

কখনো কখনো প্রস্রাবের দুর্গন্ধ অনুভব করা যেতে পারে, যদিও কোনো ব্যথা বা অসুবিধা নেই। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণত খাবারের অভ্যাস বা নেওয়া ওষুধই দায়ী হতে পারে। তবে ব্যথা ছাড়া দুর্গন্ধ কখনো কখনো গোপন কোনো স্বাস্থ্য সমস্যারও সংকেত হতে পারে।
প্রস্রাব মূলত একটি তরল বর্জ্য, যা কিডনি রক্ত ও শরীরের টিস্যু থেকে শোধিত হয়ে শরীর থেকে বের হয়। স্বাভাবিকভাবেই এটি তেমন ভালো গন্ধযুক্ত নয়। কিন্তু কখনো কখনো প্রস্রাবে মিষ্টি, মাছের মতো, দুর্গন্ধযুক্ত বা তিক্ত গন্ধ হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি খাবার বা জল কম পান করার কারণে হয়।
কিছু ক্ষেত্রে এটি সংক্রমণ বা অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যারও লক্ষণ হতে পারে।
প্রস্রাবের দুর্গন্ধের সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো খাবার। কিছু খাবারে এমন রাসায়নিক যৌগ থাকে যা প্রস্রাবের গন্ধ পরিবর্তন করতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, অ্যাসপারাগাস খেলে অনেকের প্রস্রাবে আলাদা ধরনের দুর্গন্ধ দেখা যায়। গবেষণা অনুযায়ী, অ্যাসপারাগাস খাওয়ার ৭ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে গন্ধ অনুভূত হতে পারে।
অন্যান্য খাবার যা প্রস্রাবের গন্ধ প্রভাবিত করতে পারে- রসুন, মাছ ও মাংস, বাঁধাকপি, ব্রকোলি, কেল, ব্রাসেলস স্প্রাউটস, ফুলকপি, কিছু মসলা, ডিম, অ্যালকোহল, চিজ, কফি ও শিম জাতীয় খাবার।
যদি মনে হয় কোনো খাবার দায়ী, কয়েক দিন তা বাদ দিয়ে দেখুন গন্ধ পরিবর্তিত হয় কিনা। এসব খাবার চিরকাল বাদ দিতে হবে না, তবে জানা উচিত যে, এগুলো প্রস্রাবের গন্ধে প্রভাব ফেলতে পারে।
যদি পর্যাপ্ত জল পান না করা হয়, প্রস্রাবের জল ও রাসায়নিকের অনুপাত কমে যায়। ফলে রাসায়নিকগুলো গন্ধ উৎপন্ন করতে পারে। পর্যাপ্ত পানি প্রস্রাবকে হালকা ও কম দুর্গন্ধযুক্ত রাখে।
ডিহাইড্রেশনের অন্যান্য লক্ষণ
-গাঢ় প্রস্রাব
-মুখ শুকানো
-ক্লান্তি
-মাথা ব্যথা
-ত্বক শুষ্ক হওয়া
-অতিরিক্ত তৃষ্ণা
প্রস্রাবের গন্ধ পরিবর্তনের আরেকটি সাধারণ কারণ হলো ইউরিনারি ট্র্যাক্ট সংক্রমণ। সংক্রমণের কারণে প্রস্রাবে ব্যাকটেরিয়া বেড়ে যেতে পারে।
ইউরিনারি ট্র্যাক্টের বিভিন্ন অংশে সংক্রমণ ছড়িয়ে যেতে পারে, যেমন ব্লাডার বা কিডনি। মহিলাদের ক্ষেত্রে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট সংক্রমণ বেশি দেখা যায় কারণ ইউরেথ্রা ছোট।
UTI-এর অন্যান্য সাধারণ লক্ষণ
-প্রস্রাব করার সময় জ্বালা বা ব্যথা
-বেশি ঘনঘন প্রস্রাব
-প্রস্রাব কাদা বা ঘোলা দেখা
-যৌন সংক্রমণ (STI)
কিছু যৌন সংক্রমণ যেমন ক্ল্যামিডিয়া ও ট্রাইকোমোনিয়াস প্রস্রাবের গন্ধ পরিবর্তন করতে পারে।
এই সংক্রমণে প্রস্রাবের সঙ্গে অস্বাভাবিক রস সৃষ্টি হতে পারে।
কখনো ব্যথা বা পোড়াদাহও দেখা দিতে পারে।
কিছু ওষুধ, ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্টও প্রস্রাবের গন্ধ পরিবর্তন করতে পারে।
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, সংক্রমণ বা ডায়াবেটিসের জন্য ব্যবহৃত কিছু ওষুধ প্রস্রাবের গন্ধ প্রভাবিত করে।
ভিটামিন B (যেমন থায়ামিন, কোলিন) অতিরিক্ত রাসায়নিক যুক্ত করে প্রস্রাবের গন্ধ বদলে দিতে পারে।
-নিয়ন্ত্রিত না হলে ডায়াবেটিস প্রস্রাবের গন্ধ প্রভাবিত করতে পারে।
-বেশি চিনিযুক্ত প্রস্রাব ফ্রুটি বা মিষ্টি গন্ধের হতে পারে।
-ডায়াবেটিসের কিছু ওষুধ, যেমন সালফোনাইলউরিয়া, প্রস্রাবের গন্ধ পরিবর্তন করতে পারে।
-ডায়াবেটিস থাকলে প্রস্রাবের গন্ধ পরিবর্তনের বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
-কিডনি বা লিভারের সমস্যা
মনে রাখবেন, কিডনি ও লিভার শরীরের বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ।
এগুলো ঠিকভাবে কাজ না করলে প্রস্রাবের রঙ, ঘনত্ব ও গন্ধ পরিবর্তিত হতে পারে।
-কিডনির পাথর
-কিডনি রোগ
-ট্রাইমেথাইলামিনিউরিয়া
এ ক্ষেত্রে সাধারণত পেটের ব্যথা ও অন্যান্য লক্ষণও দেখা দেয়।
ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস (যোনিতে থাকা ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হলে মাছের মতো গন্ধযুক্ত রস হতে পারে)
গর্ভাবস্থা
ডিম্বস্ফোরণ (Ovulation)
নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন :
-প্রস্রাব বেশি ঘনঘন বা অতিরিক্ত প্রলেপযুক্ত
-প্রস্রাব কাদা বা ঘোলা
-প্রস্রাব করার সময় পোড়াদাহ বা ব্যথা
সাধারণত, দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব উদ্বেগের বিষয় নয়। অনেক সময় এটি অস্থায়ী এবং পানির যথাযথ ব্যবহার করলে গন্ধ হ্রাস পায়।
যদি প্রস্রাবের গন্ধ কিছুদিনে ঠিক না হয়, বা কোনো স্পষ্ট কারণ না থাকে, অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র : Health line
মন্তব্য করুন