সরকারি হিসাব মতে গতকাল রোববার পর্যন্ত ১৬৭ জন মারা গেছেন। এই ডাটা ঢাকার মাত্র কয়েকটি হাসপাতাল এবং প্রতিটি জেলা শহর থেকে প্রাপ্ত। বাংলাদেশে কভিডেও নারীরা তুলনামূলকভাবে অনেক কম আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছেন। কিন্তু চিন্তার বিষয় হচ্ছে, ডেঙ্গুতে নারীরা কম হাসপাতালে ভর্তি হলেও তাদের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি-
বাংলাদেশের ডেঙ্গু বিষয়ে গত ২২ বছরের ইতিবৃত্ত নিয়ে আমাদের গবেষণা অনুযায়ী ডেঙ্গু ভাইরাসে ছেলেরা বেশি (২.৭ গুণ) আক্রান্ত হয়। এবারের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তাদের ৬৩ শতাংশ ছেলে।
সরকারি হিসাব মতে গতকাল রোববার পর্যন্ত ১৬৭ জন মারা গেছেন। এই ডাটা ঢাকার মাত্র কয়েকটি হাসপাতাল এবং প্রতিটি জেলা শহর থেকে প্রাপ্ত। বাংলাদেশে কভিডেও মেয়েরা তুলনামূলকভাবে অনেক কম আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে। কিন্তু চিন্তার বিষয় হচ্ছে, ডেঙ্গুতে মেয়েরা কম হাসপাতালে ভর্তি হলেও তাদের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি (৫৭ শতাংশ)।
ডেঙ্গুতে শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়, যদি না জ্বরের শুরু থেকে পর্যাপ্ত পানি ঠিকমতো পান না করা হয়। বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে মেয়েরা অসুখের সময় পানীয় এবং খাবার খেতে অনীহা বেশি দেখেছি। জোর করলে কেউ কেউ রেগেও যায়! পরিবারের জন্য খাটতে গিয়ে অনেক অল্পবয়স্ক মা নিজের প্রতি যত্ন
নেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।
অন্যদিকে মানসিক অবস্থা মেয়েদের মধ্যে বিভিন্ন কারণে পরিবর্তন হতে পারে। এ কারণেও নিজের প্রতি যত্ন নিতে আগ্রহ কাজ নাও করতে পারে। অর্থাৎ পর্যাপ্ত যত্ন তথা ট্রিটমেন্ট অভাবে মেয়েদের মধ্যে মৃত্যুঝুঁকি বেশি দেখা যাচ্ছে। প্রত্যেক পরিবারের ছেলেদের দায়িত্ব হচ্ছে এ বিষয়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া।
২০১৯ সালের স্টাডি অনুযায়ী লক্ষ করেছি, জ্বর ছেড়ে যাওয়ার পর ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে থাকে। অনেকে ভাবতে থাকেন জ্বর ভালো হয়ে গেছে। এ সময় অলসতার কারণে অনেকের অবস্থা খারাপ হতে পারে।
তীব্র মাত্রার ডেঙ্গুতে বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, পেটব্যথা দেখা দেয়। এ সময় পর্যাপ্ত fluid খাওয়া সম্ভব হয় না। এ কারণে হাসপাতালে ভর্তি করে তার fluid ম্যানেজমেন্ট করতে হয়।
যে কাজগুলো করতে ভুল করা যাবে না :
১। এ সময় জ্বর হলে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। জ্বরের শুরুতে (১-২ দিনের মধ্যে) ডেঙ্গুর টেস্ট করাতে হবে।
২। টেস্ট নেগেটিভ হলেও জ্বর ছেড়ে যাওয়ার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানীয় (স্যালাইন, স্যুপ, ডাবের পানি, মধু পানি ইত্যাদি) খেতে হবে।
৩। দেশের চিকিৎসকরা ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় অনেক ভালো অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। তাই বমি, ডায়রিয়া হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি হতে অলসতা করা যাবে না।
৪। পরিবারের মেয়েসন্তান, মা-বোনরা জ্বরে আক্রান্ত হলে অনেক বেশি সচেতন হতে হবে তারা যেন কোনো ধরনের পানীয় ম্যানেজমেন্টে শৈথিল্য প্রদর্শন না করে।
লেখক : অধ্যাপক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ
মন্তব্য করুন