ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ইউএনও মো. এরশাদুল আহমেদের বদলি আদেশ বাতিল করে তাকে বহাল রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনসাধারণ।
শুক্রবার (৯ মে) বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের একটি শ্মশানকে কেন্দ্র করে ভারতীয় মিডিয়াসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ। এসময় এ দাবি জানানো হয়।
এসময় ‘মিথ্যা প্রচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও’, ‘ঈশ্বরগঞ্জ শান্তির জনপদ’, ‘ইউএনও স্যারের বদলি আদেশ বাতিল করো’, ‘সম্প্রীতির ঈশ্বরগঞ্জে সাম্প্রদায়িকতার ঠাঁই নেই’ ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড ছিল জনতার হাতে।
উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন সড়কে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘একটি পরিকল্পিত চক্রান্তের অংশ হিসেবে শ্মশানসংক্রান্ত ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি মোহাম্মদ সাকিবুজ্জামান, সংস্কার ফোরাম প্রতিনিধি মোহাম্মদ মামুন, যুব জমিয়তে ইসলামের সহকারী সাধারণ সম্পাদক মুফতি জুনায়েদ আহমদ, ইত্তেফাকুল ওলামা সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ওবায়দুল হক, ইত্তেফাকুল ওলামা এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি মনসুর বিন আহমদ, ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মুফতি হাবিবুল্লাহ প্রমুখ।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদ ছড়ানো ও জনপ্রিয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সরানো হলে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বক্তারা।
স্থানীয় যুবক রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ইউএনওকে দীর্ঘদিন ধরে দেখে আসছি। তিনি সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। যারা বিভ্রান্তিকর সংবাদ ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে আমরা চাই, ইউএনও এরশাদুল আহমেদ যেন ঈশ্বরগঞ্জেই বহাল থাকেন।’
এদিকে, বৃহস্পতিবার (৮ মে) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এরশাদুল আহমেদের সভাপতিত্বে এক সভায় শ্মশান বিতর্কের অবসান ঘটে।
এতে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা পূর্বের কিছু ভুল বোঝাবুঝির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, ‘আমরা এই উন্নয়ন কার্যক্রমকে স্বাগত জানাই। পূর্বের অভিযোগ নিছক ভুল বোঝাবুঝি ছিল, এখন সেটার অবসান হয়েছে।’
তারা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
মন্তব্য করুন