কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৫, ০৪:৫২ পিএম
আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৫, ০৬:২২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

শিক্ষা সংস্কার প্রস্তাবনা জানাল ছাত্রশিবির

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। ছবি : কালবেলা
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। ছবি : কালবেলা

শিক্ষা সংস্কার প্রস্তাবনা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, দপ্তর সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ সিবগা, প্রচার সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা সংস্কারে ৩০ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। তাদের দেওয়া প্রস্তাবনার একটি দফায় বলা হয়েছে, শিক্ষা কারিকুলামে নির্দিষ্ট শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। যা শারীরিক শিক্ষা, শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা, শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও দলগত কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে এবং তাদের সামগ্রিক ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন ও আত্মরক্ষায় সহায়ক হবে। এক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে হবে।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব (4IR) উপযোগী বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর, উদ্ভাবনমূলক ও গবেষণাভিত্তিক পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করতে হবে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হলে STEM শিক্ষার সম্প্রসারণ, আকর্ষণীয় পাঠ্যক্রম, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী দক্ষতা, প্রযুক্তি- সচেতনতা ও বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান অপরিহার্য। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পদার্থ বিজ্ঞান, গণিত ও রসায়নের মতো মৌলিক বিষয়গুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে। পাশাপাশি মৌলিক বিভাগগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষক এবং গবেষক নিযুক্ত করতে হবে।’

লিখিত বক্তব্যে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, ‘জাতীয় শিক্ষাক্রমে অবশ্যই বাংলা, ইংরেজি এবং আরবি-(উপজাতিদের/ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জন্য তাদের পছন্দ অনুযায়ী ভাষা) তিনটি ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। পৃথিবীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভাষা যেমন, চাইনিজ, জাপানিজ, স্প্যানিশ, জার্মান ইত্যাদি ভাষা শিক্ষা উৎসাহিত করতে হবে। শিক্ষার মানোন্নয়ন, বৈশ্বিক যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক সমঝোতা, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ, উচ্চশিক্ষা এবং কূটনৈতিক সক্ষমতা অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষা বাংলা, আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজি এবং ইসলামী ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আরবি ভাষায় দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। ইংরেজি ও আরবি ভাষায় দক্ষ শিক্ষকের সংকট দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ভাষা শিক্ষায় শুধু পঠন-পাঠন নয়, বরং শ্রবণ (Listening) ও কথন (Speaking) দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দিতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনে কার্যকর ভাষা-দক্ষতা অর্জন করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষা বাজেটকে জিডিপির ন্যূনতম ৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে হবে, যা গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তির জন্য ব্যবহার করা হবে। শিক্ষা খাতে ২০% বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে এবং বরাদ্দ করা বাজেটের অর্থ পরিকল্পিতভাবে গবেষণা ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করতে হবে। আমাদের বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বেশি। যার ফলে, আমরা চাইলে এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে দক্ষ ও যোগ্য সুনাগরিক তৈরি করতে পারব।’

প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ঝরে পড়া রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বিশেষত, শিশুদের জন্য স্কুল ফিডিং প্রকল্প সম্প্রসারণ, আর্থিক সহায়তা, খেলাধুলার উপর্যুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং অনগ্রসর অঞ্চলগুলোতে ইনসেনটিভ প্যাকেজ (উচ্চ বেতন, বাড়ি ভাড়া, পরিবহন ভাতা) দিয়ে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করতে হবে বলেও প্রস্তাবনায় জানানো হয়।

অপর একটি দফায় জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার সর্বজনীনতা নিশ্চিত করতে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা আবশ্যক। কারণ, BANBEIS অনুযায়ী ২০২২ সালে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার ছিল প্রায় ৩১ শতাংশ। সরকারি অর্থায়ন ও আইনগত বাধ্যবাধকতা ছাড়া এই সংকট নিরসন সম্ভব নয়। ১৯৯০ সালে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। এর ৩৫ বছর হতে চললেও সেটি উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত উন্নীত করা হয়নি। যা জাতি হিসেবে শিক্ষার প্রতি আমাদের উদাসীনতার বহিঃপ্রকাশ। অন্যদিকে প্রথম শ্রেণি থেকে পর্যায়ক্রমে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা বিদ্যমান রয়েছে। সেটিকে খুব দ্রুত পর্যায়ক্রমে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ এবং মেধাবীদের প্রাধান্য নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র শিক্ষা নিয়োগ কমিশন (এডুকেশন সার্ভিস কমিশন) গঠন করতে হবে, যা বিভিন্ন স্তরের নিয়োগ পরীক্ষা, মূল্যায়ন, নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতি পরিচালনার নীতিমালা প্রণয়ন ও পরিচালনা করবে। এর অধীনে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আলাদা পে-স্কেল ঘোষণা করতে হবে।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যুদ্ধক্ষমতা কমানোর প্রস্তাব পাস হওয়ায় ট্রাম্পের ক্ষোভ

সরকারি মালামাল বিক্রি করে ‘চুরির নাটক’ কর্মকর্তার!

২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ–অস্ট্রেলিয়া সিরিজ

শাকিবের লুকে মিমের মুগ্ধতা

দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিতে স্বাধীন গণমাধ্যম প্রয়োজন : দুলু

শ্রীলঙ্কার বৃদ্ধাশ্রমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২ জন নিহত

কত দিন পরপর ছুটি নেওয়া মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, জানাল গবেষণা

পেস বোলিং কোচের পর ফিল্ডিং কোচও হারাচ্ছে বাংলাদেশ

এসিল্যান্ডকে ‘উনি’ সম্বোধন করায় মন্ত্রীকে সম্মাননা দিতে পারলেন না বিএনপি নেতা

বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের গর্ব, ফিফার অফিশিয়াল অ্যালবামে সঞ্জয়

১০

শিক্ষা খাতের বাজেটে আসছে সর্বোচ্চ বরাদ্দ : শিক্ষামন্ত্রী

১১

রাতের মধ্যে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে যেসব অঞ্চলে

১২

লেবাননে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, সার্বিয়ান শান্তিরক্ষী নিহত

১৩

অবশেষে বিতর্কিত ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন বলিউড অভিনেত্রী

১৪

বিশ্বকাপের আগেই পুরস্কার জিতলেন মেসি

১৫

বিদ্যুতের আবাসিক গ্রাহকদের ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বর্ধিত দাম প্রত্যাহার

১৬

কলাটি কত নম্বরের সুতা দিয়ে বাঁধা হয়েছে?

১৭

সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব

১৮

ট্রাক-ইজিবাইক মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ২

১৯

ঢাকায় ২ দিনব্যাপী সার্সোর ১১তম গভর্নিং বোর্ড সভা সম্পন্ন

২০
X