শোকে পাথর হয়ে আছেন সিয়াম শুভর পালক মা শাপলা খাতুন ও বাবা রিকশাচালক আশিক উদ্দিন। তাদের কান্না থামছে না। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলনের সহিংসতায় গুলিতে নিহত হয় সিয়াম (১৬)। ঘটনার প্রায় ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো সাহায্য সহযোগিতা পায়নি পরিবারটি। এমনকি খোঁজও নিতে আসেনি কেউ।
বগুড়া শহরের কামারগাড়ি হাড্ডিপট্টি এলাকার বাসিন্দা তরুণ সিয়াম। ভাঙারি মালামাল কুড়িয়ে বাবা-মাকে সাহায্য করতো। সারাদিন ভাঙারির জিনিসপত্র কুড়িয়ে সন্ধ্যায় বিক্রি করে যে টাকা আয় হয় তা তুলে দিত বাবা-মায়ের হাতে। নিজের বাবা-মা কেউ নেই। পালক বাবা-মার আশ্রয়েই মানুষ সে।
কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ১৯ জুলাই শহরের বিভিন্ন অলিগলি ও ময়লার ভাগাড়ে ভাঙারি মালামাল কুড়িয়ে বিকেলে বাড়ি ফেরে সিয়াম। মাকে ভাত দিতে বলে ঘরের বাইরে যায় সে।
সে সময় শহরের সেউজগাড়ি আমতলা এলাকায় পুলিশের সঙ্গে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলছিল। সেখানে সন্ধ্যা ৬টার দিকে শরীরে ছররা গুলি বিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সিয়াম। এলাকার লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বগুড়া নার্সিং হোমে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
৭ বছর বয়সে বাবা-মা হারা শিশু সিয়াম ঠাঁই পেয়েছিল শাপলার কোলে। জন্ম না দিলেও ওই দম্পতি তাকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতেন।
তাদের সংসারে তিন ছেলে দুই মেয়ে। এর মধ্যে সিয়াম পালিত ছেলে। সাত বছর বয়সে স্টেশন থেকে নিয়ে এসে লালনপালন করেন তারা। তাদের আরেক ছেলে শাওন (১৪), মেয়ে ছোয়া (১২), ছড়া (৬) ও ৪ বছরের শিশু শিশিরকে নিয়ে তাদের সংসার।
পালক মা শাপলা খাতুন জানান, মাত্র সাত বছর বয়সে সিয়াম তার জন্মদাতা বাবা-মা হারায়। একদিন সে শহরের সাতমাথা এলাকায় একা বসে কান্নাকাটি করছিল। সেখানে শাপলা খাতুনকে দেখে সিয়াম শাড়ির আঁচল টেনে ধরে মা ডেকেছিল। তখন মায়ের মমতায় সিয়ামকে কোলে তুলে বাড়িতে এনে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করতে থাকেন। সংসারে অভাবের কারণে তাকে স্কুলে পাঠাতে পারেননি। তারা গরিব অসহায় বলে সরকার বা জনপ্রতিনিধিরা কেউ খোঁজ নেয়নি।
এলাকার বাসিন্দা আজিমুল ইসলাম বলেন, আমাদের চোখের সামনেই বেড়ে উঠেছে ছেলেটি। কিন্ত বাবা-মা হারা এতিম ছেলেটা এভাবে আমাদের মাঝ থেকে চলে যাবে আমরা কোনো দিন ভাবতেই পারিনি।
মন্তব্য করুন