কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:২২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

নির্বাচন ও গণতন্ত্র ফেরানো সবচেয়ে জরুরি : দুদু

‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’র উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সভায় কথা বলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। ছবি : কালবেলা
‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’র উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সভায় কথা বলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। ছবি : কালবেলা

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ব‌লে‌ছেন, বর্তমান সরকার জবাবদিহিমূলক সরকার নয়। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে জবাবদিহিমূলক সরকার গঠন করতে হবে। কারণ, ফ্যাসিবাদ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে না। নির্বাচনকে তারা ভয় পায়। নির্বাচন ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ।

সোমবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’র উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সভায় তি‌নি এ কথা ব‌লেন। ফরিদপুরের মধুখালীতে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে এই সভা হয়।

কোনো দল, সংস্থা যদি মনে করে, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা‌ঁধিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন নস্যাৎ করবে তাহলে তারা ভুল ভাবছে। এটা সম্ভব না। এ দেশে মুসলিম হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই মিলেমিশে থাকে।

শামসুজ্জামান দুদু ব‌লেন, বাংলাদেশ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এই দেশ যে কারণে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তার থেকে যোজন-যোজন দূরে চলে গেছে। বাংলাদেশ প্রধানত গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা এই দেশ অর্জন করেছিলাম। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এ দেশের মানুষের কোনো অধিকার নেই। দেশের জনগণ তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিবে, তার প্রতিনিধি নির্বাচন করবে, সে অধিকার তাদের নেই। ফ্যাসিবাদ এমন একটা জিনিস যারা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত উপেক্ষা করে। ভোটের তো দরকার নেই, তাই সংখ্যাগরিষ্ঠদেরও দরকার নেই। সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধর্মীয় ক্ষেত্রে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে, ভোটের ক্ষেত্রে সব জায়গায় উপেক্ষিত। এত ভয়ংকর একটা পরিস্থিতির মধ্যে দেশকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তার থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন। এই কঠিন অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিএনপির সহযোগী হয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।

তিনি বলেন, জেলে যারা গেছেন তারা জানে বর্তমানে জেল কত কষ্টের। সাধারণ জেল ও ডিভিশন জেলের মধ্যে একটু পার্থক্য থাকতে পারে। গত ছয়টি বছর ধরে বেগম খালেদা জিয়া জেলে আছেন। অনেকেই বলে তিনি বাসায় আছেন। কিন্তু না, এটা বাসা নয়।

কৃষক দলের সাবেক এই আহ্বায়ক বলেন, ফরিদপুরে একটি পরিবারের দুটি সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে। ওই পরিবারকেই ধ্বংস করা হয়েছে। এ দেশে মুসলিম হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই মিলেমিশে থাকে। এ দেশে যদি কোনো দল মুসলিম হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টানদের সম্মান করে সেটা হলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। কেউ যদি মনে করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন নস্যাৎ করবে, তাহলে তারা ভুল ভাবছে। এটি সম্ভব না। গণতন্ত্রের জন্য ’৭১ সালে এ দেশে যুদ্ধ হয়েছে এবং আমরাই জয়ী হয়েছি।

দুদু ব‌লেন, আজ প্রকৃতি আমাদের সাথে বৈরী আচরণ করছে। আমার মনে হয়, জবাবদিহিমূলক সরকার থাকলে প্রকৃতিও সদয় হবে। এই সরকার বন উজাড় করে ফেলেছে, ধ্বংস করে ফেলেছে। এর কোনো জবাবদিহিতা নেই। গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এই বন-জঙ্গল ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে। এই প্রকৃতিও আমাদের সঙ্গে আর বৈরী আচরণ করবে না।

সংগঠনের সভাপ‌তি কে এম র‌কিবুল ইসলাম রিপ‌নের সভাপ‌তি‌ত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, এবি পার্টির সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি- জাগপা’র সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, গণঅধিকার পরিষদের একাংশের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ফারুক হাসান প্রমুখ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই হলের নাম পরিবর্তন

সাবেক ছাত্রদল নেতার ওপর দফায় দফায় হামলার অভিযোগ

জবির হল সংসদে ইসলামী ছাত্রী সংস্থা সমর্থিত প্যানেলের জয়

বিজয়ী হয়ে যা বললেন রিয়াজুল

সুখবর পেলেন বিএনপি নেত্রী রাহেনা

এবার সহযোগিতা চাইলেন আমজনতার তারেক

গোপালগঞ্জে শতাধিক আ.লীগ কর্মীর বিএনপিতে যোগদান

বিশ্বকাপ বাছাইয়ে কবে নামছে বাংলাদেশ, কারা প্রতিপক্ষ—জানাল আইসিসি

এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি করে হত্যার সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেল

১০

শীর্ষ ৩ পদে কত ভোট পেয়ে জিতল ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল

১১

জকসু নির্বাচনে শীর্ষ তিন পদেই ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের জয়

১২

জুলাইয়ে বীরত্ব : সম্মাননা পেল ১২শ আহত, শহীদ পরিবার ও সাংবাদিক

১৩

পাকিস্তানের আকাশসীমায় অসুস্থ হওয়া বিমানের যাত্রীর মৃত্যু, তদন্তের মুখে পাইলট

১৪

ফারহানের ফিফটিতে লঙ্কান দুর্গে পাকিস্তানের দাপুটে জয়

১৫

আয় ও সম্পদ নিয়ে অপপ্রচার, মুখ খুললেন নাহিদ ইসলাম

১৬

৪৮৯ উপজেলায় বিজিবি মোতায়েন থাকবে

১৭

ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যায় মামলা, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

১৮

কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল আবছারকে কারাদণ্ড

১৯

‘সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীরা বাড়ির বাইরে থাকতে পারবে না’

২০
X