কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৪:২৪ পিএম
আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৫:১৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
গবেষণা

দেশের ১৬ শতাংশ শিশু টিকা সুবিধা থেকে বঞ্চিত

শিশুদের টিকা সুবিধা
জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. নিজাম উদ্দিন আহমেদ। ছবি : সংগৃহীত

প্রায় এক যুগ ধরে দেশের ১৬ শতাংশ শিশু টিকা সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। সোমবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে মূলত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের যৌথ পরিচালনায় ‘বাংলাদেশে টিকা কার্যক্রমের সাফল্য, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং করণীয়’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল ফলাফলে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) সহায়তায় ২০২৪ সালে ৩টি স্বতন্ত্র গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। তাতে দেশের বিভিন্ন জেলায় টিকাদান কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টিকাদানের বিদ্যমান অবস্থা, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয় বিষয়ে গবেষণা করা হয়।

তিনি বলেন, এখন আর কোনো মা টিটেনাস টিকার কারণে মারা যান না। এটা বিরাট অর্জন। টিকায় ছয়টি রোগ না, ১২টি রোগের নিরাময় হিসেবে এখন দেখা হয়। গ্রামে ৮৫ ভাগ শিশু টিকা পাচ্ছে। কিন্তু শহরের শিশুরা তুলনামূলক কম পাচ্ছে। শহরে স্থানীয় সরকারের কোনো কর্মী নাই টিকাদান কর্মসূচির জন্য। বাংলাদেশে ১৯৮৪ সালে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির কভারেজ ছিল ২ শতাংশের নিচে যা বর্তমানে ৮৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নিত হয়েছে। তবে গ্রাম শহর নির্বিশেষে কাভারেজের ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। গত ১২ বছরে ইপিআই কভারেজ ৮৪ শতাংশের ওপরে ওঠেনি এবং ১৬ শতাংশ শিশু টিফা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ডা. নিজাম উদ্দিন বলেন, ইপিআইয়ের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে টিকা কার্যক্রমে জনবলের ঘাটতি, অঞ্চলভিত্তিতে টিকাকেন্দ্রের অসম বণ্টন, অপর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ, টিকার অপর্যাপ্ততা, টিকাদান কর্মীদের প্রশিক্ষণের অভাব, দুর্গম এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিকা পরিবহনজনিত সমস্যা, টিকাদান সম্পর্কিত প্রচারণার অভাব ইত্যাদি।

তিনি আরও বলেন, মন্ত্রণালয়ের অধীনে শহর ও গ্রামে টিকাদান প্রকল্পে বরাদ্দকৃত জনবলের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ পদ এবং ইপিআই সদর দপ্তর এ ৪৩ শতাংশ পদ এখনো শূন্য রয়েছে। আরবান ইমিউনাইজেশন স্ট্র্যাটেজি-২০১৯ এবং ইপিআই মাইক্রোপ্ল্যান-২০২৪ অনুসারে প্রতি পঞ্চাশ হাজার জনসংখ্যার জন্য ছয়জন টিকাদানকর্মী প্রয়োজন, যা বাংলাদেশে এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি। দুর্গম এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যে সংখ্যায় টিকাদান কেন্দ্র থাকা দরকার সেই সংখ্যক টিকাদান কেন্দ্র নেই। টিকাদান কর্মসূচি সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য বাজেট বরাদ্দে দেরি হচ্ছে। অদুর ভবিষ্যতে ভ্যাকসিনের যে সংকট দেখা দিতে পারে সে ক্ষেত্রে যথাযত বাবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

গবেষণার পরামর্শে বলা হয়েছে, শহর ও গ্রামে টিকাদান প্রকল্পে বরাদ্দকৃত জনবলের শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ, জনসংখ্যাভিত্তিক জনবলনীতি বাস্তবায়ন করা, প্রয়োজন অনুযায়ী টিকা বণ্টন, প্রতি কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং টিকা সরবরাহ ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন গবেষণা প্রকল্পের পলিসি অ্যাডভাইজার অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঢাবির হলে জমে থাকা পানিতে মিলল মাগুর মাছ

শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে সব নদীর পানি বৃদ্ধি, সড়কে ভাঙন

ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নিউজিল্যান্ড অ্যাডুকেশন এক্সপো

১২ কোটি মানুষের গণভোটের রায় মানছে না বিএনপি: গোলাম পরওয়ার

কক্সবাজারে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ ৫ জেলে

হরমুজে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না ইরান

হু হু করে বাড়ছে মুহুরী নদীর পানি

যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েক হাজার বাড়ি মেরামত করেছে ইরান

বাঁশখালীতে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে বন্যার্তদের পাশে বিএনপি নেতা আশিক

সেমিফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে ধাক্কা

১০

মঙ্গলবার টানা ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

১১

ইয়েমেনের বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়া

১২

রেলওয়ে কর্মকর্তাকে হত্যা: পরকীয়া নয়, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও পরিকল্পিত হত্যার দাবি

১৩

বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া রেফারির মরদেহ পাওয়া গেল সড়কে

১৪

নাটোরে কর্তব্যরত দুই চিকিৎসকের ওপর হামলাকারীদের শাস্তির দাবি ড্যাবের

১৫

ডেমরায় মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ, আহত ৫ শিক্ষার্থী

১৬

বন্যায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত চকরিয়া ও মাতামুহুরী 

১৭

বিটোপিয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হলেন মনির হোসেন

১৮

বিশ্বকাপে গোল মিস করায় হত্যার হুমকি, আত্মগোপনে ফুটবলার

১৯

পল্লবীতে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিএনপি নেতার আর্থিক সহায়তা

২০
X