কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৪, ১০:৪১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কারাগার পরিদর্শন

গ্রাফিক্স : কালবেলা
গ্রাফিক্স : কালবেলা

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ ও ২, কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার, কক্সবাজার, মৌলভীবাজার, সিরাজগঞ্জ জয়পুরহাট, নওগাঁসহ দেশের বিভিন্ন জেলার কারাগার পরিদর্শন করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) কারাগার পরিদর্শনকালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কারাবন্দিদের অধিকার, বন্দি ব্যবস্থাপনা, আবাসনের মান, খাবারের মান, স্বাস্থ্যসেবা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা-ব্যবস্থা, কারাগার কর্তৃপক্ষের নেওয়া প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, কারাবন্দিদের অপরাধমূলক মানসিকতা পরিবর্তনের মাধ্যমে সংশোধনের লক্ষ্যে ব্যবস্থা গ্রহণসহ কারাগারের সামগ্রিক পরিবেশ পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করে।

কমিশন পরিদর্শনকালে সরেজমিনে কারাবন্দিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক সুরক্ষার জন্য সুবিধা-অসুবিধার কথা শোনে। পাশাপাশি কারাবন্দিদের তাদের আইনগত অধিকার সম্পর্কে অবহিত করেন। পরবর্তীকে সার্বিক বিষয় বিবেচনাপূর্বক সরকারকে সুপারিশ প্রদান করে।

মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০০৯ সালের আইনের ১২(১)(গ) ধারার ক্ষমতাবলে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কমিশন দেশের কারাগার বা সংশোধনাগার, হেফাজত ইত্যাদি স্থান পরিদর্শন করে সরকারকে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান কমিশন দেশের বিভিন্ন জেলায় কারাগার পরিদর্শন করে সরকারকে সুপারিশ প্রদান করেছে। সম্প্রতি কারা অধিদপ্তর একটি সভায় কমিশনের সুপারিশসমূহ মোতাবেক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

কমিশন মনে করে দেশের কারাগারগুলোকে আরও বেশি সমৃদ্ধ করে সংশোধনাগারে পরিণত করা একান্তই প্রয়োজন। এ বিষয়ে কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, কারাগারগুলো সংশোধনাগারে রূপান্তরিত করতে সঠিক পদ্ধতিতে কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। কারাগারে বন্দিদের মাঝে নিয়মিত শুদ্ধাচার ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে অপরাধ সম্পর্কে উপলব্ধি ও অনুতপ্ততার পরিবেশ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। এক্ষেত্রে শুদ্ধাচার চর্চা অব্যাহত রেখে তাদের উৎপাদনমুখী কাজে নিয়োজিত রাখলে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যায়। কারাগারে সুন্দর পরিবেশ, উন্নত খাদ্য, চিকিৎসা ব্যবস্থা ও কয়েদিদের সকল অধিকারকে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি, কারাগারের পাঠাগারগুলোও সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন। পাঠাগারগুলো মানবিক চরিত্রের বিকাশ এবং উন্নত পরিবেশ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

সম্প্রতি কারা অধিদপ্তরের একটি সভায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কারাগার পরিদর্শন প্রতিবেদনসমূহের পরামর্শ ও সুপারিশের আলোকে কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তন্মধ্যে কারা অধিদপ্তর ও সুরক্ষা সেবা বিভাগ কর্তৃক মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের সম্পর্কে একটি বছরভিত্তিক বিশেষ ডাটাবেজ তৈরিকরণ, কারা অধিদপ্তর কর্তৃক মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের পুনর্বাসনের জন্য একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ, ওই প্রকল্পের বিষয়ে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাসমূহের সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করা ইত্যাদি।

সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে সেগুলো ইতিবাচক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে কমিশন মনে করে। কমিশন বিশ্বাস করে গৃহীত সুপারিশসমূহ দ্রুতই কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হবে এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় তা তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আ.লীগের যারা অপরাধ করেনি, তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের : ফয়জুল করীম

রুয়েট ভর্তি পরীক্ষা বৃহস্পতিবার, আসনপ্রতি লড়বে কত জন?

মাইক্রোওয়েভে খাবারের গন্ধ নিয়ে বিরোধ, দুই ভারতীয় শিক্ষার্থীর পোয়াবারো

ইসলামে পাত্রী দেখা / কনের কোন কোন অঙ্গ দেখা যায়, বরের সঙ্গী থাকবে কারা?

নেপাল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত বগুড়ার সাগর ইসলামের ‘নো ডাইস’

বিএনপিতে যোগ দিলেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদ

সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন বেতন বাড়ছে প্রায় আড়াই গুণ

আসছে মন্টু পাইলট-৩

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির নেতাকর্মীদের সক্রিয় হতে হবে : দুলু

ট্রাম্পের ‘শান্তি পর্ষদ’ ইস্যুতে ক্ষুব্ধ ইসরায়েল

১০

রিশাদের জন্য সুখবর!

১১

সুখবর পেলেন বিএনপির আরেক নেতা

১২

বিয়ে নিয়ে যা বললেন সুনেহরাহ

১৩

নিয়ম যখন নিয়ম ভাঙার লাইসেন্স হয়ে ওঠে

১৪

যে কারণে দাভোস সম্মেলনে সানগ্লাস পরে বক্তব্য দিলেন মাখোঁ

১৫

শাবিপ্রবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন শিক্ষার্থীদের

১৬

শিবির নেতার বক্তব্যের প্রতিবাদে জবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল 

১৭

গণভোট নিয়ে অবস্থান জানাল বিএনপি

১৮

নতুন পে স্কেল অনুযায়ী সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতন কত নির্ধারণ করল কমিশন?

১৯

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন ও ছুটি নির্ধারণ করে দিল সরকার

২০
X