মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৫, ০৯:৩৪ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সম্পাদকীয়

নৃশংসতার বাড়বাড়ন্ত

ছবি : কালবেলা গ্রাফিক্স
ছবি : কালবেলা গ্রাফিক্স

আমরা এখন একটি অস্থির সময় পার করছি। দেশে প্রায়ই ঘটছে নৃশংস ঘটনা। কোনো দেশে দীর্ঘদিন স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা চালু থাকলে এমনটি হয়। বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় মানুষ আইনের প্রতি আস্থা রাখতে পারে না। ফলে দেশে নৈরাজ্যকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। সবচেয়ে বেশি বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয় কর্তৃত্ববাদী শাসকের পতনের আগে এবং পরে। ফরাসি বিপ্লবের পর সে দেশে ভয়াবহ নৈরাজ্যকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ মানুষ অত্যাচারী শাসকের দম্ভের প্রতীক বাস্তিল দুর্গে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর বিপ্লবীরা বিচারের নামে হাজার হাজার মানুষকে গিলোটিনের মাধ্যমে হত্যা করে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী সরকারের শাসনামলে যেমন নৈরাজ্যকর অবস্থা ছিল, তেমনি পতনের পরও বহুদিন এ ধারা অব্যাহত ছিল।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। পুলিশকে তারা দলীয় অস্ত্রধারীর মতো ব্যবহার করত। ফলে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ বাহিনীও আত্মগোপন করে। এটা আধুনিক বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। কয়েকদিন পর পুলিশ ফিরে এলেও এখনো মনোবল ফিরে পায়নি। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা বিশেষভাবে ভূমিকা রাখতে পারছে না। একের পর এক ঘটে চলেছে পৈশাচিক ঘটনা। রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় ভাঙাড়ি পণ্যের ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে (৩৯)। হত্যার আগে ডেকে নিয়ে তাকে পিটিয়ে এবং ইট-পাথরের টুকরা দিয়ে আঘাত করে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে বিবস্ত্র করা হয়। তার শরীরের ওপর উঠে লাফায় কেউ কেউ। ওই ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ, মামলার এজাহার, নিহত লাল চাঁদের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বর্ণনায় হত্যাকাণ্ডের এমন বিবরণ উঠে এসেছে। বুধবার মিটফোর্ড (স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ) হাসপাতালের সামনে ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্যে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার কথা জানা গেছে। খবরে প্রকাশ, হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল কারণ চাঁদাবাজি। নিহত লাল চাঁদ একসময় যুবদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এ ঘটনায় পুলিশ ও র‍্যাব চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এদিকে চাঁদপুর শহরের প্রফেসর পাড়ায় মসজিদের খতিব, আলেমে দ্বিন আ ন ম নুরুর রহমান মাদানিকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে এক মুসল্লি। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় মুসল্লিরা ইমাম সাহেবকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। এ সময়ে হামলাকারীকে মুসল্লিরা উত্তম-মধ্যম দিয়ে মসজিদের বারান্দায় আটকে রাখেন। পরে খবর পেয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ হামলাকারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

অপরাধ ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এ ধরনের নৃশংসতা এবারই প্রথম নয়। কিংবা এটা যে নতুন করে বেড়ে গেছে, তা-ও নয়। একটা সময়ে জমি দখল বা চর দখলের জন্য প্রকাশ্যে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের ওপর এমন নৃশংসতা চালাত। সেসব এখন হয়তো নেই। তবে ধরন পাল্টেছে। সমাজ ব্যবস্থাও একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক কারণে সমাজে অস্থিরতা বেড়েছে। সেইসঙ্গে অপরাধের ধরনও পাল্টাচ্ছে। সমাজে নানারকম নেতিবাচক অনুষঙ্গ ঢুকে পড়েছে। এ কারণে নৃশংস অপরাধের মাত্রাও বাড়ছে।

আমরা মনে করি, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এ ধরনের নৃশংসতা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। কেননা কোনো সভ্য সমাজে এটা কাম্য নয়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চাকরিনির্ভরতা থেকে উদ্যোক্তা: আত্মকর্মসংস্থানে আনসারের ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প

পদত্যাগী মন্ত্রীর বাসায় খিচুড়ি, প্রতিমন্ত্রীর সভা শেষে বিরিয়ানি দিয়ে আপ্যায়ন

বাজেটে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নতুনভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে : মির্জা ফখরুল 

মৌচাকে থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বিল্লাল খুন

মহানগর যুবদল নেতা বহিষ্কার

নুরজাহান বেগমের মৃত্যু : সমাজের এক নির্মম আয়না

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি নেতা সোহেল রানাকে স্থায়ী বহিষ্কার 

পবিপ্রবির নতুন উপাচার্য হলেন প্রফেসর ড. এস এম হেমায়েত জাহান

তনু হত্যা  / ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ ২ আসামির বিরুদ্ধে 

নাগরিকসেবায় অবহেলা করলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ডিএসসিসি প্রশাসকের

১০

হোয়াটসঅ্যাপে ইসরায়েলের সাইবার হামলা, মামলা করবে মেটা

১১

রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

১২

আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক ট্রেনিং সেন্টার / ৬ দিনব্যাপী ফাউন্ডেশন কোর্সের দ্বিতীয় পর্ব শুরু

১৩

এনসিপিতে যোগ দিলেন বিভিন্ন দলের শতাধিক নেতাকর্মী

১৪

বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া বাণিজ্য : হালাল পণ্যে বড় সম্ভাবনা

১৫

ছেলের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা

১৬

মুক্তির আগেই সাফল্যের দুয়ারে ‘ককটেল ২’

১৭

ইসরায়েলে ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেনি যুক্তরাষ্ট্র

১৮

নারী-পুরুষের বৈষম্য কমিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার : মঈন খান

১৯

অতিরিক্ত ফাউলের অভিনয় করলে বিশ্বকাপে দেখতে হবে হলুদ কার্ড

২০
X