শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ময়মনসিংহ ব্যুরে
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৫, ০৫:৪৫ পিএম
আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৫, ০৫:৫২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

‘আমার তুহিনরে আইনা দাও, ওষুধ আইনা দিবে’

সাংবাদিক তুহিনের বাড়িতে বৃদ্ধা মা-বাবার আহাজারি। ছবি : কালবেলা
সাংবাদিক তুহিনের বাড়িতে বৃদ্ধা মা-বাবার আহাজারি। ছবি : কালবেলা

সাংবাদিক মো. আসাদুজ্জামান তুহিনের (৩৮) বাড়িতে শোকের মাতম থামছেই না। গাজীপুরের চান্দানা চৌরাস্তায় কুপিয়ে ও জবাই করে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে হত্যার ঘটনায় বাকরুদ্ধ পুরো এলাকাবাসী।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া পূর্ব ভাটিপাড়া গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় পুত্রশোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা-বাবা। কান্নায় আহাজারি যেন থামছে না পরিবার-স্বজনদের।

হত্যার ঘটনায় পাগল প্রায় বৃদ্ধ বাবা মো. হাসাল জামিল। ক্ষণে ক্ষণেই ছেলের মৃত্যুর খবরে মূর্ছা যাচ্ছেন। আহাজারি করতে করতে তিনি বলেন, ‘কী অপরাধ করেছিল আমার ছেলে? কী অন‍্যায় করেছিল সে? কেন এমন হলো। আমি কারও ক্ষতি চাই না। তোমরা আমার ছেলে তুহিনকে আইনা দাও, ওষুধ আইনা দিবে। গত পরশু আমার ছেলে আমার জন‍্য ওষুধ কিনতে এক হাজার টাকা পাঠিয়েছে। এখন কে আমার জন‍্য ওষুধ পাঠাবে।’

ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে ভাটিপাড়া বাবার বাড়িতে ছুটে এসেছেন বড় বোন রত্না বেগমসহ আরও অন‍্য স্বজনরা। এ সময় বৃদ্ধা মা সাহাবিয়া খাতুন বকুলকে জড়িয়ে ধরে আহাজারি করতে করতে বলেন, আমার ভাইকে আমার কোলে করে বড় করেছি। কেন আমার ভাইকে মানুষের হাতে প্রাণ দিতে হলো। সে তো কারো ক্ষতি করেনি। আমার ভাইকে যারা মারছে আমি তাদের ফাঁসি চাই।

তুহিনের মা সাহাবিয়া খাতুন বকুল বলেন, তুহিন মোবাইলে কল করে আমার দুই নাতির সঙ্গে কথা বলিয়ে দিয়েছে। এরপর আর কোনো কথা হয়নি। আমার বাবারে কারা মারলো। কী দোষ তার? তোমরা আমার বাবারে আইনা দাও। আমি তোমাদের কাছে কিছু চাই না। আমার বাবারে এক নজর দেখতে চাই। তার বাবার জন‍্য ওষুধ কেনার টাকা পাঠিয়েছে। সে আমাকে বলেছিল চোখের অপারেশন করাবে আমার চোখ ভালো হইয়া যাইবো। এখন আমার চোখকে ভালা কইরা দিব।

ভাগনে আবু রায়হান বলেন, মামা ব‍্যবসার পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে সাংবাদিকতা করতো। তিনি ভালো মানুষ ছিলেন। যারা তুহিন মামাকে মেরেছে। তারা মানুষ না, অমানুষ। এমন করে কেউ কোনো মানুষকে মারতে পারে না। আমরা তার খুনিদের ফাঁসি চাই।

পরিবার সূত্রে জানায়, তুহিনের বড় ভাই জসিম উদ্দিন গাজীপুর চৌরাস্তায় ব‍্যবসা করতো। লেখাপড়া শেষ সেখানেই সে বড় ভাইয়ের সঙ্গে বসবাস শুরু করতো তুহিন। তবে ২০০৯ বা ১০ সালের দিকে হঠাৎ বড় ভাই জসিম ক‍্যন্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। বতর্মানে তুহিন ও তার অপর ভাই সেলিম গাজীপুরে বসবাস করেন।

এর মধ‍্যে সেলিম পরিবহন শ্রমিকের কাজ করেন। দ্বিতীয় ভাই জাহাঙ্গীর আলম কক্সবাজার টেকনাফে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন এবং অন‍্য ভাই শাজাহান মিয়া বতর্মানে সিলেটে বসবাস করেন। তাদের দুই বোনের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় বতর্মানে গ্রামের বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা ও মা বসবাস করেন। তারা বার্ধক‍্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত। ছেলেরাই তাদের দেখভাল করে আসছিলেন।

তুহিনের মরদেহ গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় রয়েছে। সেখানে আজ বাদ জোহর তার প্রথম জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি নিয়ে আসা হবে। আজ বাদ আসর উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘জামায়াত, এনসিপি ও রুমিন আপার বক্তব্যে বেশ মিল’

রাজধানীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে সিটি করপোরেশন কর্মচারী আহত

কেন হাদি হত্যার বিচার চান, ব্যাখ্যা দিলেন ডাকসু নেত্রী জুমা

চোরের মাথা ন্যাড়া করে আঁকা হলো আর্জেন্টিনার পতাকা

হানিফ সংকেতের ‘চৈতন্যে’ জুলাই নাই: সারোয়ার তুষার

ইউরোপ জয়ের অনন্য নজির বাংলাদেশের

তপুর জোড়া গোলে সান মারিনোকে হারাল বাংলাদেশ

মারধরের প্রতিবাদ করায় বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ

সাতক্ষীরায় সীমানা পিলারসহ আটক ৪

শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে ফের আগুন

১০

উপজেলা স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে সরকার

১১

বিএনপি আবারও আওয়ামী লীগের ফাঁদে পড়েছে : নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী

১২

পুলিশের উপস্থিতিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের মিছিল

১৩

রাত ১টার মধ্যে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে

১৪

আল্লাহর রহমতে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছি: নৌ প্রতিমন্ত্রী

১৫

কৌশলগত অংশীদারত্ব-বাণিজ্য সম্প্রসারণে সম্মত বাংলাদেশ-তুরস্ক

১৬

দুধে মজাদার স্বাদ: ঘরোয়া ও ঐতিহ্যবাহী কিছু জনপ্রিয় খাবার

১৭

বিশ্বকাপের আগে বর্ষসেরার পুরস্কার জিতলেন ইয়ামাল

১৮

নির্বাচনের পরও ভারত দ্বিচারী ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে: সাইফুল হক

১৯

জেলেনস্কির বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন পুতিন

২০
X