শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২
রাজকুমার নন্দী
প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০২৪, ০২:৪৮ এএম
আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:৩৩ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

আরও চাঙ্গা বিএনপি বার্তা দিল সরকারকে

বিপ্লব ও সংহতি দিবসের র‌্যালি
আরও চাঙ্গা বিএনপি বার্তা দিল সরকারকে

দীর্ঘদিন পর মুক্ত পরিবেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শোভাযাত্রা করেছে বিএনপি। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গত শুক্রবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এ শোভাযাত্রায় দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। র‌্যালিটির সম্মুখভাগ যখন গন্তব্যস্থল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছায়, তখনো শেষভাগের নেতাকর্মীরা মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ছিলেন। এই শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে ফের চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। দলটির দাবি, শোভাযাত্রায় স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জনগণ পতিত ফ্যাসিবাদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার বার্তা দিয়েছে এবং তারা যে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে, সরকারকে সেই বার্তাও দিয়েছে। এখানে কোনো বিলম্ব করা যাবে না। এ ছাড়া মানুষ এই বার্তাও দিয়েছে যে, তারা বাংলাদেশে বিএনপির বিকল্প কিছু চিন্তা করে না। অন্যদিকে বিএনপির বার্তা হচ্ছে, তারা যে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি, শোভাযাত্রায় লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সেটা ফের প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং বিএনপিকে বাদ দিয়ে কিংবা বাইরে রেখে কোনো কিছু করা যাবে না। এটা দেশের মানুষ কখনোই মেনে নেবে না।

বিএনপি নেতারা বলছেন, বিএনপি হচ্ছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান সহায়ক শক্তি। সুতরাং অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের যেসব উদ্যোগ বা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, সেগুলো বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করেই নিতে হবে। বিএনপি যৌক্তিক সব বিষয়ে সরকারের পাশে থাকবে। কয়েক লাখ লোকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে সেই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যদিকে দ্রুত নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা ইস্যুতে সরকারের ওপর পরোক্ষ চাপ সৃষ্টির জন্য র‌্যালির মধ্য দিয়ে বিএনপি সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করেছে বলে অভিমত অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। একটি অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে বিএনপি শুরু থেকেই এ সরকারকে সহযোগিতা করছে। সরকার রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও মেয়াদের তিন মাসেও নির্বাচনী রোডম্যাপের বিষয়টি স্পষ্ট করেনি। এ নিয়ে বিএনপি নেতাদের নানা বক্তব্যে আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে দলটির দূরত্ব তৈরি হচ্ছে; কিন্তু সরকারের সঙ্গে কার্যত তাদের কোনো দূরত্ব নেই। বিএনপি নেতারা বলছেন, এটি একটি মৌলিক বিষয়। তারা সরকারকে সহযোগিতা করতে চায়। সরকারকে সঠিক রাস্তায় রাখার জন্য তারা সমালোচনাও করবে। সরকারের এখন মূল টার্গেট হওয়া উচিত একটি অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন। বিএনপি সেই দাবিই জানাচ্ছে। দ্রুত একটি রোডম্যাপ দিয়ে সেটা সরকারকে স্পষ্ট করা উচিত। কারণ, দেড় দশক ধরে ভোটাধিকার বঞ্চিত জনগণ এখন ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছে। দলটি বলছে, বিএনপির শোভাযাত্রায় স্বতঃস্ফূর্ত ও সাবলীল অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জনগণ সরকারকে সেই বার্তাই দিয়েছে।

বিএনপির স্বতঃস্ফূর্ত র‌্যালি প্রসঙ্গে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ কালবেলাকে বলেন, জনগণ র‌্যালিতে ব্যাপক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে এ বার্তা দিয়েছে যে, তারা নির্বাচিত সরকার দ্বারা শাসিত হতে চায়। আর আমরা এই বার্তা দিতে চাই যে, গণতান্ত্রিক পথে হাঁটতে যত দেরি হবে, তত রাষ্ট্রের সমস্যা বৃদ্ধি হবে। আমরা সরকারকে সহযোগিতা করব, একই সঙ্গে সরকারকে সঠিক রাস্তায় রাখার জন্য সমালোচনাও করব।

তিনি আরও বলেন, সরকারকে নির্বাচনমুখী প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি একই সঙ্গে নিতে হবে। এখানে বিলম্ব করা যাবে না। অন্যথায় অপশক্তি ষড়যন্ত্র করার সুযোগ পাবে। তাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কর্মকাণ্ড শুরু করা খুব প্রয়োজন। সেজন্য জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আমাদের র‌্যালিটা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ করেছি। এর মধ্য দিয়ে এই ইশারা-ধারণাটি দিয়েছি যে, আমরা খুব শিগগির নির্বাচিত সরকার দেখতে চাই।

চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সরকারকে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। অন্যথায় আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলে নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে কর্মসূচি নিয়ে সোচ্চার হবে দলটি। গত সোমবার অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে নির্বাচন ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনার পর এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিএনপি মনে করছে, আওয়ামী সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলেও তাদের এবং তাদের দোসরদের ষড়যন্ত্র এখনো থেমে নেই। দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করে তারা অন্তর্বর্তী সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চায়। তাই অবিলম্বে সরকারকে নির্বাচনী পথে হাঁটতে হবে। নির্বাচিত সরকার আসলে তখন এগুলো আরও কঠোর হস্তে দমন করা সম্ভব হবে।

বিএনপি নেতারা মনে করছেন, ফ্যাসিবাদী চক্রান্ত মোকাবিলা এবং নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি—এই দুটি বিষয়ে তাদের ধারাবাহিকভাবে মাঠে থাকতে হবে। তাই বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চলমান ১০ দিনের কর্মসূচি শেষে দলটি আবারও নতুন কর্মসূচি দেবে, যাতে কেউ কোনো ষড়যন্ত্রের ‍সুযোগ না পায়। এর অংশ হিসেবে বিএনপি নেতারা এখন বিভিন্ন সেমিনার ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে এই দুটি বিষয় সামনে নিয়ে আসছেন। বিপ্লব ও সংহতি দিবসের শোভাযাত্রাপূর্ব সমাবেশেও এ বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তির ষড়যন্ত্র থেমে নেই জানিয়ে এর বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সমাবেশে লন্ডন থেকে ভার্চুয়াল বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি ঐক্যবদ্ধ থাকলে আর কেউ দেশের স্বাধীনতাকে বিপন্ন করতে পারবে না। অন্যদিকে র‌্যালির সমাপনী বক্তব্যে অতি দ্রুত নির্বাচনের তাগিদ দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি গণতন্ত্রকে লালন করে জানিয়ে দলটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু কালবেলাকে বলেন, মানুষ মনে করে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নেতৃত্ব সঠিক। সে কারণে তাদের নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল এবং গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে বিএনপির র‌্যালিতে গণমানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্য দিয়ে জনগণ এই বার্তা দিয়েছে যে, তারা বাংলাদেশে বিএনপির বিকল্প কোনোকিছু চিন্তা করে না। গণতন্ত্রকামী মানুষের ৭ নভেম্বরের র‌্যালিতে সম্পৃক্ত হওয়ার এটা মূল কারণ।

তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে গণমানুষের দল বিএনপি এবং দেশের জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। সে কারণে আগামী নির্বাচনের ভোটে অংশগ্রহণ করার জন্য জনগণ উন্মুখ হয়ে বসে আছে। তারা দ্রুততম সময়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়, যে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নিজেদের পছন্দমতো সরকারকে তারা ক্ষমতায় বসাতে পারে। যে সরকার গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে তাদের অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করবে।

বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা আরও বলেন, র‌্যালিতে ব্যাপক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জনগণ এই বার্তাও দিয়েছে যে, পতিত স্বৈরাচার-ফ্যাসিবাদ নানাভাবে ষড়যন্ত্র করছে। এই ষড়যন্ত্রকে তারা যে কোনো পরিস্থিতিতে রুখে দেবে।

বিএনপির স্বতঃস্ফূর্ত র‌্যালি প্রসঙ্গে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, এই র‍্যালিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সর্বস্তরের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে। ফলে বিএনপির প্রতি জনগণের আস্থার ফের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। বিএনপি গণমানুষের দল হিসেবে দিন দিন আরও জনপ্রিয় হচ্ছে। এই র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারী জনতা একটি অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রে উত্তরণের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আসিফ নজরুলকে তুলোধোনা করলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিল গণঅধিকার পরিষদ

ইংল্যান্ড সফরের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা

নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী নেদারল্যান্ডস কোচ

‘মার্চ টু জাতীয় পার্টি অফিস’ ঘোষণা

‘নুরের ওপর হামলা পক্ষান্তরে জুলাই অভ্যুত্থানের ওপর হামলা’

লজ্জাবতী বানরের প্রধান খাদ্য জিগার গাছের আঠা!

নুরের শারীরিক সর্বশেষ অবস্থা জানালেন রাশেদ

আকাশ বহুমুখী সমবায় সমিতি ১৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

শ্রীমঙ্গলে পর্যটক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ 

১০

মৌলিক সংস্কার শেষে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে হবে : ডা. তাহের

১১

২০ বল করার জন্য ৩৪ হাজার কিলোমিটার উড়ে যাচ্ছেন অজি স্পিনার

১২

সড়কে নিয়ম ভাঙার মহোৎসব / যানজট নিরসনে ভুমিকা নেওয়ায় সুবিধাভোগীদের রোষানলে পুলিশ কর্মকর্তা

১৩

বালু উত্তোলনের লাইভ প্রচার করায় নির্যাতন

১৪

দেয়াল-পিলারে ফাটল, মেঝেও ধসে গেছে সৈয়দপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের

১৫

কাকরাইল রণক্ষেত্র, পুলিশি প্রটোকলে কার্যালয় ছাড়লেন জিএম কাদের

১৬

‘প্ল্যান-বি হলো জাতীয় পার্টির ওপর ভর করে লীগকে ফেরানো’

১৭

নদী ভাঙনের কবলে আশ্রয়ন প্রকল্প ও ৭১ পরিবার

১৮

নুরের ওপর হামলা, রাতেই বিক্ষোভের ডাক এনসিপির

১৯

রাকসু নির্বাচনে মনোনয়ন বিতরণ শেষ রোববার

২০
X