ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৫, ০৯:০৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

আদালতের নির্দেশে অর্পিত সম্পত্তির চেম্বার ভবন উচ্ছেদ 

আদালতের নির্দেশে উচ্ছেদ করা হয় অর্পিত সম্পত্তির চেম্বার ভবন। ছবি : কালবেলা
আদালতের নির্দেশে উচ্ছেদ করা হয় অর্পিত সম্পত্তির চেম্বার ভবন। ছবি : কালবেলা

উচ্চ আদালতের নির্দেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিসহ দুটি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছেন জেলা প্রশাসন। অভিযানে হিন্দু সম্প্রদায়ের বেদখল হয়ে থাকা ২৫ শতক জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (৯ জুলাই) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের মসজিদ রোড এলাকায় জেলা প্রশাসেনর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার নুসরাত জাবীন এ অভিযান পরিচালনা করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের মসজিদ রোড এলাকায় জেলা প্রশাসন চেম্বারসহ স্থানীয়দের প্রায় ২৫ শতক জায়গা বন্দোবস্ত দেন। বিষয়টি চলামান মামলায় হেরে যায় জেলা প্রশাসন। উচ্চ আদালত জায়গাটি প্রকৃত মালিকদের বুঝিয়ে দিতে নির্দেশনা দেন।

দুপুরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রে সঙ্গে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে মসজিদ রোড এলাকায় উপস্থিত হন। এ সময় চেম্বার অব কমার্সের ভবনে থাকা দোকানদারদের মালামাল সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন। ব্যবসায়ীরা মালামাল সরিয়ে নিয়ে জেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালান করেন।

মামলার রায় ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসন অর্পিত সম্পত্তির ২৪ দশমিক ৮৯ শতক জায়গা জেলা চেম্বারসহ বিভিন্ন জনের কাছে বন্দোবস্ত দেন। প্রয়াত লীলাময় ভট্টাচার্য ২০১২ সালের জুলাই মাসে জায়গাটির মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন জেলা চেম্বার অব কমার্স। জায়গাটি অর্পিত সম্পত্তি হওয়ায় ২০১৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা জজ লীলাময় ভট্টাচার্যের পক্ষে রায় দেন।

সরকার পক্ষ এই অর্পিত আপিল রায় ডিক্রির বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে উচ্চ আদালতে রিভিউ করেন। পরে মামলার বাদী রিভিউর বিরুদ্ধে একটি আবেদন করেন। উচ্চ আদাললের আপিল ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সালের অর্পিত অপিল মোকদ্দমার রায় ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য এক আদেশ দেন। তবে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, আমাদেরকে উচ্ছেদের কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। চেম্বারও কিছু বলেনি।

লীলাময় ভট্টাচার্যের ছেলে নির্মল ভট্টাচার্য বলেন, এটি আমাদের পূর্ব পুরুষের জায়গা ছিল। বিভিন্ন কারণে এটি অর্পিত সম্পত্তিতে রূপান্তরিত হয়। সরকারের অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পনের আইন করার পর আমরা ২০১২ সালে মামলা করি এবং ২০১৮ সালে রায় হয়। ২০১৯ সালে উচ্ছেদের নোটিশ আসে। উচ্চ আদালতে দুইয়েকটি রিট হওয়ার পর রায় আমাদের পক্ষে আসে। জেলা প্রশাসন প্রত্যেক লিজ গ্রহীতাদের সরে যেতে নোটিশ দেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার নুসরাত জাবীন কালবেলাকে বলেন, আদালতের নির্দেশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে চেম্বারসহ দুটি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দক্ষিণ সিরিয়ার গ্রামে ইসরায়েলি অভিযানে নিহত ১৩

ভাসমান সেতু নির্মাণ করে হাজারো মানুষের ভোগান্তি দূর করল যুবদল

খালেদা জিয়াকে নিয়ে যে প্রত্যাশার কথা জানালেন তামিম

বিপিএলে ফিক্সিংয়ে বড় শাস্তি পাচ্ছেন ৮ ক্রিকেটার

মেয়েদের ইমপ্রেস করতে গিয়ে ছেলেরা যে ভুলগুলো করে

ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তপশিল ঘোষণা : সিইসি

তৃতীয়বার বড়পর্দায় শুভ–মিম জুটি

বিদেশে পড়ার স্বপ্নপূরণে যা করতে হবে এখনই

ইজতেমায় বাঁধভাঙা স্রোত

হঠাৎ ফটিকছড়িতে সাবেক অধিনায়ক আশরাফুল

১০

কক্সবাজারে অধিনায়কসহ ৩ শতাধিক র‍্যাব সদস্যকে একযোগে বদলি

১১

সকালের একটি মাত্র ছোট অভ্যাসেই কমবে মানসিক চাপ

১২

দেশে কত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে আজ

১৩

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ক্রিকেটারের তিন বছর জেল

১৪

ইনজুরি নিয়ে খেলে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স নেইমারের

১৫

ভূমিকম্পে ঢাকার কোন এলাকাগুলো তুলনামূলক নিরাপদ?

১৬

হৃৎস্পন্দন ঠিক রাখতে প্রতিদিনের মেনুতে রাখুন এই ৬ খাবার

১৭

এখন হোয়াটসঅ্যাপ দিয়েই টাকা পাঠান

১৮

শ্রীলঙ্কায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য হাইকমিশনের সতর্কবার্তা

১৯

আর্জেন্টিনার কাছে পাত্তাই পেল না ব্রাজিল

২০
X