এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:৫৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীই নির্ভরতার প্রতীক

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জোর প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। দেশ আজ নির্বাচনের মহাসড়কে, রাজনৈতিক দল ও তাদের মনোনীত প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রচারণায়। বহু বছর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারা সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও রয়েছে ব্যাপক উৎসাহ। তারা অপেক্ষা করছেন একটি উৎসবমুখর, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য। শান্তিপূর্ণ সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাবে— এটাই এখন জাতির প্রত্যাশা।

কিন্তু এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গণভোট ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখা দিয়েছে দ্বিধা ও অবিশ্বাস। প্রকৃত গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে এই সংকট আত্মতৃপ্তির কোনো সুযোগ রাখছে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও সবসময় সন্তোষজনক পর্যায়ে নেই। রাজনৈতিক বিভক্তি নতুন নতুন জটিলতার জন্ম দিচ্ছে। তপশিল ঘোষণার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বারবার বলেছেন যে খেলাই হোক, যে ষড়যন্ত্রই হোক, নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্রের আর কোনো বিকল্প নেই।

তিনি জানেন, গণতন্ত্রের ভিত্তিই নাগরিকের ভোটাধিকার। তাই নির্বাচনকে তিনি দেখেন ‘টিম ওয়ার্ক’ হিসেবে এবং এই টিম স্পিরিটকে সফল করতে দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা চেয়েছেন। মিরপুর সেনানিবাসে ডিএসসিএসসি কোর্স-২০২৫ এর সমাপনীতে এবং পরে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সংবর্ধনায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হবে। নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

নির্বাচন সামনে রেখে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ও নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান সরকারের প্রতি সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। সেনাপ্রধান জানিয়েছেন— সেনাবাহিনী যথাযথভাবে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করবে, যেন একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হয়। নৌবাহিনী প্রধানও একই অঙ্গীকার করেছেন— সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী দেশের সংকটময় মুহূর্তে সবসময় জাতির পাশে থেকেছে, নির্বাচনেও থাকবে।

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী দেশের প্রতিটি সংকটে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। ছাত্র-জনতা -সামরিক বাহিনীর অভূতপূর্ব ঐক্যে দেশ যে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রূপান্তরিত হয়েছে, তাতে তিন বাহিনীর দেশপ্রেম, সাহসিকতা ও নেতৃত্ব ছিল মুখ্য। অন্তর্বর্তী সরকারকেও এ পথচলায় তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। সামনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতেও সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ভূমিকা অপরিহার্য— প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য থেকেও তা স্পষ্ট।

দেশে যখনই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা ছিল মুখ্য। একটি স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। গত ১৫ মাসের অভিজ্ঞতা তা প্রমাণ করেছে। সাধারণ মানুষের আস্থাও সশস্ত্র বাহিনীর ওপর সর্বোচ্চ পর্যায়ে। সেই কারণেই নির্বাচন নিরাপদ করতে সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা সম্প্রসারণ করে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে রাখছে।

লেখক : এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান

[ নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। দৈনিক কালবেলার সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, দৈনিক কালবেলা কর্তৃপক্ষের নয়। ]
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সিরিয়া থেকে হাজার হাজার বন্দিকে নতুন গন্তব্যে পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আবেদনময়ী রূপে জয়া

আজ নায়করাজ রাজ্জাকের জন্মদিন

এনসিপির এক শীর্ষ নেতাকে দল থেকে অব্যাহতি

কমানোর ঘোষণার এক দিন পর স্বর্ণের দামে বড় লাফ

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ম্যুরালের পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু

পাকিস্তানকে পেয়ে এভাবেই প্রতিশোধ নিল বাংলাদেশ!

চাঁদপুর-৪ আসনে নির্বাচনী সমন্বয়ক যুবদলের তারেকুর

বর্ণাঢ্য আয়োজনে ইডেনে ‘বাণী অর্চনা’ অনুষ্ঠিত

শুক্রবার স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড

১০

আবুধাবিতে রাশিয়া-ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আজ

১১

নিউজিল্যান্ডে দুই কিশোরসহ ছয়জন নিখোঁজ

১২

সুপার সিক্সের সমীকরণের ম্যাচে বোলিংয়ে বাংলাদেশ

১৩

রাঙামাটিতে ট্রাক-সিএনজির সংঘর্ষে নিহত ১

১৪

ঢাকা-৪ আসনে দ্বিতীয় দিনের প্রচারণায় রবিন

১৫

নারীর ভিডিও ধারণের অভিযোগে সালিশে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

১৬

স্বাস্থ্য, ত্বক ও ঘরের যত্নে ছোট্ট জাদু ‘আদা’

১৭

দুঃখ প্রকাশ

১৮

অতিরিক্ত চিন্তা বন্ধ করুন ৬ উপায়ে

১৯

ইরানের ওপর ‘কড়া নজর’ রাখছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

২০
X