সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৪, ১০:২৮ এএম
অনলাইন সংস্করণ

পড়াশোনার পাশাপাশি ড্রাগন চাষে দুই শিক্ষার্থীর বাজিমাত

ফরিদপুরের সদরপুরে ড্রাগন চাষ সফল দুই শিক্ষার্থী। ছবি : কালবেলা
ফরিদপুরের সদরপুরে ড্রাগন চাষ সফল দুই শিক্ষার্থী। ছবি : কালবেলা

ফরিদপুরের সদরপুরে ড্রাগন চাষ করে দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাফল্য অর্জন করেছেন। কয়েক বছর আগেও দেশের মানুষ জানত এটি বিদেশি ফল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশে ড্রাগনের চাষ এতটা বেড়েছে যে, এখন এটি দেশি ফল বলেই মানুষের কাছে পরিচিতি।

জানা গেছে, সদরপুর উপজেলা থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে আকোটের চরের ছলেনামা গ্রামে তরুণ এই দুই উদ্যোক্তা নিজেদের ড্রাগন ফলের বাগান করেছেন। তারা হলেন নর্দার্ন ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টর তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সাইফুল আদনান এবং ফরিদপুর টাইমস ইউনিভার্সিটির বিবিএ তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রাকিব হোসেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, তের বিঘা জমিতে দুই উদ্যোক্তার ড্রাগনের বাগান। সবুজ রঙের গাছে গাছে ঝুলছে ছোট-বড় ড্রাগন ফল। আবার কোনো গাছে ফুল আসছে। তারা ২০২১ সালে করোনাকালীন সময় থেকে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেন। ড্রাগনের পাশাপাশি লেবু, থাই পেয়ারা, আপেলকুলসহ এখানে নানান ধরনের ফলের বাগান আছে। এ ছাড়া বাগানে প্রচুর ফুল ও ফল হয়েছে। বাগানটি একনজর দেখতে ভিড় জমাচ্ছে মানুষ। অনেকেই পরামর্শ নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ বাগান করতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

শিক্ষার্থী রাকিব হোসেন বলেন, করোনার সময় ঘরে বসে না থেকে বাগান করার পরিকল্পনা করি আমরা দুই বন্ধু। সেই ভাবনা থেকে বিভিন্ন বাগান ও হার্টিকালচার থেকে অভিজ্ঞতা নেই। পরে বন্ধুর মা’র কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে ২০২১ সালে ড্রাগন বাগান শুরু করি। তবে কিছুদিন পরে বন্যার কবলে পরে সব গাছ নষ্ট হয়ে যায়। পরে আবারও নতুন করে বাগান শুরু করি।

আর সাইফুল আদনান বলেন, বাড়ির পাশে ১৩ বিঘা জমি লিজ নিয়ে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করি। বিভিন্ন জায়গার বাগান, হার্টিকালচার ও ইউটিউবে ড্রাগন ফলের চাষের অভিজ্ঞতা নিয়ে সফলতার স্বপ্ন দেখি। এক পর্যায়ে সদরপুর উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করে তাদের পরামর্শ নিয়ে কাজ শুরু করি। আমাদের বাগানে আজ শত শত ড্রাগন ফলের গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ কেজি ফল পাচ্ছি। এখন ফল বিক্রি করে মাসে লক্ষাধিক টাকা আয় হচ্ছে। আয়ের চেয়ে বেশি ভালো লাগে যখন বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আমাদের বাগান দেখতে ভিড় করে।

সদরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিটুল রায় বলেন, ড্রাগন অনেক পুষ্টিসমৃদ্ধ ফল। এ ফল চাষে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব। খাবারের পুষ্টির মানও নিশ্চিত করা যায়। সাইফুল ও রাকিবের মতো শিক্ষিত উদ্যোক্তারা কৃষিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছেন। যারা কৃষিতে আসছেন, তাদের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সব সময় পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হচ্ছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সুন্দরবন ও মোংলা বন্দর উন্নয়নে ধানের শীষে ভোট চাইলেন লায়ন ফরিদ

‘প্রমাণ ছাড়া যেকোনো ঘটনায় তারেক রহমানকে জড়ানো ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির প্রতিফলন’

মূল জনগোষ্ঠীর মধ্যে নীরবে ছড়িয়ে পড়ছে এইচআইভি

উত্তরায় সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

ইসলামনগরে আগুন, জাবির দুই শিক্ষার্থীসহ দগ্ধ ৪

নাসীরুদ্দীনের অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানালেন মির্জা আব্বাস

মুস্তাফিজ ইস্যুতে ভারতের সিদ্ধান্তকে ‘শক্তির অপব্যবহার’ বলে আখ্যা ভারতীয় সাংবাদিকের

পৌনে ২ লাখ লোকের ইতিবাচক পরিবর্তন আনল ব্র্যাক ব্যাংক 

ডিমের আঁশটে গন্ধ দূর করার সহজ উপায়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারে উদ্বিগ্ন নির্বাচন কমিশন

১০

বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কমানো নিয়ে বড় সুখবর দিলেন লুৎফে সিদ্দিকী

১১

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগে পরিবর্তন এনে পরিপত্র জারি

১২

সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ দ্রুত পাসের দাবি আহছানিয়া মিশনের

১৩

ক্ষমতায় গেলে কেরু অ্যান্ড কোং-সহ সব কারখানা সচল করা হবে : জামায়াত আমির

১৪

যুব সমাজ ও নতুনরা ভোটের চিত্র বদলে দেবে : তুলি

১৫

নির্বাচনের ফলাফল না নিয়ে আমরা কেউ বাড়ি ফিরব না : আবু আশফাক

১৬

ধানের শীষের প্রচারণায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের কমিটি গঠন

১৭

টেকনাফে পাহাড় থেকে ৬ কৃষককে অপহরণ

১৮

তারেক রহমানের গাড়ি থামিয়ে কী বললেন তরুণী

১৯

হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে কেউ আমন্ত্রিত ছিলেন না, দাবি কলেজ কর্তৃপক্ষের

২০
X