কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৫, ০৭:০২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ফ্যাসিবাদকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করতে নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু হতে হবে : সাকি

গণসংহতি আন্দোলনের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন। ছবি : কালবেলা
গণসংহতি আন্দোলনের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন। ছবি : কালবেলা

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, পতিত ফ্যাসিবাদকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করতে টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর সেজন্য আগামী জাতীয় নির্বাচন হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য।

গণসংহতি আন্দোলনের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে জনগণের মুক্তিসংগ্রাম ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকার বিদায় হয়েছে। কিন্তু ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার এখনো বিদায় হয়নি। চব্বিশের অভ্যুত্থানে শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হলে দরকার ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার নিরসন করা। যে সরকার ও শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সরকারই প্রতিষ্ঠা হয়, আমরা সে ব্যবস্থা বদলের জন্য লড়াই করছি।

তিনি বলেন, আমরা এমন এক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই- যেখানে নাগরিক হিসেবে সবাই আত্মমর্যাদা নিয়ে বসবাস করবে। সুষ্ঠু নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন এখন আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। অধিকার ও মর্যাদার বাংলাদেশ, বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ, জনগণের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আমরা সংগ্রাম করে আসছি। অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর সম্পন্ন করতে হবে।

সাকি আরও বলেন, গত ৫৪ বছরে মানুষের মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আমরা দেখেছি- কীভাবে আমাদের দেশে বিভাজন তৈরি করেছে, কীভাবে আমাদের দেশের মানুষে মানুষে দ্বন্দ্ব লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, কীভাবে আমাদের দেশে ধর্ম-জাতি-লিঙ্গীয় পরিচয়ের দিক থেকে যারা ক্ষমতার মধ্যে প্রান্তিক হয়ে যান, যারা সংখ্যায় কম- তাদের নিপীড়নের শিকার করা হয়েছে, একটা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে তাদের জীবনে- এগুলো মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা বলে না।

তিনি বলেন, আমাদের দল গণসংহতি আন্দোলন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লড়াই করে যাচ্ছে। আমরা দল হিসেবে আমাদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম সংঘটিত করেছি। গত ২৩ বছর ধরে লড়াইয়ে আমাদের সহযোদ্ধারা শহীদ হয়েছেন, জেল খেটেছেন, হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আমরা জাতীয় সম্পদ রক্ষার লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অবিচল থেকে অবিরাম লড়ে গেছি। সামনের দিনেও যেকোনো ফ্যাসিবাদী তৎপরতার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি থাকবে, সেই ফ্যাসিবাদ যে নামে বা রূপেই আসুক না কেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূইয়া, জুলহাসনাইন বাবু, দীপক কুমার রায়, কেন্দ্রীয় সদস্য মিজানুর রহমান মোল্লা, পেশাজীবী সংহতির সংগঠক রুম্মন সিদ্দিকী, সাভার থানার সমন্বয়ক এফ এম নুরু, আশুলিয়া থানা সংগঠক রোকনুজ্জামান মনি, মিরপুর অঞ্চলের যুগ্ম আহ্বায়ক রতন তালুকদার, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহীম চৌধুরী, ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক অনুপম রায় রুপক, ঢাকা মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তুহিন ফরাজীসহ ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ও ঢাকা জেলার বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ডের নেতারা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হোয়াইটওয়াশের মিশনে দুর্দান্ত ব্যাট করছে টাইগাররা

মেক্সিকোতে সশস্ত্র হামলায় মেয়র নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিনের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিলেন প্রফেসর ড. মজিবুল হক

তুরস্কের অঘটনে অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক জয় 

আত্মসমর্পণ করতে সিরাজগঞ্জ যাচ্ছেন আমির হামজা

খুলনায় ফজরের নামাজের সময় মসজিদে ঢুকে গুলি, আহত ২

মহারাষ্ট্রে একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা / আজকের চুক্তি মোজতবা খামেনির কাছে ট্রাম্পের আত্মসমর্পণ

ঘরে ঢুকে নৃশংসভাবে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, নেপথ্যে কী?

নবম পে-স্কেলে সুখবর: দ্বিগুণ হচ্ছে পেনশন, বাড়ছে বিভিন্ন ভাতা

১০

রামিসা হত্যা মামলা / মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২ আসামির জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করলেন হাইকোর্ট

১১

বেদে পল্লীতে এসি-সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে মাদক ব্যবসায়ীর রাজকীয় জীবনযাপন

১২

উদ্বোধনী ম্যাচে ড্র, ব্রাজিলের জন্য বড় অশনি সংকেত!

১৩

কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

১৪

প্রাথমিকের পরীক্ষায় ফি নির্ধারণ

১৫

নোয়াখালীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিল ছাত্রলীগ

১৬

নেইমারের সেই জার্সি পরেই মাঠে ছিলেন সাকিব

১৭

নলকূপ বসাতে গিয়ে ২ শ্রমিকের মৃত্যু

১৮

মমেক হাসপাতালে হাম ও হাম উপসর্গে শিশু মৃত্যু বেড়ে ৫১

১৯

সীমান্তে বিজিবির গুলিতে ভারতীয় চোরাকারবারি আহত

২০
X