ওয়াহেদুজ্জামান সরকার
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৪, ০২:৩১ এএম
আপডেট : ০৯ মে ২০২৪, ০৭:২৩ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

ইসরায়েল কি বাইডেনের ভিয়েতনাম হচ্ছে

ইসরায়েল কি বাইডেনের ভিয়েতনাম হচ্ছে

গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতা ও দেশটিকে মার্কিন সহায়তা বন্ধের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, তা ১৯৬৮ সালে নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিক্ষোভের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সে সময় বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে সেই শিক্ষার্থীদের দাবি মানতে বাধ্য হয় কলাম্বিয়া কর্তৃপক্ষ। যুদ্ধে পরাজিত হয় যুক্তরাষ্ট্র। ঠিক ৫৬ বছর পর একই মাসে গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে সেই কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। কলাম্বিয়াতে সেই আন্দোলনের সূচনা হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে সেই ছাত্রবিক্ষোভ। এরকম প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে ইসরায়েল কি প্রেসিডেন্ট বাইডেনের জন্য আরেক ভিয়েতনাম হয়ে উঠছে।

দীর্ঘ ৫৬ বছর পর ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি ফিরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। গত ১৭ এপ্রিল কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ লনে ‘গাজা সলিডারিটি ক্যাম্প’ স্থাপন করে বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীরা। তারা দাবি জানায়, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ব্যবসা করে এমন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে। আর গাজায় যুদ্ধরত ইসরায়েলি বাহিনীকে মার্কিন সহযোগিতা দেওয়া বন্ধ করতে হবে। বন্ধ করতে হবে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন। ঠিক একইভাবে ১৯৬৮ সালে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ভিয়েতনামে মার্কিন আগ্রাসন বন্ধের দাবি জানিয়েছিল। আর দাবি জানিয়েছিল, ভিয়েতনাম যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে পারবে না কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। এসব মিলের কারণেই বর্তমান ইসরায়েলবিরোধী ছাত্রবিক্ষোভটি ১৯৬৮ সালের ছাত্রবিক্ষোভের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক। ১৯৬৮ সালের ছাত্রবিক্ষোভের দাবিগুলো মেনে নিলেও চলমান বিক্ষোভের দাবিগুলো এখনো মেনে নেয়নি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বরং বিক্ষোভ দমাতে এখনো যুদ্ধংদেহি অবস্থানে আছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। চলতি সপ্তাহে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা হ্যামিলটন হল নামে একটি স্কুলভবন দখল করে নিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট মিনোচে শফিক নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগকে তলব করেন। এরপর পুলিশ সেখানে যায় শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিতে এবং গুলির ঘটনাও ঘটে। সেখানে পুলিশ যাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। শিক্ষার্থীদের তাঁবু সরিয়ে ফেলে জোর করে সেখান থেকে তাদের বের করে দেয়। এখন পর্যন্ত আমেরিকার ৪৫টি অঙ্গরাজ্যের অন্তত ১৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত আড়াই হাজারেরও বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে পুলিশের মারমুখী আচরণে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে দেশটিতে। দেশটির বিভিন্ন নাগরিক ও ধর্মীয় সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছে, পুলিশ দিয়ে তাদের তাঁবু সরানো যেতে পারে, সাময়িক সময়ের জন্য তাদের বাধা দেওয়া যেতে পারে কিন্তু এতে তাদের আন্দোলন বন্ধ হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত না গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতা বন্ধ ও দেশটিকে মার্কিন সহায়তা বন্ধ হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। এ বিক্ষোভের শেষ পরিণতি কী, তা এখনো অজানা। ১৯৬৮ সালে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়েছিল। কিন্তু এবারও কি মানবে? উত্তর অজানা। কারণ, সময় পাল্টেছে। ১৯৬৮ আর ২০২৪ এক নয়। বিক্ষোভের গতি-প্রকৃতিও এক নয়। তবে এরই মধ্যে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের এ বছরে স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠান বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। ১৫ মে এ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। এ ধরনের অনুষ্ঠানে সাধারণত ৫০ হাজার মানুষের উপস্থিতি থাকে। ঠিক একইভাবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠান বাতিল করে দিয়েছে। অনেকেই বলছে, ইসরায়েল বাইডেনের জন্য আরেক ভিয়েতনাম হয়ে উঠছে। মার্কিন সিনেটর ও বামপন্থি রাজনীতিক বার্নি স্যান্ডার্সও একই কথা বলেছেন। এক সাক্ষাৎকারে ভারমন্টের এ সিনেটর বাইডেনকে তুলনা করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসনের সঙ্গে, যিনি ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ে শিক্ষার্থী-বিক্ষোভের জেরে ১৯৬৮ সালে পুনর্নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। স্যান্ডার্স বলেছেন, এবার ইসরায়েল নিয়ে তার অবস্থানের জন্য যুব সম্প্রদায় ও ডেমোক্র্যাটদের বড় অংশের সমর্থন খুইয়ে বাইডেনের হেরে যাওয়ার সম্ভাবনাটাই বেশি। তা ছাড়া মুসলিম ভোটের একটা প্রভাব তো আছেই। কারণ গাজায় ইসরায়েলকে নিঃশর্ত সমর্থনের কারণে মার্কিন মুসলিমরা এরই মধ্যে বাইডেনকে বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরানে বিক্ষোভ দমনে ছোড়া হচ্ছে তাজা গুলি, হাজারেরও বেশি নিহতের শঙ্কা

প্রতিপক্ষকে ১০ গোল দেওয়ার ম্যাচে যে রেকর্ড গড়লেন পেপ গার্দিওলা

স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন / সম্ভাব্য ইরান হামলা নিয়ে ‘প্রাথমিক’ আলোচনা করেছে ওয়াশিংটন

তামিম বিতর্কে অবস্থান পরিষ্কার করল কোয়াব

কিউই সিরিজের আগে ভারতীয় শিবিরে দুঃসংবাদ

আরেকবার চেষ্টা করে দেখি : মাহফুজ আলম

১১ জানুয়ারি : আজকের নামাজের সময়সূচি

বরিশালে ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা

৯ ঘণ্টা পর আইন বিভাগের সেই শিক্ষককে ছাড়ল চবি প্রশাসন

জমি নিয়ে বিরোধে ধস্তাধস্তি, একজনের মৃত্যু

১০

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুপক্ষের সংঘর্ষ, গুলিতে নিহত ১

১১

পাকিস্তানে বোমা বিস্ফোরণে জমিয়ত নেতা নিহত

১২

প্রথম দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৫১, হারালেন ১ জন

১৩

সুসংবাদ পেলেন বিএনপির আরও দুই নেতা

১৪

খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় আইইবির দোয়া ও শীতবস্ত্র বিতরণ

১৫

সিমেন্ট কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৮

১৬

কোনো দুষ্কৃতিকারী বিএনপি করতে পারবে না : রবিউল আলম

১৭

রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির বকুলতলায় স্পাইনাল কর্ড ইনজুরিদের নিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন

১৮

আ.লীগের মতোই জঘন্য কাজ করছে জামায়াত : কায়কোবাদ

১৯

কবিতা মানুষের মনে সৌন্দর্য, অনুভূতি ও ভাবনা নিয়ে আসে : আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ

২০
X