হাসান আজাদ
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:১৪ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

পর্যালোচনার পর ত্রিপুরার সঙ্গে চুক্তি নবায়ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ

বিদ্যুৎ আমদানি
পর্যালোচনার পর ত্রিপুরার সঙ্গে চুক্তি নবায়ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ

ভারতের ত্রিপুরা থেকে সরকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তির মেয়াদ নবায়নের বিষয়ে শিগগির নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যমান চুক্তি নবায়নের প্রয়োজনীয়তা, আমদানির বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য কি না এবং ডিসেম্বরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট চালু হলে আমদানি অব্যাহত রাখার যৌক্তিকতা পর্যালোচনা করা হবে। এরপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগামী বছরের মার্চে বিদ্যুৎ আমদানির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

এদিকে ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ত্রিপুরার পালটানা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের চুক্তি নবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন)। গত বৃহস্পতিবার দিল্লিতে টিএসইসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশিস বোসের সঙ্গে এনভিভিএনের কর্মকর্তারা বৈঠক করেন।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে টিএসইসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘আমরা বিপিডিবির সঙ্গে চুক্তি নবায়নে প্রস্তুত। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা নভেম্বর থেকে ১০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পদ্ধতিগতভাবে এনভিভিএন এখন বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবে। তারা সম্মত হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।’

বিষয়টি নিয়ে পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা প্রথমে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করব, তারপর সিদ্ধান্ত নেব। এখন এ বিষয়ে এর বেশি কিছু বলার নেই।’

পিডিবির একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি ১৬০ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে কমবেশি ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ভারত থেকে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে মোট আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ আমদানি করে। এর মধ্যে সরকারিভাবে আমদানি হয় ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট—পশ্চিমবঙ্গ থেকে ১ হাজার মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা থেকে ১৬০ মেগাওয়াট।

ওই কর্মকর্তারা জানান, ডিসেম্বরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট চালু হবে এবং মেঘনাঘাটে তিনটি বড় কেন্দ্র উৎপাদনে যাওয়ার অপেক্ষায় আছে। এসব বিবেচনায় নিয়ে ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এবার চুক্তি নবায়নের আগে বিদ্যুৎ মূল্য হ্রাসের প্রস্তাবও ভারতকে দেওয়া হবে।

বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার অংশ হিসেবে ২০১০ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এরপর ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ এনটিপিসি ও পিডিবির মধ্যে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি এবং ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল এনভিভিএন ও পিডিবির মধ্যে আরও ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি হয়।

বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির তথ্যমতে, গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় ত্রিপুরা থেকে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বগতি

স্টেডিয়ামে ট্রাম্পকে দেখে দর্শকদের দুয়োধ্বনি 

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির পর কমলো তেলের দাম

চবিতে দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন চালু

স্ত্রীকে হত্যা করে বাসায় তালা দিয়ে পালালেন ছাত্রদল নেতা

আর্জেন্টিনা সমর্থকের মাথা ফাটাল ব্রাজিল সমর্থক

বিধ্বস্ত মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের ক্রুদের অবস্থা জানালেন ট্রাম্প

ইসরায়েলের ভাসমান কারাগারে ৫২ ঘণ্টা, ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ফ্লোটিলা কর্মীর

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগে স্থগিত

বাবা-ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে ইসরায়েলি বাহিনী

১০

মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখবেন যেভাবে

১১

প্রকাশ্যে রাজমিস্ত্রিকে গুলি

১২

গোল না খাওয়ার পরিসংখ্যানে শীর্ষে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ৪৩তম

১৩

যুবদল নেতা বহিষ্কার

১৪

রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৪, আহত ১০

১৫

ম্যারাডোনার ‘ঈশ্বরের হাত’ ছোঁয়া সেই বল এখন কোথায়

১৬

ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে প্রাণ গেল যুবকের

১৭

বিয়ে বাড়িতে গরুর মাংস নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

১৮

আজ বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস

১৯

রামিসা হত্যা / ফাঁসির আসামিদের ‘কনডেম সেলে’ রাখা হলো সোহেল-স্বপ্নাকে

২০
X