কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৪, ১০:৫২ পিএম
আপডেট : ০৪ জুন ২০২৪, ১১:০৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ওষুধের দাম বৃদ্ধি নিয়ে বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদকের বিবৃতি

বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত
বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত

গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে যখন দিশেহারা দেশের জনগণ তখন ওষুধের দাম বৃদ্ধি করে দেশের জনগণকে এক নির্মম পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে এই সরকার বলে এক বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম। ন্যাশনাল হেলথ অ্যাকাউন্টের তথ্যমতে, চিকিৎসা ব্যয়ের ৭০ শতাংশ ব্যক্তির পকেট থেকে খরচ হয়, সেই ওষুধের দাম বৃদ্ধি করে যেন নির্মম এক প্রহসনের আয়োজন করল জনবিচ্ছিন্ন এই সরকার।

২০২২ সালে কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়া শুধু ওষুধ কোম্পানিগুলোর সুপারিশে ২০টি জেনেরিকের ৫৩টি ওষুধের দাম বৃদ্ধি করে ওষুধ প্রশাসন, যা ছিল নজিরবিহীন। সে সময় প্যারাসিটামল, হৃদরোগ, ব্যথানাশক ও গ্যাস্ট্রিকের ওষুধের দাম ৫০-১৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এরপর ২০২৩ সালে আরেক দফায় ২৩৪টি জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম ১০ থেকে ৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল।

ওষুধের দাম বৃদ্ধির এই রেশ কাটতে না কাটতেই দৈনিক একটি পত্রিকা সূত্রে জানা যায়, অতি সম্প্রতি পুনরায় কয়েক মাসের ব্যবধানে দু’শতাধিক ওষুধের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে কমপক্ষে ২০ শতাংশ।

ডলারের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে এই দাম বাড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি। ভঙ্গুর অর্থনীতি ও লুটপাটের রাজনীতির বলি হচ্ছে সাধারণ জনগণ। ওষুধ প্রশাসন এসব ক্ষেত্রে নীরব।

এভাবে হুট করে দামবৃদ্ধির কারণে অনেকেই মাঝপথে ওষুধ সেবন বন্ধ করে দিচ্ছে, ফলে নানা রকম স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডায়াবেটিস কিংবা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের দাম বাড়ার কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এইসব ওষুধ বন্ধ করে দেওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে স্ট্রোক, হৃদরোগসহ নানা অসংক্রামক রোগের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে।

দাম বৃদ্ধি পেয়েছে জীবন রক্ষাকারী এন্টিবায়োটিকেরও। কোর্স সম্পন্ন না করে এন্টিবায়োটিক বন্ধ করলে এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স তৈরি হচ্ছে যা শীর্ষ ১০টি জনস্বাস্থ্য হুমকির একটি। একই সঙ্গে ডায়াবেটিস কিংবা হৃদরোগের ওষুধের দাম বৃদ্ধিতে মারাত্মক ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। যারা দীর্ঘ মেয়াদি রোগে ভুগছেন নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার জন্য তাদের মাসিক খরচ ২-৪ হাজার টাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিত্যনৈমিত্তিক পণ্য কেনা নিয়ে যখন নাভিশ্বাস তখন জীবন রক্ষাকারী ওষুধ কেনাটা সাধারণ মানুষের জন্য বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।

১৯৮২ সালের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১১ (১) ধারা অনুযায়ী স্পষ্ট বলা আছে "সরকার অফিসিয়াল গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে ওষুধের দাম নির্ধারণ করতে পারবে।" অথচ এই নিয়মের তোয়াক্কা না করে ২০২২ সালেই ওষুধ প্রশাসন দাম বাড়িয়েছে ২ বার। এরপর ২০২৩ ও ২০২৪ সালে আরও ২বার।

এভাবে দেশের প্রতিটি খাত ধ্বংসের সম্মুখীন। চিকিৎসা মৌলিক অধিকার তাও আজ ক্ষুণ্ন হচ্ছে। নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত এই সরকার কোনোভাবেই দেশের সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা না করে এক চরম দুর্যোগের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

এভাবে চলতে পারে না। অবিলম্বে স্বাস্থ্য খাতে এই বেহাল দশার সঙ্গে জড়িত অবৈধ সরকারের কুশীলবদের জবাবদিহিতার মুখোমুখি করতে হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গুদামে আটকা ৩৪০ টন চাল / মেয়াদোত্তীর্ণ ডিওতে খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত উপকারভোগীরা

‘লোকসানের আলু’ মহাসড়কে, হিমাগার ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে অবরোধ

বিছানায় মুক্তিপণের চিঠি, ময়লার ভাগাড়ে মিলল শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ

ঢাকার ১২০ গুরুত্বপূর্ণ স্পটে বসছে এআই ক্যামেরা

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বিরতির পরও এগিয়ে আছে কলম্বিয়া

পারমাণবিক অস্ত্র ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নিল ইরান

ধর্ষণে শিশু অন্তঃসত্ত্বার ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সেই নেতাকে অব্যাহতি

২০৩০ বিশ্বকাপ খেলবেন কি না, নিজেই জানালেন মেসি

তেলের দাম আবারও কমেছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রভাবে বাজারে স্বস্তি

তিন দিন ধরে নিখোঁজ গৃহবধূ, থানায় জিডি

১০

নতুন দায়িত্বে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ

১১

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার ১৪ দফা প্রকাশ, কে কী সুবিধা পেল

১২

নাজমুলের মরদেহ পুড়িয়ে কয়লা বানাতে চেয়েছিল খুনিরা

১৩

মেসির রেকর্ড ভেঙে লিনেকারের পাশে হ্যারি কেইন

১৪

ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই, হাসপাতালে ভর্তি ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী কোচ 

১৫

নবম পে স্কেলের খসড়া চূড়ান্ত, বেতন-ভাতা-পেনশনে বড় পরিবর্তন

১৬

শরীয়তপুরে মহাসড়কে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল

১৭

৯৫তম মিনিটের গোলে পানামাকে হতাশায় ডুবাল ঘানা

১৮

ফ্ল্যাটে নারীর গলাকাটা মরদেহ, স্বামী পলাতক

১৯

ক্রিকেটার নাঈম হেনস্তা ঘটনায় পাঁচ দিনেও মামলা হয়নি

২০
X