কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে রংপুর বিভাগে দফায় দফায় বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাদের ৩৪ মামলায় ৪৪২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে, কুড়িগ্রামে এখনো কোনো মামলা হয়নি।
এসব ঘটনায় সব থেকে বেশি সংঘর্ষ ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে রংপুরে। এতে প্রায় ১১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভিন্ন থানায় করা ১২ মামলায় ১৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন জানান, রংপুরে দুর্বৃত্তরা ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করেছে। থানা, ফাঁড়ি, ডিবি ও অপরাধ কার্যালয় জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুলাই) এই ঘটনায় আমরা এ পর্যন্ত ১৩০ জনকে ভিডিও ফুটেজ দেখে গ্রেপ্তার করেছি। আরও মামলা হবে। গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, পঞ্চগড়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং নাশকতার ঘটনায় তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে ৫৪ জন। এর মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে দুটি আর স্থানীয় সংসদ সদস্য নাইমুজ্জামন ভুইয়া মুক্তা বাদী হয়ে করেছেন একটি মামলা।
এদিকে, নাশকতার চার মামলায় ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। নীলফামারিতে ৫ মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ৫৯ জন। সব মামলার বাদী পুলিশ।
লালমনিরহাটে দুটি মামলা হয়েছে। লালমনিরহাট সদরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ একটি মামলা করেছে। এ মামলায় এক শিবির নেতাসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর হাতিবান্ধায় আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লিয়াকত হোসেন বাচ্চু বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গাইবান্ধায় নাশকতার তিন মামলায় ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলা আ.লীগের দপ্তর সম্পাদক ছাকা মিয়া একটি, রেল কর্তৃপক্ষ একটি এবং গাইবান্ধা কোতোয়ালি থানা পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। তিন মামলায় নাশকতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
দিনাজপুর পুলিশ জানিয়েছে, নাশকতার অভিযোগে পাঁচটি মামলা হয়েছে। এসব মামলার বাদী হয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫৯ জনকে।
তবে, কুড়িগ্রামে কোনো মামলা হয়নি, নাশকতার পুরনো মামলায় নাগেশ্বরী থেকে দুই বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রংপুর অতিরিক্ত ডিআইজি (মিডিয়া) হুমায়ুন কবির জানান, আমরা যাদের গ্রেপ্তার করেছি তারা দুষ্কৃতকারী। যারা এসব অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান জানান, নিরপরাধ কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। ফুটেজ চুলচেরা বিশ্লেষণ করে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে শুধু তাদেরই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। নগরবাসীকে নিরাপদ রাখাই পুলিশের দায়িত্ব। নিরাপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
মন্তব্য করুন