫৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

কোন ব্যথায় গরম সেঁক, কোন ব্যথায় ঠান্ডা? জানুন সঠিক পদ্ধতি

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে সজোরে ধাক্কা খাওয়া কিংবা বাথরুমে পিছলে পড়ে কোমরে চোট লাগা, এ ধরনের আঘাত আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। প্রথম দিকে ব্যথা কমাতে অনেকে ওষুধ খেলেও, পরবর্তীতে বেশিভাগ মানুষই নির্ভর করেন ঠান্ডা বা গরম সেঁকের ওপর। কারণ, ব্যথা কমানোর ওষুধ বেশি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য মোটেই ভালো নয়।

সেঁক দিলে আরামও হয়, কিন্তু কোন ব্যথায় ঠিক কেমন সেঁক দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে অনেকেই সঠিক ধারণা রাখেন না। তাই এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে একটি জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে বিস্তারিত জানিয়েছেন ফেলোশিপ অন অ্যাডভান্স বায়োলজিক থেরাপি মাসকুলোস্কেলেটাল আল্ট্রাসনোগ্রাম, কেটিপিএইচ, সিংগাপুর এবং এনাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের রিউম্যাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. হাবিব ইমতিয়াজ আহমাদ।

তিনি বলেন, সেঁক দেওয়া বলতে বোঝায় তাপমাত্রা পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। ব্যথা কমাতে সেঁক দেওয়ার এই পদ্ধতিটি অতি প্রাচীন, বিজ্ঞানসম্মত এবং ঘরোয়া পদ্ধতি হিসেবে অনেক দিন থেকেই বিবেচিত।

সেঁক দেওয়ার পদ্ধতি দুই ধরনের— গরম সেঁক ও ঠান্ডা সেঁক।

ব্যথার রোগীরা তাদের ব্যথা উপশমের জন্য গরম সেঁক নিতে হবে নাকি ঠান্ডা সেঁক নিতে হবে, এটি নিয়ে অনেক সময় দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগতে পারেন। তাই যে কোনো ব্যথায় সেঁক নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

গরম সেঁক

ডা. হাবিব ইমতিয়াজ জানান, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা, বাতের ব্যথা, আর্থ্রাইটিস, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, মাংশপেশিতে ব্যথা, লিগামেন্ট ইনজুরিসহ বিবিধ কারণে গরম সেঁক নিতে হবে। তার ভাষায়, ব্যথা আক্রান্ত স্থানে গরম সেঁক দিলে সেখানে যে রক্তনালি আছে সেটিকে প্রসারিত করে এবং রক্ত চলাচল বাড়ায়। এর ফলে রোগীর আক্রান্ত স্থানে ব্যথা কমে এবং আরাম বোধ হয়।

বাতের একটি অন্যতম লক্ষণ হচ্ছে জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধির স্টিফনেস বা শক্ত হওয়া। দীর্ঘসময় যদি অস্থিসন্ধির কোনো ব্যবহার না হয় তখন সেটি শক্ত হয়ে যায়, আর এই স্টিফনেস কমিয়ে আনার একটি স্বীকৃত চিকিৎসা পদ্ধতি হচ্ছে গরম সেঁক দেওয়া।

যেসব পদ্ধতিতে গরম সেঁক নেওয়া যেতে পারে

১. হট ওয়াটার ব্যাগে গরম পানি ভরে ব্যথা আক্রান্ত স্থানে গরম সেঁক দিতে পারেন।

২. জেল ওভেনে রেখে গরম করে সেঁক নেওয়া যেতে পারে। জেল প্যাকে থাকা নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে সঠিকভাবে।

৩. কুসুম গরম পানিতে পরিষ্কার কাপড়, গামছা বা তোয়ালে ভিজিয়ে এবং নিংড়ে নিয়ে আক্রান্ত স্থানে গরম ভাপ দিতে পারেন।

৪. শুকনো কাপড় কোনো একটি গরম সারফেসে রেখে গরম করে নিয়ে সেঁক নিতে পারেন।

তবে কিছু ক্ষেত্রে গরম সেঁক নেওয়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে। যেমন- যাদের ত্বকে প্রদাহ আছে, ত্বকে চর্মরোগ, ক্ষত আছে তাদের গরম সেঁক নেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। যাদের ত্বকে বোধশক্তি কম, দীর্ঘমেয়াদি নিউরোপ্যাথিতে ভুগছেন এবং ডায়াবেটিস আছে এমন রোগীরা গরমের মাত্রা বুঝতে পারেন না। গরম বেশি না কম সেটি বুঝতে না পারার কারণে সেক্ষেত্রে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ঘুমানোর আগে গরম সেঁক না নেওয়াই ভালো, ঘুমিয়ে পড়লে অসতর্কতায় ত্বক পুড়ে যেতে পারে।

ঠান্ডা সেঁক

সাধারণত হঠাৎ কোনো ব্যথা পেলে বা ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো আঘাত পেলে সে ধরনের ব্যথার ক্ষেত্রে ঠান্ডা সেঁক নেওয়ার কথা বলেন ডা. হাবিব ইমতিয়াজ। আঘাতপ্রাপ্ত বা ব্যথার স্থানে ঠান্ডা সেঁক দিলে রক্ত সঞ্চালন হ্রাস পায় এবং রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে আক্রান্ত স্থান বা মচকে যাওয়ার পর যে ফুলে যাওয়া সেটি বিলম্বিত হয় এবং ব্যথা কমে আসে। ঠান্ডা সেঁক সাধারণত অ্যাকিউট ইনজুরির ক্ষেত্রে দিতে পারি।

যেসব পদ্ধতিতে নেবেন ঠান্ডা সেঁক

১. আইস প্যাক বা ঠান্ডা পানি ভর্তি ব্যাগ ব্যবহার করা যেতে পারে আক্রান্ত স্থানে।

২. বরফের টুকরো কাপড়ে মুড়িয়ে আক্রান্ত স্থানে ঠান্ডা সেঁক নিতে পারেন।

৩. ঠান্ডা পানিতে কাপড় ভিজিয়ে ঠান্ডা সেঁক নেওয়া যেতে পারে।

৪. জেল হিসেবে ঠান্ডা সেঁক দিতে পারেন, জেল প্যাকের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

ঠান্ডা সেঁক নেওয়ায় ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। যেমন- ঠান্ডার প্রতি সংবেদনশীল এমন রোগী, অ্যালার্জি আছে, যাদের রক্ত সঞ্চালনজনিত কোনো সমস্যা আছে, পায়ের ধমনিতে ব্লক আছে তাদের ঠান্ডা সেঁক নেওয়া থেকে বিরত থাকাই ভালো। সরাসরি ত্বকে বরফ বা অতিরিক্ত ঠান্ডা সেঁক দেওয়া যাবে না, এতে আইস বার্ন, ত্বকে ব্লিস্টার এবং আলসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বড় ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল ছোট ভাইয়ের

জাবিতে নতুন দুই উপ-উপাচার্যের যোগদান

হামে শিশু মৃত্যু / ড. ইউনূসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস পালন করল বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস

হোটেলে সাবেক ইউপি সদস্যের মরদেহ, সেই নারী পুলিশ হেফাজতে

আরেক দফায় ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

যে কারণে রোগী প্রতিদিন হাসে, কিন্তু আনন্দ পায় না

ডলারকে আমি চিনি : রামিসার বাবা

ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতবে মরক্কো: মামদানি

মালদ্বীপ-বাংলাদেশ ম্যাচে উত্তেজনা, শেষ মুহূর্তে সংঘর্ষ ১-১ গোলে ড্র

১০

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির পরিচালক হলেন সিসিক প্রশাসক

১১

নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি অবশ্যই মেনে নিতে হবে : ট্রাম্প

১২

দিনাজপুরে জমে উঠেছে লিচুর বাজার

১৩

শয়তানের মূল ঘাঁটি তেহরানে : মার্কিন রাষ্ট্রদূত

১৪

ভুয়া কমিটি নিয়ে বিএনপির মিডিয়া সেলের সতর্কবার্তা

১৫

৪,৬৯০ অবৈধ প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল সৌদি, গ্রেপ্তার আরও ৭ হাজার

১৬

ইসরায়েলের হামলার পর এবার বড় সিদ্ধান্ত নিলো ইরান

১৭

সৌদি আরব / প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা

১৮

বিদ্যালয়ে ঢুকতে বাধা, গেটের সামনেই প্রধান শিক্ষককে মারধর

১৯

গভীর রাতে ফেলে যাওয়া কাফনের কাপড়ে আরবি হরফ ঘিরে রহস্য

২০
X