শফিকুল ইসলাম
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৩, ০২:৪৬ এএম
আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৩, ১০:৪৭ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার টার্গেট বিএনপির

২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশ
বিএনপির লোগো। গ্রাফিক্স কালবেলা
বিএনপির লোগো। গ্রাফিক্স কালবেলা

আগামী ২৮ অক্টোবর শনিবার ঢাকায় মহাসমাবেশের চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করছে বিএনপি। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনারকে অবহিত করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মহাসমাবেশে দলের নেতাকর্মী ছাড়াও সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করতে চান দলটির নীতিনির্ধারকরা। মহাসমাবেশ ও পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচি সফলে সাংগঠনিক বিভাগভিত্তিক ১০টি টিম গঠন করেছে বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির পাঁচ সদস্যকে এসব টিমের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এসব টিমের অধীনে ৮১টি সাংগঠনিক জেলায় একজন করে কেন্দ্রীয় নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এ ছাড়া দু-এক দিনের মধ্যেই ২৮ অক্টোবর নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেবে বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামী। বিএনপির সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জামায়াতের শীর্ষ একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।

মহাসমাবেশ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, মহাসমাবেশের জায়গা পার্টি অফিসের (নয়াপল্টনে) সামনে চেয়েছি। যেটা স্বাভাবিক নিয়ম এবং নিয়মের মধ্যেই চিঠি দিয়েছি, বিষয়টি ডিএমপিকে অবগত করেছি। এটা হচ্ছে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উপায়, আইনসংগতভাবে সেটা করেছি। এখন সরকার ও ডিএমপির দায়িত্ব এই মহাসমাবেশের নিরাপত্তাসহ যা কিছু করার, তা করবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, এখন পর্যন্ত কোথাও আমাদের দ্বারা অশান্তি সৃষ্টি হয়নি। আমি পুলিশ প্রশাসনকে বলতে চাই, আপনারা কোথাও অহেতুক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করবেন না। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি, তাতে বাধার সৃষ্টি করবেন না। এটা সম্পূর্ণভাবে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিএনপি এখন বাঁচা-মরার আন্দোলনে। তাদের টার্গেট আগামী শনিবার ঢাকায় শান্তিপূর্ণভাবে মহাসমাবেশ সফল করা ও দাবি আদায় করা। এজন্য ঢাকার বাইরের প্রায় সব জেলা থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসবেন। সেইসঙ্গে দেশের সাধারণ মানুষ যারা গত ১৫ বছরে এই সরকারের আমলে নানাভাবে নির্যাতিত, বঞ্চিত; তাদেরও মহাসমাবেশে সম্পৃক্ত করা হবে। যদিও এটা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে দাবি আদায়ে মহাসমাবেশ সফল করতে যা করার দরকার, বিএনপির হাইকমান্ড তা-ই করতে প্রস্তুত। প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলন দিতেও পিছপা হবে না।

ঢাকায় মহাসমাবেশ সফল করতে বিভাগভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা হলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সেলিমা রহমান। তাদের প্রত্যেককে দুটি করে বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্যের নেতৃত্বাধীন এসব টিমের অধীনে থাকবে সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক জেলাগুলো। প্রতিটি জেলায় আন্দোলনে দলনেতার দায়িত্ব পালন করবেন কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন নেতা। ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সম্পাদক পর্যায়ের নেতাদের মধ্য থেকে এই দলনেতা করা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্তরা ইতোমধ্যে কাজও শুরু করেছেন।

গত ১৮ অক্টোবর সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্ত, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের একদফা দাবিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নয়াপল্টনের সমাবেশ থেকে ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশের ঘোষণা দেন। একইভাবে বিএনপি ছাড়াও সেদিন ঢাকায় গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, গণফোরাম-পিপলস পার্টি, এলডিপি, এনডিএম, লেবার পার্টিসহ বিভিন্ন সমমনা দল আলাদা আলাদাভাবে মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে। ওই মহাসমাবেশ সফল করতে দলের অঙ্গসংগঠন এবং ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোর নেতাদের নিয়ে গতকাল যৌথসভা করেছেন বিএনপি মহাসচিব। বিভিন্ন প্রস্তুতি সভা অব্যাহত রয়েছে।

বিএনপির দুজন সাংগঠনিক সম্পাদক কালবেলাকে বলেন, মহাসমাবেশ সফল করতে তারা সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা মতবিনিময় করছেন।

দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি বলেন, তারা ঢাকার মহাসমাবেশ সফল করতে সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন। তার জেলা থেকেই কয়েক হাজার নেতাকর্মী মহাসমাবেশে আসবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নোয়াখালী জেলা বিএনপির উপদেষ্টা প্রকৌশলী একেএম আমিরুল মোমিন বাবলু কালবেলাকে বলেন, বিএনপি এখন আন্দোলনের যে পর্যায়ে উপনীত হয়েছে, তাতে পিছু হটার সুযোগ নেই। এবার সম্মিলিতভাবে এই সরকারকে একটা ধাক্কা দিলেই তাদের বিদায় নিশ্চিত হবে।

নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী মোস্তাফা-ই জামান সেলিম বলেন, সরকারের পতন অত্যাসন্ন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

জামায়াতের কর্মসূচিও আসছে:

২৮ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামী নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করতে চায়। এ জন্য দলটির নীতিনির্ধারকরা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। বিএনপির শীর্ষ নেতারাও জামায়াতের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং যোগাযোগ করছেন। জামায়াতের দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল গতকাল কালবেলাকে বলেন, এই সরকার তো বিরোধী মত দমনে কঠোর অবস্থানেই আছে। কিন্তু মাঝেমধ্যে সমাবেশের অনুমতি দিয়ে জনগণের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে। কিন্তু এই সরকারকে জনগণ ঘুণাক্ষরেও বিশ্বাস করে না। কারণ, কথার সঙ্গে এই সরকারের কাজের কোনো মিল নেই। সুতরাং কর্মসূচি দিতে হচ্ছে হিসাব নিকাশ করে। তবে ২৮ অক্টোবর তাদের কর্মসূচি থাকবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাড়ি বেচে দিলেন সোনু সুদ

বাইচের নৌকা ডুবে নিহত ২

মার্কিন আদালতে ট্রাম্পের বেশিরভাগ শুল্ক অবৈধ ঘোষিত

বায়ুদূষণে চ্যাম্পিয়ন কামপালা, ঢাকার অবস্থান কত

সব সময় ক্লান্ত লাগার ৫ সাধারণ কারণ

পরীক্ষামূলকভাবে আজ শুরু স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল

ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়েছে তুরস্ক

দেশে কত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে আজ

সারা দেশে গণঅধিকার পরিষদের বিক্ষোভ আজ

রাজনীতি ছেড়ে অভিনয়ে ফিরছেন কঙ্গনা

১০

স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার হতে হবে : নীরব

১১

ওরিকে স্বামী বললেন জাহ্নবী

১২

ওজন কমানো নিয়ে প্রচলিত কিছু মেডিকেল মিথ

১৩

উত্তরাখণ্ডে বৃষ্টি ও ভূমিধসে ৬ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ১১

১৪

জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ ও কাদেরকে গ্রেপ্তার দাবি লায়ন ফারুকের

১৫

নাফ নদীতে বেপরোয়া আরাকান আর্মি, উপকূলজুড়ে আতঙ্ক

১৬

খোলা হয়েছে পাগলা মসজিদের দানবাক্স, মিলেছে ৩২ বস্তা টাকা

১৭

এক মঞ্চে কিম, পুতিন ও শি জিনপিং

১৮

ভিন্ন রূপে হানিয়া

১৯

রাজধানীতে আজ কোথায় কোন কর্মসূচি

২০
X