নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৮:৫২ পিএম
আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৯:৩২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

সুস্থ হলেও পরবর্তী জীবন নিয়ে শঙ্কায় মাঈন উদ্দিন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত মাঈনের মতো ব্যক্তিদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের প্রয়োজন। ছবি : সংগৃহীত
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত মাঈনের মতো ব্যক্তিদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের প্রয়োজন। ছবি : সংগৃহীত

নরসিংদীর ২৪ বছর বয়সী মাঈন উদ্দিন, একজন অটোরিকশাচালক ও এক কন্যা সন্তানের পিতা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ পার করেছেন।

চিকিৎসকদের নিবিড় পরিচর্যায় তিনি এখনো শারীরিকভাবে সুস্থ। তবে ভবিষ্যৎ জীবনের অনিশ্চয়তা তাকে প্রতিনিয়ত মানসিক চাপের মধ্যে রাখছে। মাঈন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তার এই অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি মানবিক আবেদন করেছে।

গত ১৯ জুলাই ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে নরসিংদীর ইটাখোলা মোড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন মাঈন। সন্ধ্যায় আন্দোলনরত জনতার ওপর পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালালে মাঈনের পেটে এবং ডান হাতে দুটি গুলিবিদ্ধ হয়। তার পেটে লাগা গুলিটি খাদ্যনালি ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং কোমরের পেছনে আটকে থাকে। গুরুতর অবস্থায় সহযোদ্ধারা তাকে ঢাকায় নিয়ে আসেন।

প্রথমে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা হয়। অস্ত্রোপচারে খাদ্যনালীর অংশবিশেষ কেটে সেখানে কোলোস্টমি ব্যাগ স্থাপন করা হয়। এই ব্যাগ দিয়ে মলত্যাগের ব্যবস্থা করতে বাধ্য হন মাঈন। কোলোস্টমি ব্যাগ নিয়ে মাঈনের জীবন ছিল দুর্বিষহ। প্রতিবার খাবার গ্রহণের পরপরই ব্যাগ পরিষ্কার করতে হতো, যা তার জন্য শারীরিক এবং মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পরিবারের অস্বচ্ছলতা এবং নিজের অক্ষমতা তাকে হতাশ করে তোলে।

নরসিংদী জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ এন এম মিজানুর রহমানের মতে, মাঈন তার শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা এবং সরকারি সহযোগিতায় মাঈনের কোলোস্টমি ব্যাগ সরিয়ে পুনরায় স্বাভাবিক মলত্যাগের ব্যবস্থা করা হয়। মাঈনের বর্তমান পরিস্থিতি এখন শারীরিকভাবে সুস্থ হলেও ভারী কাজ করার ক্ষমতা হারিয়েছেন। তার একমাত্র আয়ের পথ ছিল অটোরিকশা চালানো, যা এখন আর সম্ভব নয়। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তার জীবনযাপন দুঃসহ হয়ে উঠেছে।

মাঈন উদ্দিন বলেন, চিকিৎসকদের সাহায্যে আমি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি। তবে আমি জানি না কীভাবে সংসার চালাব। আমার মতো গরিব মানুষের জন্য একটি চাকরি বা কাজের সুযোগ পেলে জীবন চালানো সহজ হতো।

নরসিংদী জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকরা মাঈনের উন্নত চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা করেছেন। তবে তারা স্বীকার করেন যে, মাঈনের মতো ব্যক্তিদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের প্রয়োজন।

ডা. মিজানুর রহমান বলেন, মাঈন এখন শারীরিকভাবে ভালো। তবে মানসিক ও আর্থিক চাপ কাটিয়ে উঠতে তার জন্য একটি স্থায়ী কর্মব্যবস্থা করা জরুরি। এটি তার পরিবারের জন্য আশার আলো হতে পারে।

মাঈনের জীবনযুদ্ধ শুধু তার একার নয়, এটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক। তার কাহিনি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় অসহায় মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহানুভূতির কথা। সরকারের প্রতি মাঈনের আবেদন, আমার জীবিকার জন্য একটি কাজের ব্যবস্থা করে দিন। আমি আমার পরিবার নিয়ে বাঁচতে চাই।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বছরের শেষ দিনে জাপানে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প

ঢাকায় শীত নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা 

সাতসকালে নিয়ন্ত্রণ হারাল বালুর ট্রাক, নিহত ৪

আলজাজিরার বিশ্লেষণ / চার কারণে যুদ্ধবিরতিতে অনাগ্রহ নেতানিয়াহুর

রাতে ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, চিনে ফেলায় পেট্রোল ঢেলে আগুন

সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমানের স্ট্যাটাস 

কুয়াকাটায় পুলিশ বক্সের পাশেই আতশবাজি, আতঙ্কে পর্যটকরা

ইতালিতে বর্ণিল আয়োজনে ইংরেজি বর্ষবরণ

বছরের প্রথম দিনে ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর

অভিজ্ঞতা ছাড়াই চাকরি দিচ্ছে প্রাণ গ্রুপ

১০

নৌযানে আবারও মার্কিন হামলা, নিহত ৩

১১

মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায়

১২

ভয়াবহ সংকটে ইরান, সরকারি ভবনে ঢুকে পড়ার চেষ্টা

১৩

বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ

১৪

০১ জানুয়ারি : আজকের নামাজের সময়সূচি

১৫

‘বৈঠকটি গোপন রাখতে বলেছিলেন ভারতীয় কূটনীতিক’

১৬

কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় পুলিশ সদস্য নিহত

১৭

রাজধানীতে আতশবাজির ফুলকি থেকে ভবনে আগুন

১৮

নতুন বছরে জ্বালানি তেলের দাম কমলো

১৯

ডা. তাহেরের চেয়ে স্ত্রীর সম্পদ ৫ গুণ বেশি

২০
X