খুশির মুহূর্ত উদযাপনে কত আয়োজনই না করে থাকে মানুষ। অনেকে এমন কিছু করে বসেন, যা রীতিমতো ভয়ংকর। তেমনি এক ঘটনা সম্প্রতি সবাইকে নাড়িয়ে দিয়েছে। গুলি ছুড়ে বিয়ের খুশি উদযাপন করছিলেন কনের আত্মীয়রা। আর সে গুলিতেই বিদ্ধ হলেন নববিবাহিত বর। ঘটনাটি ঘটেছে তুরস্কের উত্তরাঞ্চলে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে।
বুধবার (২৭ আগস্ট) কৃষ্ণসাগর উপকূলবর্তী গিরেসুন প্রদেশের শেবিনকারাহিসার শহরে ঘটেছে এ মর্মান্তিক ঘটনা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ২৩ বছরের নববিবাহিত বর আলি কারাকা। ঠিক সেই সময় হঠাৎ গুলির শব্দে স্তব্ধ হয়ে যায় চারপাশ। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন কারাকা।
ধারণা করা হচ্ছে, কনের পরিবারের ৪৭ বছর বয়সী এক নারী আত্মীয় উল্লাসের অংশ হিসেবে গুলি চালালে বর সেই গুলিতে বিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে আর বাঁচানো যায়নি।
পুলিশ ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার ব্যাগ থেকে দুটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে প্রসিকিউটর অফিস।
গুলিবর্ষণ করে বিয়ে উদযাপন নতুন নয়
তুরস্কে গুলিবর্ষণ করে বিয়ে উদযাপন নতুন কোনো ঘটনা নয়। এমনকি কখনো কখনো তা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনারও কারণ হয়েছে। মাত্র গত সপ্তাহেই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রাবজোন প্রদেশে এক বিয়ের অনুষ্ঠান শুরুর আগেই উল্লাস করার সময় গুলিতে প্রাণ হারান এক ব্যক্তি, আহত হন আরও দুজন। সেই ঘটনায় বিয়ে বাতিল করতে বাধ্য হয় পরিবার। গ্রেপ্তার করা হয় দুজনকে, যাদের মধ্যে একজন ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা।
২০১৮ সালে মধ্য তুরস্কের কনিয়া শহরের উপকণ্ঠেও ঘটেছিল চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনা। সেবার স্থানীয় চিকিৎসক হাসান আকদেমির (৩৯) কোমরে রাখা বন্দুক দিয়ে আকাশে গুলি ছুড়ছিলেন আনন্দ প্রকাশে। কিন্তু বন্দুক হঠাৎ কাজ না করায় সেটি পরীক্ষা করতে গিয়ে উল্টো নিজের মাথায় গুলি চালান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয়।
আইন থাকলেও রোধ করা যাচ্ছে না
তুরস্কে বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানে গুলি ছোড়া আইনত নিষিদ্ধ। সরকারি সতর্কতা ও প্রচারণা চললেও বিশেষত কৃষ্ণসাগরীয় ও গ্রামীণ প্রদেশগুলোতে এই বিপজ্জনক অভ্যাস এখনো চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক সংস্কৃতির অংশ হিসেবে ‘শক্তি ও আনন্দ প্রদর্শন’ করতে গিয়ে অনেকেই এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু তার ভয়াবহ মূল্য দিতে হচ্ছে নিরীহ মানুষকে। প্রতি বছরই ঘটছে প্রাণহানি, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনে করে, কঠোর নজরদারি ও শাস্তির ব্যবস্থা ছাড়া এ প্রাণঘাতী রেওয়াজ বন্ধ করা সম্ভব নয়।
নববিবাহিত বর আলি কারাকার মৃত্যুতে শোকাহত পরিবার বলছে, এক দিনেই ভেঙে গেছে তাদের সব স্বপ্ন। আনন্দের আয়োজন মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে কান্নার সাগরে। আর দেশজুড়ে নতুন করে প্রশ্ন জেগেছে—‘তুরস্কে বিয়ের উল্লাসের গুলি কবে থামবে?’
মন্তব্য করুন