কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৫, ০৬:৫০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

দেশে আর কোনো স্বৈরাচারের ঠাঁই হবে না : প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি : সংগৃহীত
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন উল্লেখ করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এক বছর আগে এই দিনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পূর্ণতা পায়। দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্ত হয় প্রিয় স্বদেশ। বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ, যাদের যূথবদ্ধ আন্দোলনের ফসল আমাদের এই ঐতিহাসিক অর্জন। তাদের সবাইকে আমি এই দিনে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সোমবার (০৪ আগস্ট) দেওয়া বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. ইউনূস বলেন, আজ আমি স্মরণ করছি সে সব সাহসী তরুণ, শ্রমিক, দিনমজুর, পেশাজীবীদের, যারা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে মোকাবিলা করতে গিয়ে শাহাদাত বরণ করেছেন। আমি গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাত বরণকারী সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। আমি গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করি সব জুলাই যোদ্ধাকে যারা আহত হয়েছেন, চিরতরে পঙ্গু হয়েছেন, হারিয়েছেন দৃষ্টিশক্তি। জাতি তাদের অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।

তিনি বলেন, টানা ১৬ বছরের স্বৈরাচারী অপশাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত বিস্ফোরণ ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান। জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারমুক্ত নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে রাষ্ট্রকে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরে এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে রাষ্ট্রযন্ত্রের সব খাতে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। জুলাই গণহত্যার বিচারের কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। জুলাই শহীদদের স্মৃতি রক্ষা ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে রাজনৈতিক ও নির্বাচন ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সব সংস্কারে রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চলমান আছে। একটি টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কাছে রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

জুলাই আমাদের নতুন করে আশার আলো- একটি ন্যায় ও সাম্যভিত্তিক, বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছে মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ আমাদের রাষ্ট্র সংস্কারের যে সুযোগ এনে দিয়েছে তা যে কোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। পতিত স্বৈরাচার ও তার স্বার্থলোভী গোষ্ঠী এখনো দেশকে ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে। আসুন সবাই মিলে আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে আর কোনো স্বৈরাচারের ঠাঁই হবে না।

কালবেলা/এমএসকেএম
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পিরলো কি কোচ হচ্ছেন ইতালির? স্পষ্ট করলেন নিজেই

ঢাকায় ‘অস্ট্রেলিয়ান এডুকেশন এক্সপো’র তারিখ ঘোষণা 

তথ্যের প্রবাহ থেকে অপতথ্য ফিল্টারিং করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী

হাতিয়ায় প্রথমবার অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগে বাঁচল শিশুর প্রাণ

যুবদল নেতা হত্যায় ২৫ লাখ টাকায় খুনি ভাড়া করেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা 

দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভালো অবস্থানে থাকবে ইরান: মার্কিন বিশ্লেষক

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রীর মৃত্যু

নকল সরবরাহের দায়ে শিক্ষকের কারাদণ্ড, ৫ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

আগামী সপ্তাহ থেকে গ্যাসের সংকট কমবে, জানালেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

ফাইনালের ৭ দিন পর নীরবতা ভেঙে আবেগমাখা চিঠিতে যা লিখলেন স্কালোনি

১০

শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত, আহ্বায়ক কমিটি গঠন

১১

আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ২ নেতা গ্রেপ্তার

১২

২০২৭ সালের হজে যেতে পারবেন না যারা

১৩

জুলাই ব্যর্থ হলে ‘শেখরাজ্য’ প্রতিষ্ঠা হতো বাংলাদেশে: মঞ্জু

১৪

যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংকটের খবর উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প

১৫

মালদ্বীপকে ২০ হাজার গাছের চারা উপহার দিচ্ছে বাংলাদেশ

১৬

ডিউটিরত অবস্থায় পায়রা সেতুর টোল কালেক্টরের মৃত্যু

১৭

রান্নাঘরেও আছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি, গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

১৮

মাটিরাঙ্গা সীমান্তে বিজিবি-চোরাকারবারী গোলাগুলি, অস্ত্র-গুলি উদ্ধার

১৯

অবশেষে বিশ্বকাপের পর নীরবতা ভাঙলেন এমবাপ্পে

২০
X