রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৫, ১০:৫৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

চব্বিশের বিজয়ীদের কার্যকলাপে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ : কাদের সিদ্দিকী

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। ছবি : কালবেলা
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। ছবি : কালবেলা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বিজয়ীদের কার্যকলাপে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল শহরের নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এ সময় কাদের সিদ্দিকী বলেন, চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিজয় আমি স্বাধীনতার কাছাকাছি বলে মনে করি। সে বিজয়ের সফলতা সব সময়ই কাম্য করি। কিন্তু সেই বিজয়ীদের কার্যকলাপে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ। আমি ভেবেছিলাম তাদের এ বিজয় হাজার বছর চিরস্থায়ী হবে। কিন্তু এক বছরে তাদের বিজয় ধ্বংসের দিকে চলে যাবে— এটি আমরা আশা করিনি।

এ সময় তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে গতকাল মব করে একটি আলোচনা অনুষ্ঠান বানচাল করা প্রসঙ্গেও কথা বলেন। কাদের সিদ্দিকী বলেন, আজকে রিপোর্টার্স ইউনিটিতে একটি আলোচনা সভায় আমাদের নেতা বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকী গিয়েছিলেন। ড. কামাল হোসেন প্রধান অতিথি ছিলেন। জেড আই খান পান্না উপস্থিত ছিলেন। মব দিয়ে তাদের অনুষ্ঠান বানচাল করা হয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক দেশে কারও সভা-সমাবেশ বানচাল করার সাংবিধানিক অথবা আইনগত কোনো সুযোগ নেই। এ ঘটনায় ‘মঞ্চ ৭১’-এর যারা ছিলেন, পুলিশ কমবেশি সবাইকে ধরে নিয়ে গেছে। তাদের সসম্মানে মুক্তি দেওয়া হোক। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. ইউনূসের কাছে আমি আশা করছি।

এ সময় তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারের দোসরদের চাইতে এই স্বৈরাচার তো অনেক বড় স্বৈরাচার। মানুষকে কথা বলতে দিচ্ছে না, মত প্রকাশ করতে দিচ্ছে না। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা সুন্দর ও নিরপেক্ষভাবে একটি ভোট অনুষ্ঠান। ভোটাররা যাতে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে, এটির সংস্কার দরকার, নিরাপত্তা আনা দরকার। আর অন্য কিছু অনির্বাচিত কারও দ্বারাই সম্ভব না এবং উচিত না। সেটা মানুষ মেনে নেবে না।

নিজের বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকী সম্পর্কে কাদের সিদ্দিকী বলেন, লতিফ সিদ্দিকীর জন্ম না হলে টাঙ্গাইলের রাজনীতির অনেক কিছুই হতো না। যেমন বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ হতো না, লতিফ সিদ্দিকীর জন্ম না হলে আমরা রাজনীতিতে আসতাম না। রিপোর্টার্স ইউনিটির ঘটনায় সারা দেশের জেগে ওঠা ও প্রতিবাদ করা উচিত। ঘুমিয়ে থাকলে আমাদের সম্মান, নিরাপত্তা ও ইজ্জত থাকবে না। সারা দেশের মুক্তিযোদ্ধারা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি অথবা অন্য কোনো দলের মুক্তিযোদ্ধা নন, তারা বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা। তারা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন, এ চেতনা তাদের থাকা দরকার।

তিনি বলেন, রাজনীতিকে বাদ দিয়ে এভাবে দেশে মব সৃষ্টি করা, দেশে অরাজকতা করা এবং আইনশৃঙ্খলার পতন ঘটানোর জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বলব, তারা যদি এটা চালাতে না পারে, তাহলে তাদের সরে যাওয়া উচিত। আর যদি ক্ষমতায় থাকেন জনগণের দায়িত্ব নিয়েই ক্ষমতায় থাকতে হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খুলনায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা, আহত ১৫

বাবা-মেয়ের আবেগঘন মুহূর্ত ভাইরাল, মুগ্ধ নেটিজেনরা

ডাচদের বিপক্ষে জয়ে যে রেকর্ড গড়ল লিটনরা

সাকিবের রেকর্ডে ভাগ বসালেন লিটন

বিএনপিপন্থি ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নতুন কমিটি নিয়ে নানা অভিযোগ

জয়ের কৃতিত্ব কাদের দিলেন লিটন?

চায়ের দোকানে আ.লীগ নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে যা বললেন তাসকিন

বগুড়ায় বিক্ষোভ মিছিল থেকে জাপা অফিসে ভাঙচুর

প্রতিটি জেলা থেকে ট্যালেন্ট হান্ট চালু করবে বিএনপি : আমিনুল হক 

১০

ফুল হয়ে ফোটে খাদ্য-অর্থের অভাব মেটাচ্ছে শাপলা

১১

এফইজেবি’র নতুন সভাপতি মোস্তফা কামাল, সম্পাদক হাসান হাফিজ

১২

নুরের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য জানালেন চিকিৎসকরা

১৩

মন খারাপ হলে আমি একা একা কাঁদি: তানজিকা আমিন

১৪

বিএনপি নেতা মিল্টনের নেতৃত্বে সন্দ্বীপে ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ

১৫

নুরের খোঁজ নিলেন আমান উল্লাহ আমান

১৬

ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হতে হবে, টালবাহানা চলবে না : বাবলু

১৭

সংস্কার না হলে আমাদের পরিণতিও নুরের মতো হবে : হাসনাত

১৮

জাতীয় প্রেস ক্লাবে আওয়ামীপন্থি সাংবাদিকদের পুনর্বাসনের চেষ্টা প্রতিহত করা হবে

১৯

২৮ বছর পর মা-বাবাকে ফিরে পেল সন্তান

২০
X