রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২৫, ১২:০৩ এএম
অনলাইন সংস্করণ

মধ্যরাতে ছাত্রীর প্রবেশপত্র পৌঁছে দিয়ে প্রসংশায় ভাসছেন শিক্ষক

ছবি : কালবেলা
ছবি : কালবেলা

পরীক্ষার মাত্র এক দিন আগে জানা গেল—প্রবেশপত্রই আসেনি। চরম দুশ্চিন্তা আর হতাশায় ভেঙে পড়েছিল রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মোসা. শারমিন খাতুন। রাত পোহালেই ছিল তার প্রথম পরীক্ষা। অথচ আগের দিন মধ্যরাত পর্যন্ত তিনি জানতেন না পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে কি না।

তার এমন দুঃসময়ে এগিয়ে এসেছিলেন তার কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহা. বায়েজীদ বোস্তামী। গভীর রাত পর্যন্ত শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে ওই শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র তৈরি করে পরীক্ষায় বসার ব্যবস্থা করেন। এমন মহানুভবতার কারণে শিক্ষক বায়েজীদ বোস্তামী ভাসছেন প্রশংসায়।

জানা গেছে, প্রবেশপত্র বিতরণের নির্ধারিত তারিখে ব্যক্তিগত কারণে অনুপস্থিত ছিলেন শারমিন। পরবর্তীতে পরীক্ষার আগের দিন (বুধবার) কলেজে গিয়ে জানতে পারেন, ফরম পূরণের কিছু ত্রুটির কারণে তার প্রবেশপত্র আসেনি। পরিবারের একমাত্র আশা হয়ে ওঠা মেয়েটি তখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। ঠিক তখনই এগিয়ে আসেন কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহা. বায়েজীদ বোস্তামী। শিক্ষার্থীদের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর যে প্রতিশ্রুতি তিনি সবসময় বজায় রাখেন, এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

ওই শিক্ষক নিজেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন, সংশ্লিষ্ট বোর্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, এবং রাতেই নিজে শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করে ছাত্রীর বাড়িতে পৌঁছে দেন। পর দিন পরীক্ষা শেষে ছাত্রীটির খোঁজও নেন তিনি।

এ বিষয়ে পরীক্ষার্থী শারমিন খাতুন বলেন, ‘স্যারের আন্তরিকতা ও সহযোগিতায় আমি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পেরেছি। নাহলে হয়তো আমি জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সুযোগটাই হারিয়ে ফেলতাম। দেশের বহু জায়গায় অনেকেই প্রবেশপত্র না পেয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। আমি স্যারের জন্য চিরকৃতজ্ঞ।’

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আমিনা আবেদীন বলেন, ‘প্রফেসর বায়েজীদ বোস্তামী একজন সৎ, মানবিক ও নিষ্ঠাবান শিক্ষক। আমি গর্বিত যে, আমাদের কলেজে এমন একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক আছেন। তার মতো মানুষের মূল্যায়ন হওয়া উচিত রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও।’

জানতে চাইলেই অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক বায়েজীদ বোস্তামী বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের সন্তানের মতো দেখি। ওদের সমস্যা আমাদের দায়িত্বের অংশ। শারমিনের বিষয়টি জটিল ছিল; কিন্তু আল্লাহর কৃপায় আমরা সময়মতো সমাধান করতে পেরেছি। এটা আমার একার কৃতিত্ব নয়, এটি একজন শিক্ষকের কর্তব্য।’

রাজশাহী সিটি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, সরকারি সিটি কলেজের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন শিক্ষকের উপস্থিতি শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য আশীর্বাদ নয়, গোটা সমাজের জন্যও এক ইতিবাচক বার্তা। যেখানে অনেক জায়গায় শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র জটিলতায় পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, সেখানে একজন শিক্ষকের মানবিক দায়িত্ববোধ বদলে দিতে পারে একজন ছাত্রীর ভবিষ্যৎ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মূল জনগোষ্ঠীর মধ্যে নীরবে ছড়িয়ে পড়ছে এইচআইভি

উত্তরায় সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

ইসলামনগরে আগুন, জাবির দুই শিক্ষার্থীসহ দগ্ধ ৪

নাসীরুদ্দীনের অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানালেন মির্জা আব্বাস

মুস্তাফিজ ইস্যুতে ভারতের সিদ্ধান্তকে ‘শক্তির অপব্যবহার’ বলে আখ্যা ভারতীয় সাংবাদিকের

পৌনে ২ লাখ লোকের ইতিবাচক পরিবর্তন আনল ব্র্যাক ব্যাংক 

ডিমের আঁশটে গন্ধ দূর করার সহজ উপায়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারে উদ্বিগ্ন নির্বাচন কমিশন

বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কমানো নিয়ে বড় সুখবর দিলেন লুৎফে সিদ্দিকী

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগে পরিবর্তন এনে পরিপত্র জারি

১০

সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ দ্রুত পাসের দাবি আহছানিয়া মিশনের

১১

ক্ষমতায় গেলে কেরু অ্যান্ড কোং-সহ সব কারখানা সচল করা হবে : জামায়াত আমির

১২

যুব সমাজ ও নতুনরা ভোটের চিত্র বদলে দেবে : তুলি

১৩

নির্বাচনের ফলাফল না নিয়ে আমরা কেউ বাড়ি ফিরব না : আবু আশফাক

১৪

ধানের শীষের প্রচারণায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের কমিটি গঠন

১৫

টেকনাফে পাহাড় থেকে ৬ কৃষককে অপহরণ

১৬

তারেক রহমানের গাড়ি থামিয়ে কী বললেন তরুণী

১৭

হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে কেউ আমন্ত্রিত ছিলেন না, দাবি কলেজ কর্তৃপক্ষের

১৮

বিজয় থালাপতি এখন বিপাকে

১৯

মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে যে নতুন ঘোষণা দিল যুক্তরাষ্ট্র

২০
X