ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা ও উত্তর গাজার সব বেকারি বন্ধ হয়ে গেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আলজাজিরা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজা উপত্যকা ও উত্তর গাজার সব বেকারি পরিসেরার বাইরে চলে গেছে। এ অঞ্চলের সরকার এসব বেকারি বন্ধ করে দিয়েছে। বেকারিকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের হামলা এবং ময়দা ও তেল সংকটের কারণে এগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।
এর আগে গত মাসে অক্সফাম অভিযোগ করে, ইসরায়েল যুদ্ধে ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এজন্য তারা গাজায় খাবার, পানি, বিদ্যুৎ ও তেলের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
গাজায় ইসরায়েল হামলা শুরুর পর সেখানে সকল প্রকার খাদ্য ও তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এরপর গত ২১ অক্টোবর মিসরের রাফাহ সীমান্ত দিয়ে গাজায় প্রথম ত্রাণের ট্রাক প্রবেশ করে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত সেখানে ৫৬৮টি ত্রাণের ট্রাক প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে উত্তর গাজায় এখনো কোনো ট্রাক প্রবেশ করেনি।
দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর আগে গাজায় প্রতিনিয়ত ৭৫০ থেকে ৮৫০টি ট্রাক প্রবেশ করত।
এদিকে ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে হিসাব-নিকাশ কষতে বসেছে বিভিন্ন দেশ। এসব দেশের তালিকায় যেমন বিভিন্ন আরব দেশ রয়েছে, তেমনি রয়েছে অনারব দেশও। গাজায় নির্বিচারে ইসরায়েলি বোমা হামলার প্রতিবাদে এখন পর্যন্ত বিশ্বের ৯টি দেশ তেলআবিব থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এমনকি একটি দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক পর্যন্ত ছেদ করেছে।
গত ৭ অক্টোবর গাজা থেকে ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। হামাসের হামলার জবাবে গাজায় টানা বিমান হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। অব্যাহত বোমাবর্ষণের মধ্যেই এবার সেখানে বড় ধরনের স্থল হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি সেনারা।
গাজা টানা ৩১ দিনের অব্যাহত বোমাবর্ষণে নিহত মানুষের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। তাদের প্রায় অর্ধেকই শিশু।
সোমবার (৬ নভেম্বর) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত গাজায় ১০ হাজার ২২ জন মানুষ নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ হাজার ১০৪ জন শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ২৫ হাজারের বেশি মানুষ। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ১৮টি হামলা করেছে ইসরায়েল। এসব হামলায় ২৫২ জন মানুষ নিহত হয়েছে। এ ছাড়া এখনো অনেকের মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। এই সংখ্যা দুই হাজারের মতো হতে পারে। ভারী যন্ত্রপাতি না থাকায় তাদের লাশ উদ্ধার করা যাচ্ছে না।
এ ছাড়া যুদ্ধ শুরুর পর গাজায় পূর্ণ অবরোধ আরোপ করে রেখেছে ইসরায়েলি সেনারা। এর ফলে সেখানে চরম মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবি চড়াও হলেও তাতে কর্ণপাত করছে না নেয়ানিয়াহু সরকার। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েল থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছে ৯টি দেশ।
এই ৯ দেশ হলো—বাহরাইন, বলিভিয়া, চাদ, চিলি, কলম্বিয়া, হন্ডুরাস, জর্ডান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও তুরস্ক। এদের মধ্যে বলিভিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।
মন্তব্য করুন